ধর্মপাশায় কৃষকের সাথে কৃষি ব্যাংক ম্যানেজারের অসদাচরণের অভিযোগ

Desk Desk

News

প্রকাশিত: ৭:০৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২০

 

মোবারক হোসাইন:-সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ধর্মপাশা শাখার ম্যানেজার বিমল কুমার দেবের বিরুদ্ধে স্থানীয় দুজন কৃষকের সঙ্গে তদন্তের নামে অশুভ আচরণ ও তাঁদের কাছ থেকে আগে থেকে লেখা সম্বলিত কয়েকটি কাগজে থেকে তদন্তের নামে কয়েকটি লেখা সম্বলিত কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। এতে অপরাগতা প্রকাশ করায় ওই ব্যাংক কর্মকর্তা এই আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই দুজন কৃষক গতকাল সোমবার বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের এমডির কাছে ডাকযোগে একটি লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন।

ভুক্তভোগী ওই দুজন কৃষক ও ধর্মপাশা কৃষি ব্যাংক শাখা সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ধর্মপাশা শাখায় উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের উত্তর বীর গ্রামের বাসিন্দা কৃষক শাহ রুবেলের নামে চলতি বছরের ১৯ফেব্রুয়ারি ওই শাখায় একটি কৃষক সঞ্চয়ী হিসাব খোলা হয়েছে। যার নম্বর ২৩০। একইদিনে অপর কৃষক একই গ্রামের বাসিন্দা আশারফুল ইসলামের নামেও ওই ব্যাংকে একটি কৃষক সঞ্চয়ী হিসাব খোলা হয়েছে। যার নম্বর ২৩৬। ওই দুজন কৃষকের ছবি,জাতীয় পরিচয়পত্র সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি জালিয়াতির মাধ্যমে সংগ্রহ করে ও ফরমে ভূয়া স্বাক্ষর দিয়ে এই দুটি হিসাব খোলা হয়। ওই দুটি সঞ্চয়ী হিসাবে লেনদেন করা হয়েছে। আর ভূয়া হিসাব খুলতে গিয়ে এই কাজে ব্যাংক ব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্ঠরা আর্থিক সুবিধাদি নিয়েছেন । ঘটনাটি জানতে পেরে ওই দুজন কৃষক বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এমডির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত রোববার এই ঘটনাটি তদন্ত করতে সকাল ১০টার দিকে ধর্মপাশা কৃষি ব্যাংকে আসেন কৃষি ব্যাংকের সুনামগঞ্জ অঞ্চলের জেলা নিরীক্ষা কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ দেবনাথ। তদন্তের উপস্থিত থাকার জন্য অভিযোগকারী দুজন কৃষককে সেখানে উপস্থিত থাকার জন্য নোটিশ দিয়ে জানানো হয়। খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন স্থানীয় তিনজন সাংবাদিক ও উপজেলা যুবলীগের এক নেতা। সুনামগঞ্জ জেলা নিরীক্ষা কর্মকর্তার সামনেই ব্যাংক ব্যবস্থাপক ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ওই দুজন কৃষককে সাদা কাগজে স্বাক্ষর দেওয়ার জন্য চাপাচাপি শুরু করেন। এতে ওই দুজন কৃষক অপারগতা প্রকাশ করায় ব্যাংক ব্যবস্থাপক ক্ষিপ্ত হন। এক পর্যায়ে ওই দুজন কৃষকের সঙ্গে অশুভ আচরণ শুরু করলে ওই দুজন কৃষক ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যান।

ভুক্তভোগী কৃষক শাহ রুবেল (৩৬) ও কৃষক আশরাফুল ইসলাম (৩৮) বলেন, আমাদের ছবি, আইডি কার্ড ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে এই ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি,ওই অ্যাকাউন্টে টাকাও লেনদেন করা হয়েছে। আমরা এ নিয়ে গত ১১ মে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের এমডির কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। অভিযোগ পেয়ে এটি তদন্ত করতে সুনামগঞ্জ থেকে এক কর্মকর্তা আসেন । তদন্ত কর্মকর্তা আমরা অভিযোগ কারী ও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযুক্ত কৃষি ব্যাংকের ম্যানেজার কে নিয়াই আমাদের তদন্তে বসেন তদন্ত কর্মকর্তা কিছু বলার আগেই ম্যানেজার আমাদের বিভিন্ন প্রশ্ন করেন এতে করে আমাদের কথা বলায় সমস্যা হয় তাই আমরা কিছু বলতে পারিনি তদন্ত কর্মকর্তার সামনে ম্যানেজার সাহেব সাদা কাগজে আমাদের স্বাক্ষর দিতে বলেন। বুঝে শুনে স্বাক্ষর দিতে হবে বললে ম্যানেজার আমাদের দুজনকে চাপ সৃষ্টি করেন। এক র্পযায়ে তিনি অশুভ আচরণ করতে শুরু করলে স্থানীয় তিনজন সাংবাদিক ও একজন যুবলীগ নেতার হস্তক্ষেপে আমরা সেখান থেকে রক্ষা পেয়েছি। আমাদের সঙ্গে অশুভ আচরণ,স্বাক্ষর জালিয়াতি করে অ্যাকাউন্ট খোলা,সাদাকাগুজে স্বাক্ষর দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টিসহ যাবতীয় বিষয়গুলো তদন্ত করতে ঘটনায় জড়িত ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ও অ্যাকাউন্ট খোলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

কৃষি ব্যাংকের ধর্মপাশার শাখা ব্যবস্থাপক বিমল কুমার দেব তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই দুজনের নামে যেদিন ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে সেদিন আমি উপস্থিত ছিলাম না। আমি কারও সঙ্গে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য চাপও সৃষ্টি করিনি এবং অশুভ আচরণও করিনি।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সুনামগঞ্জ অঞ্চলের জেলা নিরীক্ষা র্কমকর্তা রাম কৃষ্ণ দেবনাথ সাংবাদিকদের বলেন, ওইদিন আমার সামনে ব্যাংক ব্যবস্থাপক কারও সঙ্গে অশুভ আচরণ করেননি। এমনকি কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য চাপাচাপি সৃষ্টি করেননি। আমি ওইদিন কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সেখান থেকে নিয়ে আসছি। খুব শিগগিরিই সেগুলো বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হচ্ছে।

(সি/স-২৩ জুন-তা/ই)