পাখি শিকারীর হাতে প্রাণ গেলো ১৮০ টি হাঁস Desk Desk News প্রকাশিত: ১০:০৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৩ সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দূলাইন বিলে পাখি শিকারের বিষটোপ দিয়ে স্থানীয় এক খামাড়ির দেড়-শতাধিক হাস মেরে ফেলার খবর পাওয়া গেছে। সোমবার ভোর ০৫ টার সময় এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া হাঁসের মালিক বুতুমারা গ্রামের নজির মিয়ার ছেলে মানিক মিয়া। মানিক মিয়া জানান, গত সোমবার দুলাইন বিলে হাঁস গুলোকে খাবার খাওয়াতে গেলে অতিথি পাখি শিকারের বিষটোপ খেয়ে ঘটনাস্থলেই ১৮০ টি হাস মারা যান। ঘটনার পরপর পাখি শিকারী কামাল হোসেন ও মুজিবুর রহমানকে অবগত করলে উলটো তারা আমার সাথে দুর্ব্যবহার করেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে এই বিলে অতিথি পাখি শিকার করে আসছেন। শিকারকৃত এসব পাখি স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। তাদেরকে বাধা দিলেও পাখি শিকার বন্ধ করেনি। এ ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিতের মৌসুমে প্রতিদিন শত শত অতিথি পরিযায়ী পাখি শিকার করছেন এ চক্রটি। স্থানীয়দের তোয়াক্কা করেনা কামাল হোসেন ও মুজিবুর রহমান সহ এ চক্রের অন্য সদস্যরা। উপজেলার বিভিন্ন মাঠে প্রতিবছরে মতো এবারও শীতের মৌসুমে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আনাগোনা বেড়েছে। এসব পাখি ওজনে অনেক বড় হওয়ায় বাজারে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করা যায়। উপজেলা প্রশাসন থেকে পাখি শিকার বন্ধে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে পাখি শিকারীরা। এছাড়াও মাঠের ফসলের জমিতে চাষাবাদ ও পানি দেওয়ার সময় সাদা বক, শালিক, চড়ুই, ডাহুক, ঝুটকুলিসহ বিভিন্ন দেশি প্রজাতির পাখি মাটির নিচে থেকে উঠে আসা পোকামাকড়সহ বিভিন্ন কিটপতঙ্গ খেতে জড়ো হয়। আর এই সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু পাখি শিকারিরা অবাধে পাখি নিধন করছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তেলাপোকার মধ্যে বিষাক্ত ফুরাডান কীটনাশক ঢুকিয়ে ছেড়ে দিলেই সেই বিষাক্ত তেলাপোকা খেয়ে পাখিগুলো অসুস্থ হয়ে মাটিতে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এ সময় পাখিগুলো ধরে কাছে থাকা ব্লেড, ছুরি দিয়ে জবাই করা হয়। এছাড়া বড় বাঁশের সঙ্গে আকাশের দিকে উচুঁ করে বড় ধরনের জাল পেতে রাখা হয়। এ পদ্ধতিতে পাখিদের তাড়া করলেই পাখিগুলো উড়তে গিয়ে জালে বেঁধে যায়। আর শিকারীরা পাখি ধরে বস্তার মধ্যে ঢুকিয়ে রাখে। পরে সময়মত পাখিগুলো বিক্রি অথবা জবাই করছে। প্রতিদিনই তেলিখাল, লামাডিস্কিবাড়ি,ফেদারগাঁওসহ বিভিন্ন বিল ও ছোট-বড় হাওর গুলোতে পাখি শিকার করছে স্থানীয় পাখি শিকারীরা। এ ব্যাপারে প্রশাসনের ভূমিকা নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন ওই এলাকার পাখি প্রেমী আনসার আলী। তিনি বলেন, পাখি নিধনের হাত থেকে পাখিদের বাঁচাতে একমাত্র প্রশাসনকেই ভূমিকা নিতে হবে। আর জনগণতে সচেতন করতে হবে। স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে সকল মাঠেই পাখি দেখা যাচ্ছে। এসব পাখি শিকারে এক শ্রেণির অসাধু লোকজন ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাখি শিকারের ফলে পরিবেশের উপর বিরুপ প্রভাব পড়তে পারে। পাখি শিকার বন্ধ করতে হবে। এ কাজে প্রশাসনকে এগিয়ে আসতে হবে। বন বিভাগ সূত্র জানায়, ১৯৭৪ সালে বন্যপ্রাণী রক্ষা আইন ও ২০১২ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে দণ্ডের বিধান রয়েছে। এতে বলা হয়, পাখি শিকারের সর্বোচ্চ শাস্তি এক বছর জেল, এক লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত। একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে অপরাধীর দুই বছরের জেল, দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে বিধান রয়েছে। পাখি শিকার ও বিষটোপে হাস হত্যার বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হিল্লোল রায় প্রতিবেদককে বলেন, পাখি শিকার করা একটি অপরাধ। বিষটোপ দিয়ে হাঁস মারার ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। SHARES অপরাধ বিষয়: