বাস্তুহারা রক্ত জামালকে মামলায় ফাসালেন সাংবাদিক আবুল Desk Desk News প্রকাশিত: ৫:০২ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০২০ ষ্টাফ রিপোর্টার:- জামাল।পুরু নাম জামাল উদ্দিন। কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার কালাইরাগ গ্রামের অধিবাসী। স্ব শিক্ষিত। ঘরবাড়ি উল্লেখ করার মতো নেই।আজন্ম কুড়ে ঘরের বাসিন্দা। পেশা,কখনো দিনমজুরি, কখনো কোন ব্যবসায়ির হিসাবরক্ষক, কখনো শিশুদের কায়দা,আমসিপারা পড়ানো,।দু’বেলা দুমুঠো হালাল উপার্জিত মোটা চালের ভাত আর কিঞ্চিৎ ডালেই সন্তুষ্টি। বিলাসিতা, প্রপঞ্চনা,ধাপ্পাবাজি, এসবের বরাবরের বিরোধী। গোবেচারা, নিরীহ, নিস্তেজ, জীবনাচারে সম্পৃক্ত জামাল তার মহল্লায় এক সিঁধা প্রকৃতির চরিত্র বটে। অল্পশিক্ষিত জামাল মানবতার সেবায় নিজের সম্পৃক্ততার যে পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করে চলেছে তা অনেক শিক্ষিত, সম্ভ্রান্তের পক্ষেও নিতান্ত অসম্ভব। সমাজের মানুষগুলো যেখানে স্বার্থের সাথে গলাগলি করে চলেন সেখানে নিঃস্বার্থ মানব সেবায় ব্রত জামাল পরোপকারে খোঁজ অনাবিল আনন্দ। একটি ঘটনার কথা বলি—- দুষ্প্রাপ্য বি- নেগেটিভ রক্তের বড়ো বেশি প্রয়োজন। ডোনার পাওয়া যাচ্ছেনা।রেডক্রিসেন্ট, স্বপ্ন ব্লাড ফাইটার্স, সহ সম্ভাব্য অনেক জায়গায় নক করলাম।কোথাও নেই।ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া হলো। হঠাৎ একটা নাম্বার থেকে কল এলো। “মামা আমি জামাল” কালাইরাগ বাড়ি। ব্লাডের জন্য চিন্তা করবেননা।আপনি জিন্দাবাজারস্থ রেডক্রিসেন্টে চলে যান। ডোনার হয়তো এতোক্ষণে চলে গেছেন সেখানে। সত্যি সত্যি সেদিন জামালের বদান্যতায় আমার সেই মহা উপকার টুকু সাধিত হয়েছে। আরও অসংখ্যবার রক্তের ফেরিওয়ালা আমাদের জামালের সহায়তায় প্রাণ পেয়েছেন অনেকে।এখনো কোম্পানীগঞ্জের কারোর রক্ত সহায়তায় জামালই ভরসা। জামাল ছেলেটা ভিষণ ইমোশনাল। মুখের উপর সত্য কথা বলতে কখনো সে দ্বিধান্বিত নয়।বয়সের অপরিপক্কতার কারনে আবেগি মনের সংলগ্ন চেতনায় নিয়ন্ত্রন আনতে না পারার মাশুল সে মাঝে মধ্যে চুকিয়ে থাকে।তা বলতে লঘু অপরাধে গুরুদণ্ড!! সে রকমই এক অনাকাঙ্ক্ষিত, অযাচিত, অপাংক্তেয় জঠিলতার ঘেরাটোপে জামাল।তার অপরাধ!!!!!!একজন কর্মকর্তার সাথে অসদাচরণ!!! জামাল হয়তো ভুল করেছে।তার ভুলের জন্য শাস্তির অনেক মাধ্যম আছে।তার অভিভাবক,তার মহল্লা,তার মেম্বার, তার চেয়ারম্যান, তার স্বজন!!! কিন্তু আমরা কি দেখলাম?????গো বেচারা পরোপকারী ছেলেটাকে জঠিল আইনের কঠিন ধারার খড়গে আটকিয়ে তাকে জীবনের শিক্ষা(!)দেয়ার যাবতীয় যোগাড় যন্ত্র সম্পন্ন করা হয়েছে।যে ধারায় এ্যরেস্ট হলে জামিনের ভাবনা অলীক। মহামারি করোনা কালে পরিজনদের ভাত যোগানোর টেনশনে পেরেশান জামাল হুলিয়া মাথায় নিয়ে ঘুরছে!!! জামাল চুরি করেনি,ডাকাতি করেনি, ইয়াবা বেচেনি,বদমায়েশি করেনি,কারো মাথায় কাঁঠাল ভাঙ্গেনি,কারো পাঁকা ধানে মই দেয়নি।সে পল্লী বিদ্যুতের যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে কেবল একটা কমেন্ট করেছে। আর তাতেই কর্মকর্তা মহোদয় এমন রাগ রেগেছেন যে রাগের আগুনে দগ্ধ হচ্ছে জামাল,তার মা বাবা,পরিজন,এমনকি আমরা যারা তার শুভাকাঙ্ক্ষী। মাননীয় ডি জি এম সাহেব, ভবিষ্যত দাঁড়িয়ে থাকে সতত বর্তমানের উপর।বর্তমানের এই মহামারির কবল থেকে আমরা রক্ষা পাবো কি না জানিনা।করোনা আততায়ী হয়ে কখন কাকে সংহার করে কেউ জানেনা। এই ক্রান্তিলগ্নে কৃপা বিতরণে ছেলেটিকেকি করুনা করা যায়না??? মানবতায় আজন্ম লালিত ছেলেটি হয়তো ইমোশনালি একটি অন্যায় করে ফেলেছে তারজন্য এমন গুরুদণ্ড কি তার প্রাপ্য!! দয়া করে সদয় হোন।অসংলগ্ন, অতিউৎসাহী, মোসাহেব, প্রকৃতিরা আপনাকে মিসগাইডই করবে।দুঃসময়ে দুধের মাছি উড়ে যায়। নিজের সমস্যা নিজেকেই সামলাতে হয় স্যার। কাজেই গো-বেচারা জামাল উদ্দিন কে আপনার মহানুভবতার সেন্টিমেন্ট দিয়ে বিবেচনা করবেন। এ প্রত্যাশা কোম্পানীগঞ্জবাসির। লেখক:-সাব্বির আহমদ (কবি,সাংবাদিক) (সি/স-২৫ এপ্রিল-তা/ই) SHARES অপরাধ বিষয়: