ভারতে কাজ করতে গিয়ে নিখোঁজ ছাতক-কোম্পানীগঞ্জের তিন যুবক শের তারিকুল শের তারিকুল ইসলাম প্রকাশিত: ৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ সংবাদ ডেস্ক: ভালো বেতনে কাজ দেওয়ার কথা বলে ভারতে নেওয়ার পর সুনামগঞ্জের ছাতকের দুই যুবক ও সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজ তিনজন ভারতের কাশ্মীরে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। নিখোঁজ তিনজন হলেন—সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নের সৈদেরগাঁও গ্রামের মৃত মনোহর আলীর ছেলে সোহেল, একই গ্রামের মৃত রুসমত আলীর ছেলে আয়াছ আলী এবং সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার জালিয়ারপাড় গ্রামের আনছার আলীর ছেলে আলা উদ্দিন। পরিবারের দাবি, কাশ্মীরে কাজের কথা বলে তিনজনই ভারতে যাওয়ার পর প্রথম দিকে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। তবে একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় দেড় মাস ধরে কোনো যোগাযোগ না থাকায় নিখোঁজদের পরিবারে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজদের স্বজনদের পক্ষ থেকে ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। অভিযোগকারী মোছা. সামতেরা বেগম (৬০) জানান, নিখোঁজ আলা উদ্দিন তার জামাতা। তার অভিযোগ, ফাহিম নামের এক ব্যক্তি ভালো বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে সোহেল, আয়াছ আলী ও আলা উদ্দিনকে কাশ্মীরে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। ভারতে যাওয়ার পর কিছুদিন তাদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ ছিল। পরে হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তিন যুবকের বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে ফাহিমের বাবা ফারুক ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে প্রথমে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। এর মধ্যে বিকাশের মাধ্যমে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরে আরও ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। নিখোঁজদের স্বজনদের আরও দাবি, তিন যুবককে আটকে রেখে তাদের মুক্তির বিনিময়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে এবং টাকা না দিলে তাদের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগে উত্থাপিত এসব দাবির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জাউয়াবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোস্তফা কামাল বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ফারুকের সন্ধান নিতে এসআই মঞ্জুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসআই মঞ্জু বলেন, “ফারুকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে। তাকে থানায় আসতে বলা হলেও সে আসেনি। সে এলাকায় থাকে না। তার অবস্থান সিলেটের বাইরে বলে জানা গেছে।” তিনি আরও বলেন, “ফারুক জানিয়েছে, তার ছেলে ফাহিম ভারতে রয়েছে। তার সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারছে না বলে সে জানিয়েছে। তবে ফারুকের সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত ও তাকে থানায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।” ছাতক থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ঝলক মোহন্ত বলেন, “ফারুকের সঙ্গে কথা বলেছি। তার কথাবার্তার ধরন ভালো নয়। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ তিন যুবকের অবস্থান ও অভিযোগে উল্লিখিত মানবপাচার এবং অর্থ দাবির বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে। Download News PhotoCard SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: