পরমাণু প্রসঙ্গে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় অ্যামেরিকা

প্রকাশিত: ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:-পরমাণু চুক্তি নিয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি অ্যামেরিকা। ট্রাম্প ২০১৮-তে এই চুক্তি থেকে সরে এসেছিলেন।

অ্যামেরিকা আগেই জানিয়েছিল, তারা ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তিতে ফিরতে চায়। ২০১৮ সালে ডনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তি থেকে সরে আসেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে একতরফা নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু বাইডেন প্রেসিডেন্ট হয়ে আসার পর এই চুক্তিতে আবার যোগ দেয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। এবার অ্যামেরিকা জানিয়ে দিল, তারা ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বসতে চায়।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস জানিয়েছেন, ”ইরানের পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য ও জার্মানির আমন্ত্রণ অ্যামেরিকা গ্রহণ করবে।”

তবে ইরান এখন অ্যামেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ২০১৯ সালে ইরান চুক্তি ভেঙে ইউরেনিয়াম মজুতের পরিমাণ বাড়ায়। গত কয়েক মাসে ইউরেনিয়াম মজুত তারা অনেকটাই বাড়িয়েছে। তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কাজও করছে। পরমাণু বোমার জন্য এটা জরুরি।

ইরান পরমাণু চুক্তি কী ও কেন?

পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ?

২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী ইরান শুধু পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালাতে পারবে না৷ তবে আন্তর্জাতিক নজরদারির মধ্যে শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি চালু রাখার অধিকার সে দেশের রয়েছে৷ অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চিকিৎসার মতো ক্ষেত্রে পরমাণু শক্তি কাজে লাগানো যেতে পারে৷

ইরান পরমাণু চুক্তি কী ও কেন?

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ

চুক্তির প্রথম আট বছরে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সীমা মেনে চলতে রাজি হয়েছিল৷ সেইসঙ্গে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত গবেষণাও বন্ধ থাকবে৷ আন্তর্জাতিক পরমাণু জ্বালানি সংস্থা আইএইএ ইরানের কার্যকলাপের উপর নজর রেখে চলেছে৷ জার্মানি, ফ্রান্স, ব্রিটেন, চীন ও রাশিয়া এক্ষেত্রে আইএইএ-র মূল্যায়নকেই গুরুত্ব দিয়ে আসছে৷

ইরান পরমাণু চুক্তি কী ও কেন?

পরমাণু ভাণ্ডারের ভবিষ্যৎ

চুক্তির আওতায় ইরান ৩,৬৭ শতাংশ সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়ামের ভাণ্ডার ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর অঙ্গীকার করেছিল৷ অর্থাৎ ১৫ বছরের জন্য ৩০০ কিলোগ্রামের বেশি এমন মানের ইউরেনিয়াম ইরানের হাতে থাকার কথা নয়৷ ফলে পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথ আপাতত বন্ধ থাকছে৷

ইরান পরমাণু চুক্তি কী ও কেন?

নিষেধাজ্ঞা শিথিল

ইরান শর্ত পূরণ করার পরিবর্তে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সে দেশের উপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল৷ ফলে ইরান আবার আন্তর্জাতিক বাজারে পেট্রোলিয়াম বিক্রি ও আন্তর্জাতিক অর্থ বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছিল৷ অ্যামেরিকার চাপের মুখে সেই সুবিধা হাতছাড়া করতে চায় না ইরান৷

ইরান পরমাণু চুক্তি কী ও কেন?

চুক্তিভঙ্গের পরিণতি

পরমাণু কর্মসূচির উপর আন্তর্জাতিক নজরদারির ফলে একটি পরমাণু বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরি করতে ইরানের কমপক্ষে এক বছর লাগবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন৷ সে রকম প্রচেষ্টা চালালে আবার সে দেশের উপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা চাপানোর বিধান মেনে নিয়েছে ইরান৷

ইরান পরমাণু চুক্তি কী ও কেন?

চুক্তির মেয়াদ শেষের অবস্থা

সমালোচকরা বার বার চুক্তির ‘সানসেট ক্লজ’ বা মেয়াদ শেষের অবস্থার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকেন৷ তাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ লক্ষ্যে পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা সত্ত্বেও ইরান চুক্তির মেয়াদ শেষে আবার অস্ত্র তৈরির কাজ শুরু করবে৷ তবে চুক্তির প্রবক্তারা মনে করিয়ে দেন, যে বিভিন্ন ধরনের কার্যকলাপের উপর ১০, ১৫, ২০ বা ২৫ বছর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকবে৷

ইরান পরমাণু চুক্তি কী ও কেন?

ক্ষেপণাস্ত্র ও আঞ্চলিক প্রভাব

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর সমর্থকরা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বাড়বাড়ন্ত ও মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সে দেশের প্রভাব প্রতিপত্তির কড়া সমালোচনা করেন৷ ইউরোপসহ অন্যান্য অনেক দেশও বিষয়ে একমত৷ তবে ‘সফল’ পরমাণু চুক্তি বাতিল করার বদলে তা কাজে লাগিয়ে ইরানের উপর চাপ সৃষ্টি করতে চায় তারা৷

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সম্প্রতি ভিডিও-বৈঠক করেছেন অ্যামেরিকার নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিনকেন। তারপর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান যদি ২০১৫-র পরমাণু চুক্তি মানে, তা হলে অ্যামেরিকাও চুক্তিতে ফিরবে এবং ইরানের সঙ্গে এনিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া ছিল, ”অ্যামেরিকাকেই আলোচনার জন্য উদ্যোগী হতে হবে। ইউরোপের দেশগুলি আগে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পালন করুক এবং ট্রাম্প যেভাবে ইরানের উপর যাবতীয় দায় চাপিয়ে দিয়ে আর্থিক সন্ত্রাসবাদের পথ নিয়েছিলেন, তার থেকে সরে আসুক অ্যামেরিকা। আমরা আগে কাজ দেখতে চাই।”

(সি/স-২১ ফেব্রুয়ারি-তা/ই)