সিলেট বইমেলার প্রথম আয়োজক সম্মাননা পাচ্ছেন মোমেন-মিজান

Desk Desk

News

প্রকাশিত: ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ, মে ১৯, ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রায় ১০ বছর আগে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারকেন্দ্রিক বইমেলার প্রথম আয়োজন করেন মোমেন ও মিজান। মোমেন ছিলেন সংগঠক, আর মিজান পৃষ্ঠপোষক। শুরুর সেই ধারাকে অভিনন্দিত করে ‘প্রকাশক পরিষদ’ সিলেট দুজনকে বইমেলার ‘আয়োজক সম্মাননা’ দিচ্ছে।

সোমবার (১৮ মে) রাতে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার মুক্তমঞ্চে আট দিনব্যাপী বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে তাদেরকে এই সম্মাননা দেওয়া বলে জানিয়েছেন প্রকাশক পরিষদ সিলেটের সভাপতি নাজমুল হক নাজু ও সাধারণ সম্পাদক সুফি সুফিয়ান। তারা জানান, ভবিষ্যতে বইমেলার আয়োজনের ধারাবাহিকতা রক্ষা ও বইমেলা ঘিরে সাংস্কৃতিক আয়োজনকে সর্বজনীন রূপে প্রতিষ্ঠিত করতে তারা শুরুর সময়কে স্মরণ করে এই সম্মাননা প্রবর্তন করেছেন।

মোমেন এম রোমান তিনি জার্মানপ্রবাসী এবং মিজানুর রহমান সিলেটের একজন লাইব্রেরি ব্যবসায়ী।

সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারকেন্দ্রিক বইমেলার প্রথম আয়োজন নিয়ে (১২ মে) মঙ্গলবার খবরের কাগজে ‘আবারও বইমেলার ধারায় ফিরল সিলেট’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এ প্রতিবেদনে প্রথম আয়োজক হিসেবে মোমেন-মিজানের তথ্য প্রকাশ হলে প্রকাশক পরিষদ দুইজনকে সম্মাননা জানানোর উদ্যোগ নেয়।

২০১৪ সালে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার পুনর্নির্মিত হয়। তারপরের বছর ছোট পরিসরে একটি বইমেলা করার পর ২০১৬ সাল থেকে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারকেন্দ্রিক বইমেলার ধারাবাহিকতা শুরু হয়।

জার্মানপ্রবাসী মোমেন জানান, তার পক্ষ থেকে পরিবারের সদস্যরা সম্মাননা গ্রহণ করবেন। আর মিজানুর রহমান বলেন, তিনি সরাসরি সম্মাননা গ্রহণ করবেন। দুইজন প্রকাশক পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, বইমেলার মতো একটি সৃজনশীল আয়োজনের শুরুতে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি মনে রাখায় তারা গর্ববোধ করছেন।

নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে বইমেলার ধারায় ফিরেছে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গন। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময়জুড়ে ছিল বাধা, পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সরকার এলেও সেই প্রতিবন্ধকতা অব্যাহত থাকে। ‘মব সৃষ্টি করা হবে’ এমন হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সব বাধা কাটিয়ে গত ১০ মে বইমেলার আয়োজন হয়। ‘মবের ভয়’ তাড়িয়ে শেষ হচ্ছে আট দিনের বইমেলা।

সিলেটে প্রকাশনা জগৎ পুরোনো হলেও প্রকাশকদের সাংগঠনিক যাত্রা নতুন। ২০২৩ সালের ১৫ জুন প্রতিষ্ঠিত হয় প্রকাশক পরিষদ সিলেট। এবারের বইমেলায় অংশ নেওয়া সদস্যভুক্ত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে দোআঁশ, মাছরাঙা, নাগরী, পাপড়ি, গ্রন্থকুটির, ঘাস, দ্যু, গাঙুর, চৈতন্য, রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশন, চিলেকোঠা, কালান্তর, স্বরবর্ণ, গ্রন্থিক, নোভা, স্বপ্ন ৭১, পাণ্ডুলিপি ও বুনন।

আগামীতে আরও বড় পরিসরে বইমেলার আয়োজন করা হবে জানিয়ে সংগঠনটির সভাপতি নাজমুল হক নাজু খবরের কাগজকে বলেন, কেবল ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে নয়, বইবিমূখ অবস্থা থেকে নতুন প্রজন্মকে ফেরাতে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বছরের যে কোনো সময় বইমেলা করতে প্রস্তুত প্রকাশক পরিষদ।

সূত্র: খবরের কাগজ