হজরত মোহাম্মদ (সাঃ)কে নিয়ে কুটুক্তি করায় সৌদিতে হিন্দু যুবককে মৃত্যুদন্ড শের তারিকুল শের তারিকুল ইসলাম প্রকাশিত: ১১:২৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০২৬ সংবাদ ডেস্ক: ‘আমার ছেলের করা ভুলের জন্য আমি ক্ষমা চাই। দয়া করে তাকে ক্ষমা করে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিন।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের বড় ছেলে আনোজান শিবরাশার জীবনের জন্য এমনই আকুতি জানিয়েছেন তার মা রসমানিক্কাম যোগলক্ষ্মী। ২৪ বছর বয়সী এই শ্রীলঙ্কান অভিবাসী শ্রমিক সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হয়েছেন। ইসলাম ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগে করা এক মামলায় আপিল আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। খবর বিবিসির। ঘটনাটি শ্রীলঙ্কাজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আনোজানকে ক্ষমা করে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় নেতা ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শ্রীলঙ্কা সরকারও কূটনৈতিকভাবে তার প্রাণভিক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে গত ২৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে পরিবারের সঙ্গে আনোজানের কোনো যোগাযোগ নেই। এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন করে কোনো বক্তব্য না দেয়ার জন্য শ্রীলঙ্কা সরকার তাদের অনুরোধ করেছে বলে জানা গেছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলার কারণেই এমন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এদিকে সৌদি কর্তৃপক্ষ আনোজানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো সময়সূচি প্রকাশ করেনি। কবে তার সাজা কার্যকর হতে পারে, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। সৌদি আরবে অতীতে পরিবারের সদস্য কিংবা বিদেশি দূতাবাসকে আগাম না জানিয়েই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনা ঘটেছে; অনেক ক্ষেত্রে পরে স্বজনদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। শ্রীলঙ্কায় একটি হিন্দু তীর্থযাত্রাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শুরু হওয়া বিতর্কের জেরে আনোজানের বিরুদ্ধে মামলা হয়। জুনের শেষ দিকে হিন্দু তীর্থযাত্রীদের সঙ্গে থাকা অবস্থায় এক তরুণ মুসলিম ব্যক্তি একটি কুকুরকে লাথি মারছেন; এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নিয়ে অনলাইনে বিভিন্ন ধর্মীয় বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে এক ব্যবহারকারী হিন্দু ধর্মের একটি দেবতাকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। এর জবাবে আনোজান তামিল ভাষায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। পরে তিনি দ্রুত সেই মন্তব্য মুছে ফেলেন এবং একটি ভিডিওতে ক্ষমাও চান। কিন্তু এরই মধ্যে তার মন্তব্যের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষয়টি তার কর্মস্থল ও সৌদি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর জুলাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আনোজানের ব্যক্তিগত ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়। সৌদি কর্মকর্তারা তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলোও মুছে দেন বলে তার পরিবার জানিয়েছে। আনোজানের ভাই হামসিদান শিবরাশা বিবিসি সিংহলাকে বলেন, সৌদি আরবের সাধারণ মানুষ এ বিষয়ে কিছু জানত না। শ্রীলঙ্কার কিছু ব্যক্তি তার ভাইয়ের কর্মস্থলে ই-মেইল করে বিষয়টি জানালে সেখান থেকেই সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ যায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আনোজান যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন, তারা বিষয়টি সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানায়। এরপর তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। প্রথমে আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্ট আনোজানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করেন। তার আইনজীবীরা সাজা কমানোর আবেদন করে আপিল করলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয় বলে জানান শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর মামলাটি নাটকীয় মোড় নেয়। সৌদি প্রসিকিউশন আনোজানের বিরুদ্ধে দেশটির সাইবার অপরাধ আইনের পরিবর্তে শরিয়াহ আইনের অধীনে বিচার করার আবেদন করে। আপিল আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন এবং আনোজানকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আনোজানকে সহায়তা করতে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর রাজধানী কলম্বোর প্রেসিডেন্সিয়াল সেক্রেটারিয়েটে আনোজানের পরিবারের সদস্যরা প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রেসিডেন্ট তাদের আশ্বস্ত করেন যে, আনোজানের জন্য সাধারণ ক্ষমা আদায়ে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে। একই সঙ্গে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদারের নির্দেশ দেন তিনি। আনোজানের মৃত্যুদণ্ড ঠেকানোর দাবিতে শ্রীলঙ্কায় ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর মধ্যেও ঐক্য দেখা গেছে। রামান্না নিকায়া ও অমরাপুরা মহা নিকায়ার শীর্ষ বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পাশাপাশি হিন্দু ধর্মীয় নেতারাও আনোজানের বিষয়ে দ্রুত রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন। Download News PhotoCard SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: