ইরানের উপর আবারও মার্কিন হামলা

প্রকাশিত: ৯:২৩ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২৬
Oplus_131072

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) জানিয়েছে, উপসাগরে একটি ট্যাংকারের ওপর ইরানি ড্রোন হামলার জবাবে তারা ইরানের ‘ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত কেন্দ্র এবং উপকূলীয় রাডার সাইটগুলোর’ ওপর একটি ‘শক্তিশালী’ হামলা চালিয়েছে।

তারা আরও বলেছে, ‘গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ (হরমুজ প্রণালি) দিয়ে যখন ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ছে, তখন ইরানের এমন বিপজ্জনক আচরণ নৌ চলাচলের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করেছে।’

ইরান এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং সেই সঙ্গে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইরানের আইআরজিসি বলেছে, ওয়াশিংটন ‘বরাবরের মতোই তার প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে’ এবং ইরানের নৌবাহিনী এই অঞ্চলের সেইসব স্থানে হামলা চালিয়েছে যেখানে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। সংস্থাটি আরও যোগ করেছে, ‘এই আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটলে আমাদের জবাব আরও ব্যাপক হবে।’

সেন্টকমের এই ঘোষণার পর ইরানের সিরিক বন্দরের কাছে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। ইরানের একটি সামরিক সূত্র অনুসারে, শুক্রবার স্থানীয় সময় আনুমানিক রাত ১১:১৫ মিনিটে দক্ষিণ ইরানের বন্দর নগরী সিরিকের ডক এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে সেখানে একটি বিস্ফোরণ ঘটে।

হামলার আগে শুক্রবার দিনের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একটি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এভার লাভলিতে হওয়া হামলা সমঝোতা স্মারকের ‘বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন’।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক্স-এ লেখেন, ‘ইরান একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। আমরা তা মেনে চলেছি। সমঝোতা স্মারকটি কীভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, তা নিয়ে যদি তাদের কোনো মতবিরোধ থাকে, তবে তারা ফোন করতে পারে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘সহিংসতার জবাব সহিংসতা দিয়েই দেওয়া হবে।’
কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ওই সমঝোতা স্বাক্ষর হয়েছিল। ওই সমঝোতায় ‘লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে’ বন্ধ করার কথা রয়েছে। তবে লেবাননে ইসরাইলের হামলা অব্যাহত থাকায় আবারও হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পরই এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি, সারসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়তে থাকে। সমঝোতা স্মারকের শর্ত অনুযায়ী ৬০ দিনের একটি সময়সীমা ঠিক করা হয়। এ সময়ে কোনো ধরনের মাশুল ছাড়াই বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করতে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) ওমান উপকূলের কাছে এই নৌপথ দিয়ে যাওয়ার সময় সিঙ্গাপুরের পাতাকাবাহী এভার লাভলি জাহাজে একটি ‘প্রোজেক্টাইল’ আঘাত হানে। তবে এতে জাহাজের কোনো নাবিক বা কর্মী আহত হননি। ফলে কনটেইনারবাহী জাহাজটি তার গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

এই ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর দিকে অন্তত চারটি একমুখী হামলার ড্রোন (ওয়ান ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন) ছুড়েছে দেশটি।’ তার মতে, তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে চতুর্থ ড্রোনটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।