হঠাৎ পাহাড়ি বন্যা,বিলীনের পথে চাঁনপুর গ্রামের একাংশ শের তারিকুল শের তারিকুল ইসলাম প্রকাশিত: ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২০ সম্পাদকীয়:-ধলাই নদীকে বলা হয় চাঁন পুর গ্রামের দুঃখ।ভাঙ্গণ দিয়েই বর্ষার আগমন ঘটে,আবার ভাঙ্গণ দিয়েই বর্ষার শেষ বিদায় হয়।এ গ্রামে ভাঙ্গণের যেন শেষ বলতে নেই।ভাঙ্গণেই যেন চাঁনপুরের ভাগ্যলিখন। উপজেলা পরিষদ থেকে শ কয়েক মিটার দুরে ধলাই পূর্ব পাড় ঘেঁষে স্থাপিত দীর্ঘ ৪০ বছরের পুরনো এই গ্রামটি এখন নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। পাথর শ্রমিক অধ্যুষিত ৬০০ শত পরিবার নিয়ে স্থাপিত এই গ্রামের সমস্যার যেনো অন্ত নেই।শিক্ষা প্রতিষ্টানেও অবহেলিত,আধুনিক সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত গ্রামটির ২ হাজার বাসিন্দাদের সবাই এখন ধলাই নদীর সাথে লড়াই করেই বাচতে হচ্ছে।প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আসেনি কোনো তড়িৎ ভাঙ্গণ প্রতিরোধ ব্যাবস্থা। জনপ্রতিনিধিরাও সুপরিকল্পিত কোনো সমাধানের পথে হাটতে পারছেনা। গত বর্ষায় চাঁনপুর-খায়েরগাও গ্রামের সংযোগ রাস্তাটি হঠাৎ পাহাড়ি বন্যায় ভেঙ্গে পড়লে বিলীন হয়ে যায় ৬ টি বসত বাড়ি।তখন বিলীন হওয়া হতদরিদ্র শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা পায়নি কোনো সরকারী ত্রাণ কিংবা আর্থিক সহযোগীতা। স্থানীয় কয়েকজন দাতা ও ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে গত বর্ষা শেষে রাস্তার সেই ভাঙ্গণ অংশটিতে সংস্কার হলেও চলমান বন্যায় আবারো পূর্বের অবস্থায় ফিরে গেছে। আব্দুর রহমান নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন,অপরিকল্পিত মেরামতের কারনে এই রাস্তাটি আবারো ভেঙ্গে যায়।রাস্তাটি নির্মাণের সময় যদি নদীর কিনার অংশে পাকা ব্লক ব্যবহার হতো তবে এই ভাঙ্গণ দেখতে হতো না।এই গ্রামটিকে নদী ভাঙ্গণের হাত থেকে বাচাতে হলে খুব শিগ্রই মজবুত গার্ডার স্থাপন জরুরি। শনিবার (২৪অক্টোবর) ভোর ৪ টা থেকে হঠাৎ পাহাড়ি বন্যা হানা দেয় চাঁনপুর- খায়েরগাঁও সংযোগ রাস্তায়।মূহুর্তেই বিলীন হয়ে যায় সেই সংযোগ রাস্তাটি।বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে দুই গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা।নদীঘেষা বসতি স্থাপন করা চাঁনপুর গ্রামের বাসিন্দারা প্রতিদিন ভাঙ্গণের শব্দে ঘুম থেকে জাগলেও সবাই যেন নিরুপায়।গ্রামের শতাধিক স্কুল পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের পার্শ্ববর্তী খায়েরগাও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যাওয়ার পথটিও যেন এবার বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপায় হলো। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ২নং পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের চানঁপুর গ্রামের বসতিগুলো তীব্র নদী ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। গত বছরের বন্যায় চানঁপুর গ্রামের উত্তর পাশের কয়েকটি বসতি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং কয়েকটি বসতি প্রায় অর্ধেক নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সর্বশেষ এই বন্যায় আরো ৮/৯টি বাড়ি হুমকির মুখে আছে। এছড়াও গ্রামের মূলভূখন্ডের স্থাপিত ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট সহ মসজিদ ভবন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। যে কোনো সময় মসজিদ ভবনসহ অর্ধশতাধিক বাড়ীঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত পাঁচ বছর থেকে চাঁনপুরের বাড়ীঘর ও সবুজ বনায়ন নদীতে বিলীন হয়ে আসলেও স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির পক্ষ থেকে নেই কোনো সুষ্ট সমাধান। ভাঙ্গণের শিকার বসত বাড়ি। ভাঙ্গণের শিকার বসত বাড়ি। ভাঙ্গণের শিকার চাঁনপুর-খায়েরগাঁও সংযোগ রাস্তা। SHARES ফিচার বিষয়: