কানাইঘাট সীমান্তে ভারতফেরত নারীকে ১০ দিন আটকে গণধর্ষণের অভিযোগে এক যুবক গ্রেফতার শের তারিকুল শের তারিকুল ইসলাম প্রকাশিত: ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ Oplus_131072 নিজস্ব প্রতিনিধি: সিলেটের কানাইঘাটে ভারত থেকে দেশে ফেরার পর ২৮ বছর বয়সী এক নারীকে প্রায় ১০ দিন আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ছয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার ২ নম্বর আসামি নাঈম উদ্দিন (২২) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে কানাইঘাট থানা পুলিশ। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার দুর্গম সীমান্তবর্তী দনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নাঈম উদ্দিন লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের দনাপাত্তিছড়া গ্রামের আব্দুর রহমান ডালু মিয়ার ছেলে। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর জেলার সদর উপজেলার ওই নারী প্রায় নয় মাস আগে নিজ বাড়ি থেকে সাতক্ষীরা জেলার সীমান্তবর্তী একটি এলাকা হয়ে ভারতে যান। পরে তিনি হায়দ্রাবাদে অবস্থান করে কাপড়ের ব্যবসা করছিলেন। গত ২০ আগস্ট দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে তার মামা জাহাঙ্গীরের সহযোগিতায় হায়দ্রাবাদ থেকে ভারতের সীমান্তবর্তী নন্দনপুর এলাকায় আসেন তিনি। সেখানে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) জাহাঙ্গীরকে আটক করে নিয়ে যায়। এ সময় ওই নারী কান্নাকাটি করলে বিএসএফ তাকে কানাইঘাটের দনা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশে প্রবেশের পর ওইদিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে দনা পাত্তিছড়া গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে শানুর আহমদ (৩০), আব্দুর রহমান ডালুর ছেলে নাঈম উদ্দিন (২২), শাহনুর আলীর ছেলে কাওছার আহমদ (৩০), দনা রাঙ্গিছড়া গ্রামের মঈন উদ্দিনের ছেলে হুসাইন আহমদ (২৪), কুতুব আলীর ছেলে রিয়াজ উদ্দিন (৩০) এবং দনা রাতাছড়া গ্রামের ছলু মিয়ার ছেলে ইকবাল আহমদের (২৮) সঙ্গে ওই নারীর দেখা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা তাকে তার নিজ বাড়ি শেরপুরে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে কৌশলে শানুর আহমদের একটি নির্জন বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রায় ১০ দিন আটকে রেখে অভিযুক্তরা পালাক্রমে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজিম মেম্বারের সহযোগিতায় ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর বুধবার তিনি কানাইঘাট থানায় উপস্থিত হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর ভুক্তভোগীকে পুলিশ হেফাজতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে মামলা দায়েরের পরপরই কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় পুলিশের একটি দল দুর্গম পাহাড়ি দনা সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে মামলার ২ নম্বর আসামি নাঈম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার নাঈম উদ্দিনকে বুধবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। Download News PhotoCard SHARES অপরাধ বিষয়: