দোয়ারাবাজারে বয়স জালিয়াতির অভিযোগে ৪শ ১৩ জনের বয়স্ক ভাতা বাতিল Desk Desk News প্রকাশিত: ৯:৫৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০২২ মোঃ আলা উদ্দিন: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে বয়স জালিয়াতির অভিযোগে ৪শ১৩ জন বয়স্ক ভাতার তালিকাভূক্ত সুবিধাভোগীর ভাতা বাতিল করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। বাতিলকৃত সুবিধাভূগীদের জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম-ঠিকানা সঠিক থাকলেও বয়সের গরমিল পাওয়ায় তাদের নাম বাতিল করা হয়। দোয়ারাবাজার উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা যায়, বয়স্ক ভাতা পেতে নারীদের বয়স কমপক্ষে ৬২ ও পুরুষদের ৬৫ বছর বয়স নির্ধারণ করেছে সরকার। একজন ভাতাভোগী মাসে ৫০০ টাকা করে ভাতা পান। সমাজসেবা কার্যালয় থেকে ভাতাভোগীদের নামে বই ইস্যু করা হয়। ভাতাভোগীরা নিজেদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ভাতার টাকা পান। এসব ভাতাভোগীর তালিকা ইউনিয়ন কমিটির মাধ্যমে তৈরি করে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে জমা দেন। জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম নিবন্ধনের মাধ্যমে তাদের সঠিক বয়স নির্ধারণ করে ভাতার আওতায় আনেন সমাজসেবা কার্যালয়। বয়স জালিয়াতি করে অনেকেই বয়স্ক ভাতার আওতায় এসেছেন। যারা বয়স চুরি করে ভাতাভোগী হয়েছেন তাদের বাদ দিয়ে নতুনদের তালিকাভুক্তির কাজ চলমান রয়েছে। সম্প্রতি সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিজস্ব সফটওয়্যারের মাধ্যমে বয়স্ক ভাতার সুবিধাভোগীদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে অনলাইনে সংরক্ষণ করতে গিয়ে এসব প্রতারণা ধরা পড়ে। এ উপজেলায় বয়স্ক ভাতার সুবিধাভোগীর তালিকায় রয়েছেন মোট ৬হাজার ৩শত ৪৪জন। তার মধ্যে বাংলাবাজার ইউনিয়নে ৪৫, নরসিংপুর ইউনিয়নে ১শত ৬জন, দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নে ৪৮ জন, মান্নারগাও ইউনিয়নে ২৩ জন, পান্ডারগাও ইউনিয়নে ৬০জন, দোহালিয়া ইউনিয়নে ৩৩ জন, লক্ষীপুর ইউনিয়নে ৩৬ জন, বোগলাবাজার ইউনিয়নে ২৯ জন ও সুরমা ইউনিয়নে ৩৩জন বয়স্ক ভাতাভোগীর বয়স জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবা কার্যালয়ের লোকজনের যোগসাজশে বয়স জালিয়াতি করে অনেকেই ভাতাভুক্ত হয়েছেন। তারা পরিচয়পত্রের জন্ম তারিখ, ভুয়া জন্মসনদ তৈরি করে বয়স বাড়িয়ে ভাতার আওতাভুক্ত হয়েছেন। বয়স জালিয়াতির সুবিধায় ভাতার তালিকাভুক্ত হয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন কয়েকজন জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের কাছ থেকে টাকায় চুক্তির মাধ্যমে ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। তবে বয়স নিয়ে সমস্যা থাকায় অনলাইনে তাদের ডাটা এন্ট্রি হয়নি। এখন তারা ভাতার টাকা পাচ্ছেন না। দোয়ারাবাজার উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, বয়স জালিয়াতি করে অনেকেই বয়স্ক ভাতার আওতায় এসেছেন। এনআইডি চালু হওয়ার পূর্ব থেকেই বয়স্ক ভাতার সুবিধাভোগের জন্য এসব অনিয়ম চলে আসছিল। যারা বয়স চুরি করে জালিয়াতির মাধ্যমে ভাতাভোগী হয়েছেন তাদের কার্ড বাতিল করে নতুনদের তালিকাভুক্তি করার কাজ চলছে। SHARES অপরাধ বিষয়: