জৈন্তাপুরে দুই টিসিবি ডিলারের প্রতারনা

প্রকাশিত: ৪:৫২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩, ২০২১

 

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি:-সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার মেসার্স রাম ও মেসার্স কৃষ্ণ
এন্টারপ্রাইজ নামে দুটি টিসিবি ডিলারের প্রতিষ্ঠানের অস্থিত্ব নেই।
টিসিবি আঞ্চলিক কেন্দ্র মৌলভীবাজারের শেরপুর হতে দুটি প্রতিষ্টান পন্য
উত্তোলন করে জৈন্তাপুরে বিতরন না করার অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে, টিসিবি ডিলারের নির্ধারিত ঠিকানা জৈন্তাপুর বাজারের ফতেহখাঁ
রোড এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে এমনকি পুরো জৈন্তাপুর বাজার খুঁজে
প্রতিষ্ঠান দুটির হাদিস মিলেনি। জৈন্তাপুর ষ্টেশন বাজার ও জৈন্তাপুর
পূর্ববাজার ব্যবসায়ি সমিতি দুটি প্রতিষ্টানের কোন তথ্য দিতে পারেনি।
সমিতি দুটির দায়িত্বশীলরা জানান মোসার্স রাম ও মোসার্স কৃষ্ণ
এন্টারপ্রাইজ নামের দুটি প্রতিষ্টান উপজেলার কোন বাজারে নেই। এগুলো
মৌসুমি ও সরকারি পণ্য জালিয়াত চক্রের সৃষ্ট ভূয়া প্রতিষ্টান।

অপরদিকে বাংলাদেশ সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা জৈন্তাপুর বাজারের
টিসিবি’র লাইসেন্সধারী মেসার্স রাম ও মেসার্স কৃষ্ণ এন্টারপ্রাইজ
প্রতিষ্ঠান দুটির অস্থিত্ব উপজেলার কোথাও খুঁজে পায়নি। টিসিবির লাইসেন্স
যাচাই করে দেখা যায়, জালিয়ার চক্রের সদস্য সিলেট জেলার দাড়িয়া পাড়ার
বাসিন্দা গিরিন্দ্র পুরকায়স্থ ছেলে হরেন্দ্র পুরকায়স্থ ১লা অক্টোবর ২০২০
সনে নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক ফতেহখাঁ রোডে তার ব্যবসা প্রতিষ্টান
রয়েছে মর্মে মেসার্স রাম এন্টারপ্রাইজ (২৪৭/২০২০-২০২১) এবং দাড়িয়া পাড়ার
অপর বাসিন্ধা রঞ্জন দাসের ছেলে ঝলক দাস মেসার্স কৃষ্ণ এন্টারপ্রাইজ
(২৪৫/২০২০-২০২১)। দুটি ট্রেড লাইসেন্স গ্রহন করে। মুলত জৈন্তাপুরে এই
নামে কোন দোকান নেই এবং ছিল না।

পরবর্তীতে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মচারীদের
যোগসাজেসে নিজপাট ইউপি’র ফতেহখাঁ রোড-এ কাগজপত্রে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান
দেখিয়ে টিসিবি’র ডিলারশীপের আবেদন করে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র
জানায় টিসিবির’র লাইসেন্স প্রাপ্তিতে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসের
তিনজন কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ইতোমধ্যে জন্মনিবন্ধন সনদ প্রাপ্তিতে
১জনের টাকা গ্রহনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। চক্রটি
দীর্ঘদিন হতে নিরবে অপকর্ম করে যাচ্ছে। টিসিবির লাইসেন্স বরাদ্ধে তাদের
যোগসাজেস প্রতিষ্ঠান দুটি টিসিবি’র লাইসেন্স হয়। লাইসেন্স প্রাপ্ত হয়ে
কয়েক দফা টিসিবি আঞ্চলিক কেন্দ্র মৌলভীবাজারের শেরপুর হতে পন্য উত্তোলন
করে। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ২৬টি বিক্রয় পয়েন্টের মধ্যে তারা টিসিবি’র
পণ্য বিক্রয় করেনি।

টিসিবি’র লাইসেন্সধারী মেসার্স ফয়েজ ভেরাইটিজ সেন্টারের প্রোপাইটার
মোক্তার আহমদ বলেন, টিসিবি’র লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য আবেদনের পর উপজেলা
পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভার সরজমিনে প্রতিষ্ঠান ও গোদাম যাচাই-বাছাই করে।
আবেদনটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রেরণ করে। জেলা প্রশাসক হতে পুনরায়
যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন সহ বানিজ্য মন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করে। বানিজ্য
মন্ত্রনালয়ের পৃথক ভাবে প্রতিষ্ঠান যাচাই বাছাই করে প্রতিবেদন দিলে আমাকে
টিসিবি’র লাইসেন্স প্রদান করা হয়। টিসিবির লাইসেন্সটি পেতে ২বৎসর লেগেছে।
লাইসেন্স প্রাপ্তির পর আমি দীর্ঘ দিন যাবৎ উপজেলার ২৬টি পয়েন্টে উপজেলা
নির্বাহী কর্মকর্তার সিডিউল মোতাবেক টিসিবির পণ্য বিক্রয় করে আসছি।
টিসিবির আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে জানতে পারি জৈন্তাপুরে আরও দুটি
প্রতিষ্ঠার টিসিবির লাইসেন্স প্রাপ্ত হয়ে পণ্য উত্তোলন করেছে। তারা কোথায়
পণ্য বিক্রয় করেছি তা আমার জানা নেই।

নিজপাট ইউপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ ইয়াহিয়া বলেন, নিজপাট ইউপির
জৈন্তাপুর বাজারে বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ী রয়েছে। তারা আমার ইউপি’র ট্রেড
লাইসেন্স নিয়ে পাথর, কয়লা, বালু সহ বাজারে বিভিন্ন রকমের ব্যবসা বানিজ্য
করছে। টিসিবি’র ডিলার প্রাপ্তির জন্য লাইসেন্স নিয়েছে তা আমার জানানেই।
তিনি আরও উপজেলা পরিষদের প্রতিটি মিটিংয়ে উপস্থিত থাকি। আমার ইউপিতে দুটি
টিসিবি’র লাইন্সেন প্রদান করা হবে চেয়ারম্যান হিসাবে অবশ্যই আমার জানান
কথা। উপজেলা পরিষদের মিটিংয়ে টিসিবি’র লাইসেন্স প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে
মর্মে আমার জানা নেই। বর্তমানে প্রতিষ্ঠার দুটির বিপরীতে বরাদ্ধকৃত
লাইসেন্স মেয়ার্দ উর্ত্তীণ। নতুন করে লাইসেন্স নবায়ন করতে না পরে সেজন্য
ইউপি সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জৈন্তাপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম সোহেল ও সাধারণ
সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ফতেহখা রোডটি আমার সমিতির আওতাভূক্ত। সমিতির
আওতাভূক্ত এলাকায় মেসার্স রাম ও মেসার্স কৃষ্ণ এন্টারপ্রাইজ নামে কোন
প্রতিষ্ঠান নেই এবং অতিতেও ছিল না। এমনকি ফতেখা রোডে স্বাধীনতার পর হতে
বর্তমান সময় পর্যন্ত কোন মেদি দোকান কিংবা ডিলারশীপ ব্যবসা নেই। তারা আরও
বলেন, আমাদের জানামতে জৈন্তাপুর উপজেলায় “রাম ও কৃষ্ণ এন্টারপ্রাইজ” নামে
প্রতিষ্ঠান গুলোর কোন অস্থিত নেই এগুলো জালিয়াত চক্রের সৃষ্ট ভূয়া
প্রতিষ্ঠান। অভিলম্বে প্রতিষ্ঠান দুটির নামে ইস্যুকৃত টিসিবি’র লাইসেন্সে
বাতিল সহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান।
মেসার্স রাম এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটার হরেন্দ্র পুরকায়স্থ লাইসেন্সে
উল্লেখিত মোবাইল নাম্বারে ১৫দিন যাবত ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে কথা
না বলে ৫হতে ৭সেকেন্ড পর কেটে দেন। তাই বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

মেসার্স কৃষ্ণ এন্টারপ্রাইজ প্রোপাইটার ঝলক দাসের লাইসেন্সের উল্লেখিত
নাম্বারে ফোন করলে তিনি বলেন, কৃষ্ণ এন্টারপ্রাইজের নাম্বার নয়। আমি
কৃষ্ণ এন্টারপ্রাইজকে চিনি না। ফোন দিয়ে আমাকে অযতা বিরক্ত না করার
অনুরোধ করেন।

টিসিবি আঞ্চলিক কেন্দ্র মৌলভীবাজারের শেরপুর উপ-পরিচালক মো: ইসমাঈল
মজুমদার বলেন, বিধি মোতাবেক পত্র প্রাপ্তিরপর আমরা প্রতিষ্ঠান দুটিকে
টিসিবি’র পণ্য দিয়েছি।

জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত আজমেরী হক বলেন, বিষয়টি
ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(সি/স-০৩ আগস্ট-তা/ই)