স্বাস্থ্য বিভাগের কেনো এমন হচ্ছে?এটা কি শুধুই সমন্বয়হীনতা নাকী আরো কোনো কারন থাকতে পারে!

Desk Desk

News

প্রকাশিত: ২:০০ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০২০

মো: মইনুল হাসান টিটু, সাংবাদিক, বৈশাখী টেলিভিশন, সিলেট :-করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্য বিভাগে কেনো এমন হচ্ছে? এটা কি শুধুই সমন্বয়হীনতা নাকি আরো কোনো কারন থাকতে পারে!
*এর উত্তর পাওয়া যাবে এই লেখাটি থেকে>

#আমরা যতই বলিনা কেনো, আমরা মধ্য আয়ের দেশে অবতীর্ণ হয়েছি, আসলে কি আমরা মধ্য আয়ের দেশে?

@শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গবেষণা, অবকাঠামো ও খাদ্য নিরাপত্তা, এই বিষয়গুলি যখন একটি দেশের মজবুত জায়গায় না যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত যতই আমরা মধ্যম আয়ের দেশ বা উন্নত দেশের দিকে যাচ্ছি বলে বলিনা কেনো আসলে আমরা মরীচিকার মধ্যেই অবস্থান করছি।

*দেশের অবকাঠামো ও খাদ্য নিরাপত্তা ছাড়া বাকী শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে দেশে যে বরাদ্দ দেয়া হয় তা বিশ্ব তো বটেই দক্ষিণ এশিয়ায় নিম্নমুখী যার কারনে আমাদের দেশে অর্গানগুলোতে ঠিকে থাকার ভিত্তি তৈরী হচ্ছেনা। যার কারনে সহজে ভেঙ্গে পরে আমাদের ভিত্তি। সেই সাথে সমন্বয়হীনতা ও দূর্ণীতি তো আছেই।

#স্বাস্থ্য খাত>

#বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ মোট জাতীয় উৎপাদনের (জিডিপি) এক শতাংশেরও কম ব্যয় করছে স্বাস্থ্য খাতে। যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলো আরো বেশি ব্যয় করছে। এতে দেখা যায় বাংলাদেশ মাথাপিছু ৩২ ডলার ব্যয় করেছে স্বাস্থ্য খাতে। যেখানে ভারত ৫৯ ডলার, নেপাল ৪৫ ডলার, পাকিস্তান ৩৮ ডলার এবং শ্রীলঙ্কা ব্যয় করেছে ১৫১ ডলার। শুধু দক্ষিণ এশিয়াই নয়, উন্নয়নশীল বিশ্বের চেয়ে বাংলাদেশ সবচেয়ে কম ব্যয় করছে স্বাস্থ্য খাতে। গড়ে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে ১৩০ ডলার ব্যয় হয় স্বাস্থ্য খাতে।

টাকার অংকে হিসেবটা অনেক বড় মনে হলেও জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্যা প্যাসিফিকের এক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে শিক্ষাখাতে ব্যয় মোট জিডিপির ২ শতাংশ এবং স্বাস্থ্যখাতে ১ শতাংশেরও কম।

মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির অনুপাতে এই দুটি অতি গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশের ব্যয় এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।

*এখন আপনারাই বলেন এতো কম বাজেটে কীভাবে বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা আসা করতে পারেন?

#শিক্ষা খাত>

*২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেটও শিক্ষা খাতের বরাদ্দের হার বাড়ানো হয়নি। ফলে গুণগত শিক্ষার ক্ষেত্রে পিছিয়ে বাংলাদেশ। ইউনেসকোর চাওয়া হলো, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ হবে জাতীয় বাজেটের কমপক্ষে ২০ শতাংশ এবং জিডিপির ৬ শতাংশ। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো সেই লক্ষ্যমাত্রা থেকে দূরে অবস্থা করছে।

২০১৯-২০ অর্থবছরের যে বাজেট ঘোষণা করেছেন, তাতে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দিয়েছেন ৬১ হাজার ১১৮ কোটি টাকা। যা জিডিপির মাত্র ২.১ শতাংশ।

শিক্ষা খাতে রাষ্ট্রীয়ভাবে কম বরাদ্দ দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে বিশ্বে অন্যতম বাংলাদেশ। মোট জিডিপি’র অনুপাতে এ খাতে বাংলাদেশের ব্যয় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ এবং আফগানিস্তানও জনগুরুত্বপূর্ণ খাতটিতে বেশি অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়।

(সি/স-২৩ এপ্রিল-তা/ই)