পেপারমিল স্কুল কেন্দ্রের ভোটবাক্স সিলগালা

প্রকাশিত: ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০২১

 

আব্দুস ছালাম শাকিল ছাতক থেকে:-সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক পৌরসভা নির্বাচনে একটি ভোট কেন্দ্রে ভোট গণনায় কারচুপির মাধ্যমে ফলাফল পাল্টে দেয়ার অভিযোগ এনে সুনামগঞ্জের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছিলেন কাউন্সিলর প্রার্থী খায়ের উদ্দিন। তার দায়ের করা মামলায় আদালত ওই কেন্দ্রের ভোট প্রদত্ত ব্যালট সোমবার সিলগালা করে দিয়েছেন। মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ৬ অক্টোবর সুনামগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালত ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল পৌর নির্বাচনে ছাতক পেপারমিল স্কুল কেন্দ্রের ভোট পুনঃগননার জন্য সিলযুক্ত ব্যালট আদালতে জমা দেয়ার আদেশ দেন। এ আদেশের প্রেক্ষিতে সোমবার (১৮ অক্টোবর) জেলা নির্বাচন অফিস ওই কেন্দ্রের সিলযুক্ত ব্যালট আদালতে জমা দিলে আদালত ষ্টীলের একটি বক্সে সিলযুক্ত ব্যালট ভরে বক্সটি সিলগালা করে দেন। পৌর নির্বাচনের পর গত ২২ ফেব্রুয়ারি সোমবার আদালতে এ মামলা (নং-০১/২১) দায়ের করেছিলেন কাউন্সিলর প্রার্থী খায়ের উদ্দিন। পৌরসভা নির্বাচনের বিষয়ে সুনামগঞ্জের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা এটাই ছিলো প্রথম মামলা। এ মামলায় ৫ নং ওয়ার্ডে বিজয়ী ঘোষিত প্রতিপক্ষ প্রার্থী মোঃ ইরাজ মিয়া, প্রতিপক্ষ প্রার্থী মোঃ আছাব মিয়া, সিলেট পাল্প এন্ড পেপারমিল উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ও ছাতক সরকারি বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঈনুল হোসেন চৌধুরী সহ আরো দু’জনকে অভিযুক্ত করা হয়। ছাতক পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৬ জানুয়ারি। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ শেষে সিলেট পাল্প এন্ড পেপার মিল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার মঈনুল হোসেন চৌধুরী কেবলমাত্র মেয়র পদের ব্যালট গণনা করেছেন। কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ব্যালট পৃথক করে গণনা না করেই প্যাকেটে ঢুকিয়ে সিলগালা করে দেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও এজেন্টরা বার-বার ব্যালট গণনার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তিনি এ বিষয়ে কর্ণপাত না করে কেন্দ্র ত্যাগের উদ্যোগ নেন। প্রার্থী সহ অন্যান্যরা এসময় প্রিজাইডিং অফিসারের এহেন কার্যকলাপের প্রতিবাদ করেন। পরে পুলিশ সহ একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে ভোট গণনা হবে বলে বাদী খায়ের উদ্দিন ও অপর প্রার্থী মোঃ আছাব মিয়াকে গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যান। সেখানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভোট গণনা না করে তাদের আইনের আশ্রয় নিতে বলেন। প্রিজাইডিং অফিসার কেন্দ্রে ভোট গণনা করেন নি এবং বাদী সহ কোনো এজেন্টের স্বাক্ষরও নেননি। কাউন্সিলর পদের ভোট গণনা না করে মনগড়া ফলাফল বিবরণী তৈরি করে প্রতিপক্ষ কাউন্সিলর প্রার্থী মোঃ ইরাজ মিয়াকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। মোঃ ইরাজ মিয়া কর্তৃক বাধ্য ও বশীভূত হয়ে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মঈনুল হোসেন চৌধুরী এ কাজটি করেছেন। প্রিজাইডিং অফিসারের মনগড়া ফলাফল বিবরণীর ভিত্তিতে রিটার্নিং অফিসার ঠ-২ ফরমে ফলাফল বিবরণী প্রস্তুত করে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেছেন। কাউন্সিলর প্রার্থী খায়ের উদ্দিনের দায়েরী মামলায় সোমবার (১৮ অক্টোবর) সুনামগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালত ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে ছাতক পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের পেপারমিল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সিলযুক্ত ব্যালট জমা দিয়েছে জেলা নির্বাচন অফিস। ট্রাইব্যুনাল সিলযুক্ত ব্যালটগুলো একটি ষ্টীলের বক্সে রেখে সিলগালা করে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল আগামী ২৫ অক্টোবর ধার্য তারিখে আদেশ প্রদান করবেন বলে জানা গেছে।

(সি/স-১৯ অক্টোবর-তা/ই)