কোম্পানীগঞ্জে রহস্যময়ী গুলির ঘটনায় ডাকাত সুহেল গ্রেফতার

প্রকাশিত: ২:৪৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৩

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে দুর্ধর্ষ ডাকাত সুহেল মিয়াকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

আটককৃত ব্যাক্তি বরমসিদ্বিপুর গ্রামের আসাদুল হকের ছেলে।

রবিবার (৫ জানুয়ারি) বিকালে এস.আই আজিজুর রহমান, এস.আই সুরঞ্জিত, এস.আই গোপেশ চন্দ্র, এস.আই মাসুদ ও এস.আই জনার্ধনসহ সঙ্গীয় ফোর্স তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সুহেল মিয়াকে আটক করেন।

জানা যায়, সুহেল মিয়া বেশ কিছুদিন থেকে অস্ত্র ব্যবসা, মাদক ও ডাকাতির সাথে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে ২০১০ সালে একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে। ২০১২, ২০১৬ ও ২০২২ সালে তার বিরুদ্ধে ৩ টি মাদক মামলা রয়েছে। আদালত তাকে ১০ বছরের সাজা দিয়েছিল। গত ৩ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৭টায় কোম্পানীগঞ্জের পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের ঢালারপাড় ও গাছঘর গ্রামের মধ্যেবর্তী হাওর এলাকায় সাদ্দাম হোসেন নামে এক মোটরসাইকেল চালককে গুলি করে পালিয়ে যায় ডাকাতরা। এই মামলায় জড়িত থাকার সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে গ্রেফতার করে কোর্টে পাঠানো হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি হিল্লোল রায় জানান, মোটরসাইকেল চালককে গুলি করে আহত করার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও অস্ত্র মামলা রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে চুরি, ডাকাতি, অস্ত্র ও মাদকসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সূত্রে জানা যায়, গত মাসের ৩ তারিখে অজ্ঞাত ব্যাক্তি কতৃক সাদ্দাম মিয়াকে গুলির ঘটনার পেছনে মাদক ছিনতাই সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সূত্রে আরও জানা যায়, কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে আটক সুহেল মিয়া ভারতীয় মাদক চোরাচালানের সময় একাধিক ব্যক্তি তখন সুহেল মিয়ার কাছে রক্ষিত মাদক ছিনতাই করতে পথরোধ করেন। সে সময় দুই পক্ষের দস্তাদস্তিতে মাদক রক্ষায় সুহেল মিয়ার হাতে থাকা অবৈধ পিস্তল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করেন। সে সময় সাদ্দাম মিয়া গুলিতে আহত হোন। গুলির ঘটনার ৮ দিন পর কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন আহত সাদ্দাম মিয়া ভাই শরিফুল ইসলাম। মামলার এজাহারে সাদ্দামকে একজন মোটরসাইকেল চালক দেখানো হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয় সাদ্দাম যাত্রী আনয়নের জন্যে সেখানে গিয়েছিল কিন্ত আহত সাদ্দামের স্ত্রী পুলিশকে জানিয়েছে যাত্রী পরিবহনে ব্যাবহৃত তার মোটরসাইকেলটি তখন নিজ বাড়িতে ছিল। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় নজির মিয়াকে স্বাক্ষী দেখানো হয়েছে। তবে মামলার স্বাক্ষীকে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় বরমসিদ্দিপুর সীমান্ত এলাকায় দেখেছে স্থানীয় অনেকে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক সরকার দলীয় কোম্পানীগঞ্জের এক নেতা জানান, নজির মিয়া ডাকাত সুহেল মিয়ার পিছু নিয়েছে তখন থেকেই যখন সে সীমান্ত এলাকায় ছিল। গুলির ঘটনার আহত সাদ্দামকে উদ্ধার করতে সেখানে উপস্থিত হোন সাদেক মিয়া নামের আরেক যুবক। গুলির ঘটনার ৮ দিন পর্যন্ত আত্মগোপনে ছিলেন এজাহারের দ্বিতীয় স্বাক্ষী নজির মিয়া। সে সময় রহস্যজনক কারনে এ ঘটনার বিষয়ে আদ্যপ্রান্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি আহত সাদ্দাম পক্ষ। সে সময় নজির মিয়ার ব্যবহৃত ব্যাক্তিগত মোবাইল ফোনটিও অজ্ঞাত কারনে বন্ধ ছিল। ঘটনার ৮দিন পরে থানায় মামলা হলেও তথ্য উদঘাটনে মরিয়া কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় সন্দেহের তালিকায় রয়েছে আহত সাদ্দাম, স্বাক্ষী নজির সহ একাধিক যুবক। সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় সন্দিগ্ধের তালিকায় থাকা নজির মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি অজ্ঞাত কারনে এখন পর্যন্ত বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুরঞ্জিত তালুকদার। সুরঞ্জিত তালুকদার আরও জানান, আহত সাদ্দামের বুকের জখমী স্থান থেকে এখনো গুলিটি বের করতে পারেনি সল্যচিকিৎসকরা। এ ঘটনায় ডাকাত সুহেলকে আটক করা হয়েছে। তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। সঠিক তথ্য উদঘাটনের জন্যে সুহেল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আদালতের কাছে রিমান্ড আবেদন করা হবে।