কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসির নির্দেশে রাতের আধারে চলছে পাথরবাহী ট্রাক Desk Desk News প্রকাশিত: ১১:৪১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০২০ তারিকুল ইসলাম:- করোনা আতঙ্কে সমগ্র দেশ যখন ভিতসন্ত্রস্থ। করোনাপ্রতিরোধে সিলেট জেলাকে যখন লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। সব ধরনের খাদ্যপণ্য ও ঔষধ পরিবহন ছাড়া সব ধরনের পরিবহন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তখন কোম্পানীগঞ্জে রমরমা পাথর ব্যাবসা বানিজ্য চলছে । দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসছে খাদ্য পণ্যবাহী ট্রাক,ফিরে যাচ্ছে পাথর ও বালু নিয়ে।ঢাকা,নারায়নগঞ্জ,ময়মনসিংহ, কুমিল্লা থেকে মালামাল বাহী ট্রাক আসছে ও যাচ্ছে।ঢাকা ও নারায়নগঞ্জ হচ্ছে করোনা আক্রান্ত রোগীদের আখড়া। কিন্তু কোম্পানীগঞ্জের মালিকানাধীন ট্রাকগুলো পাথর নিয়ে ঐ সব আক্রান্ত এলাকায় অহরহ যাচ্ছে আসছে।তাই দিন দিন মৃত্যুঝুকির বাড়ছেই কোম্পানীগঞ্জ সহ সিলেট বিভাগে। দেশের এই ক্রান্তিলগ্মে কোম্পানীগঞ্জের স্থানীয় ট্রাক পরিবহন মালিকরা যখন ব্যাবসা কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে শুরু করেছে তখন সিলেট বিভাগের বাইরের অলস ট্রাক মালিকদেরকে সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লুটে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। সিলেট বিভাগের বাইরে থেকে পাথর নিতে আসা ট্রাকগুলো থেকে ৫০০/১০০০ টাকা চাঁদা হাতিয়ে নিচ্ছে কতিপয় চাঁদাবাজ চক্র।আর এই চক্রের মূল হোতা উপজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ আহমেদ। তার আশ্রয় প্রশ্রয় দাতা কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সজল কুমার কানু। ২০ এপ্রিল সোমবার সন্ধ্যা ০৬ টা ৩০ মিনিটের সময় সরেজিনে গিয়ে দেখা যায় সিলেট-ভোলাগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মহাসড়কের ইসলামপুর নামক স্থানে ১০/১২ টি পাথর ও বালুভর্তি ডিস্ট্রিক্ট ট্রাক স্থানীয় করোনা প্রতিরোধ জনতা আটক করে। আটকের খবর শুনে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম সংবাদ সংগ্রহের জন্যে ছুটে যায়।সাংবাদিক তারিকুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন আচার্যকে বিষয়টি অবগত করলে তিনি ওসি সজল কুমার কানুকে পুলিশ ফোর্স পাঠানোর জন্যে নির্দেশ দেয়। ওসি সজল কুমারের নির্দেশে ট্রাফিক সার্জেন্ট সঞ্জয়ের নের্তৃত্বে কোম্পানীগঞ্জ থানার এস আই নবী হোসেন ও সঙ্গীয় ফোর্স উপস্থিত হয়। এ সময় আটক ১০/১২ টি পাথর ও বালুবাহী ট্রাক ড্রাইভারকে তাদের গন্তব্যস্থলে না যাওয়ার জন্যে বলে এবং করোনা ভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকার জন্যে উপদেশ প্রদান করেন । সেই সাথে আটক ট্রাকগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার পরে সার্জেন্ট ও পুলিশ সদস্যরা থানার উদ্দেশ্যে চলে যায়। এর এক ঘন্টা পরে স্থানীয় জনতা আবারো ২০/২২ টি পাথর ও বালুবাহী ট্রাক আটক করে। ট্রাক আটকের খবর শুনে ট্রাক ড্রাইভার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ আহমেদ ছুটে আসে এবং স্থানীয় জনতা হুমকি প্রদর্শন সহ উপস্থিত সাংবাদিককে শারিরীক ভাবে লাঞ্চিত করে ও মামলার হুমকি দেয়।সেই সাথে ট্রাক আটক করার দায়ে ইসলামপুর গ্রামের যুবকদের উপর চরাও হয় এবং বলে রাতের বেলা ট্রাক চললে সমস্যা নেই।আমার ড্রাইভার শ্রমিকরা ট্রাক চালাবেই। অবস্থা বেগতিক দেখে সংবাদিক তারিকুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি আবারো অবগত করলে তিনি ওসি সজল কুমার কানুকে পুলিশ পাঠানোর নির্দেশ দেন। ওসি সজলের নির্দেশে ওসি (তদন্ত) রজিউল্লাহ খাঁন ও এস আই মোস্তাক আহমেদ ছুটে আসেন। উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা আটক পাথরবাহী ট্রাক গুলোকে থানায় নিতে চাইলে মাহফুজ আহমেদ ড্রাইভারদের পক্ষে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ওসির (সজল) সাথে কথা বলবেন বলে ট্রাকগুলোকে ছেড়ে দিতে বলেন।কিন্তু ওসি (তদন্ত) রজিউল্লাহ খাঁন ট্রাক ছাড়তে নারাজ।এরই মধ্যে মাহফুজ মিয়া ওসি সজল কুমারকে মোবাইলে লাউড স্পিকারে ফোন দিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিতে বলেন কিন্তু ওসি উত্তর দেন এখানে পুলিশ ও সাংবাদিক উপস্থিত হয়ে গেছে তাই ছাড়া যাবে না। পরবর্তিতে ওসি তদন্ত রজিউল্লাহ খাঁন আটক ড্রাইভারদের শাসিয়ে বলেন এই লকডাউন অমাণ্য করে রাস্তায় পাথরবাহী ট্রাক চালানো অপরাধ।প্রথম বারের মত ক্ষমা করে দিলাম দ্বিতীয়বার নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য উপজেলার বঙ্গবন্ধু মহাসড়ক দিয়ে সিলেটের বাহিরের উদ্দেশ্যে পাথরবাহী ট্রাক আটকের জন্যে পুলিশের দুটি টিম টহল রত অবস্তায় থাকলেও তাদের চাঁদাবানিজ্যের কথা উপজেলার সবার মুখে মুখে চাউর হয়ে আছে। চলাচলকারী এই সব পাথরবাহী ট্রাক থেকে মাহফুজ ও পুলিশ সদস্যরা ৫০০/১০০০ টাকার বিনিময়ে লাইন ক্লিয়ারেন্স নামে আদায় করে ছেড়ে দিচ্ছে।এই মহাসড়কে প্রতিদিন ২০০/২৫০ ট্রাক চলাচল করে। প্রতিদিন প্রায় ১০/২০ লক্ষ টাকার চাঁদা আদায় করছে। আর এই সব অপকর্ম খোদ ওসি সজল কুমার কানুর নির্দেশেই চলছে উপজেলার শুশীল সমাজের ব্যাক্তিদের মুখে মুখে। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সজল কুমার কানুর সম্মতিতেই রাত ব্যাপী পাথরবাহী ট্রাক দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলাচল করছে।প্রতিটি ট্রাক থেকে ৫০০/১০০০ টাকা চাদা আদায়ের বিনিময়ে ওসি সজল কুমার কানু এই ট্রাক চলাচলে সম্মতি দিয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। এ দিকে শ্রমিক নেতা মাহফুজ কর্তৃক সাংবাদিককে লাঞ্চিত ও মামলার হুমকি দেওয়ায় নিজের নিরাপত্তার জন্যে সাংবাদিক তারিকুল ইসলাম কোম্পানীগঞ্জ থানায় জিডি করতে গেলে ওসি সজল কুমার কানু তাকে ফিরিয়ে দেন। তিনি তাকে কোর্টে মামলা করার পরামর্শ দেন। রাস্থায় পাথরবাহী ট্রাক চলাচল ও পুলিশ কর্তৃক চাঁদা আদায়ের বিনিময়ে ট্রাক ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সজল কুমার কানুর অফিসিয়াল নাম্বারে বার বার ফোন দিলেও তিনি লাইন কেটে দেন। (সি/স-২০ এপ্রিল-তা/ই) SHARES অপরাধ বিষয়: