জাফলংয়ের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী সমীপে ১০ হাজার শ্রমিক-ব্যাবসায়ীর দাবী, পাথর কোয়ারী খুলে দিন Desk Desk News প্রকাশিত: ৭:২০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৪, ২০২০ নিজস্ব প্রতিবেদক:-সিলেটের সব কয়টি পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবীতে গোয়াইনঘাটের মামার দোকানস্থ পিউলি খেলার মাঠের ১০ হাজার শ্রমিক ও ব্যাবসায়ীর উপস্থিতিতে এক শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্টিত হয়। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পানি নিষ্কাশন -বালুপাথর উত্তোলন ও বহনকারী শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি সিরাজুল ইসলামের নের্তৃত্বে সিলেটের বৃহত্তর পাথর কোয়ারী অঞ্চলখ্যাত কোম্পানীগঞ্জ থেকে ৫ শতাধিক শ্রমিক নিয়ে উক্ত সমাবেশে যোগদান করেন। মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) পাথর ব্যাবসায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট ১০ লক্ষাধিক শ্রমিক-ব্যবসায়ী এবং তাদের পরিজনদের রক্ষার দাবিতে প্রখর রুদ্রকে উপেক্ষা করে দুপুর ২ টা থেকেই জাফলংয়ের পিউলি মাঠে শ্রমিকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। উক্ত সভায় বক্তারা জাফলং, বিছনাকান্দি, ভোলাগঞ্জ, লোভা, উৎমা, শ্রীপুর সহ সংশ্লিষ্ট এলাকার যুগ যুগ ধরে পাথর আহরণের মাধ্যমে লাখ মানুষের কর্মসংস্থান পাথর কোয়ারি বন্ধের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ সংকটের কথা উল্লেখ করে আরও বলেন সিলেটের পাথর কোয়ারিতে পাথর আহরণ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বংশ পরম্পরায় জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। আহরিত এ পাথরের রয়্যালটি বাবত সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে আসছিল। সিলেটের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি পাথর আহরণ এবং বিপণন হঠাৎ করে বন্ধ করে দেয়ায় এক বছর ধরে সিলেটের উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ জনগোষ্ঠী অবর্ণনীয় দুঃখ কষ্টে নিপতিত হয়েছে। বক্তারা বলেন, আহরিত এ পাথর বিপনের সাথে সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, স্টোন ক্রাশার, মিল মালিক, পাথর ব্যবসায়ী, ট্রাক-ট্রাক্টর শ্রমিক, বার্জ, কার্গো, নৌকা মালিক শ্রমিক, পরিজন নিয়ে জীবীকা নির্বাহ করে আসছিলেন। সিলেটের এ পাথরের গুনগত মান উন্নত হওয়ায় দেশের নির্মাণ শিল্পের অন্যতম কাচামাল হিসেবে এ পাথর ব্যবহার হয়ে আসছিল। বুয়েট, শাহজালাল ইউনির্ভাসিটি সহ দেশের সকল প্রকৌশল সংস্থার মান বিবেচনায় এ পাথরের গুণগত মান এশিয়া মাহাদেশের মধ্যে শ্রেষ্ট মনোনীত হওয়ায় নির্মিত অবকাঠামোর মজবুত ও স্থায়ীত্ব সর্বজন বিবিধ। খরস্রোতা প্রবাহিনীর ভাটি অঞ্চলে অবস্থিত এ অঞ্চলে প্রতিবছর উজান থেকে লক্ষ লক্ষ টন পাথর নেমে এসে কোয়ারী অঞ্চল পরিপূর্ণ হয় এবং এ পাথরই শ্রমিকেরা উত্তোলন করে দেশের নির্মাণ শিল্পে যোগান দিয়ে আসছিলেন। বক্তারা আরও বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের সাথে জানাতে হচ্ছে যে, কয়েক বছর ধরে পাথর কোয়ারী সমূহে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়া এ অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ পরিজন নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কর্মহীন এ প্রান্তিক জনপদে আজ দূভিক্ষের পদধ্বনি। পাথর সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আজ সর্বশ্বান্ত। হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ব্যাংক লোন নিয়ে ব্যবসা শুরু করে আজ দেউলিয়া। সিলেটের পাথর কোয়ারী বন্ধ করে দেওয়ায় মানুষের জীবন জীবিকার উপর যে মারাত্মক দুর্বিসহ অবস্থার সৃষ্ট হয়েছে তা বর্ণনাতীত। একটি বৃহৎ অঞ্চলের ১০ লক্ষাধিক মানুষের প্রাচীন এ জীবিকা বন্ধ হওয়ায় এর অর্থনৈতিক ক্ষতি হাজার হাজার কোটি টাকা। প্রান্তিক লাখো মানুষের জীবিকা বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি পাথর বিপননের সাথে সম্পৃক্ত ১০ সহস্রাধিক ব্যবসায়ী ঋণ খেলাপী হয়ে দেনা শোধ করতেনাপেরে পলাতক জীবন যাপন করছেন। পাথর পরিবহনে সম্পৃক্ত হাজার হাজার ট্রাক ও ট্রাক্টর মালিক, শ্রমিক রোজগার বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। পাথরকে উপজীব্য করে গড়ে ওঠা স্থানীয় বিভিন্ন হাট বাজার ও বিপনী কেন্দ্রগুলোতে পন্য কেনা বেচা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজারো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও উদ্যেক্তা কঠিন ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছেন। নিজ দেশে উন্নতমানের পাথর রেখে বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় করে পাথর আমদানীর মাধ্যমে ক্ষতি সাধিত হচ্ছে ইটের খোয়া, যার ফলে আশংকা দেখা দিয়েছে দুর্ঘটনার। এমতাবস্থায় সিলেটের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে রক্ষা এবং এ অঞ্চলের মানুষের জীবন জীবিকার স্বার্থে ও দেশের নির্মাণশিল্প ও অর্থনীতির স্বার্থে এখানকার পাথর কোয়ারী সমূহে পরিবেশ সম্মত ভাবে পাথর আহরনের সুযোগ প্রদান জরুরী। সভায় সিলেটের ১০ লক্ষাধিক পাথর সংশ্লিষ্ট জীবিকা নির্বাহকারী ও তাদের পরিজনদের বাঁচাতে অবিলম্বে পাথর আহরণের সুযোগ প্রদানের দাবি জানানো হয়। ন্যায্য এ দাবি আদায়ের স্বার্থে প্রয়োজনে সিলেটে অবরোধ-ধর্মঘটের মত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে সভায় হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। সভায় বুধবার প্রধান মন্ত্রীর বরাবরে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে কোয়ারী সচলের দাবিতে স্বারক্ষক লিপি প্রদান এবং ৩০ নভেম্বর সিলেটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে মানবন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বৃহত্তর সিলেট পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ আয়োজিত বিক্ষোভ সভায় সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক আব্দুল জলিলের সভাপতিত্বে ও সাব্বির আহমদ ফয়েজ এবং গোয়াইনঘাট উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমদের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট বিভাগীয় ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি গোলাম হাদী ছয়ফুল। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু সরকার। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বৃহত্তর সিলেট পাথর সংশ্লিষ্ট জীবিকা নির্বাহকারী ব্যবসায়ী শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব মোঃ নুরুল আমিন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান মালিক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও হবিগঞ্জ জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক, মৌলভীবাজার ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি এবং মৌলভীবাজার বাস মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ রশিদ উদ্দিন আহমদ, কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি ও ব্যবসায়ী নেতা শাব্বির আহমদ, সিলেট জেলা সিএনজি চালিত অটো রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ জাকারিয়া, সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও হবিগঞ্জ জেলা ট্রাক-ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সহ সভাপতি আবদাল মিয়া, সিলেট জেলা সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরি সভাপতি মোঃ রুনু মিয়া, সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক ও সিলেট জেলা ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমির উদ্দিন,কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ আলী,সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ জেলা ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুর উদ্দিন, সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সহ সাধারণ সম্পাদক মোঃ মইনুল ইসলাম, সিলেট জেলা সিএনজি চালিত অটো রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ, ছাতক পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জয়নাল চৌধুরী, ছাতক পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই আজাদ, সিলেট জেলা ট্রাক-পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক কার্যকরি সভাপতি মোঃ আব্দুস সালাম, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ইকবাল হোসেন, সিলেট জেলা ট্রাক,পিক আপ,কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন কোম্পানীগঞ্জ শাখার সভাপতি আব্দুল হান্নান,সহ সভাপতি কবির মিয়া,সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ মিয়া,কোষাধ্যক্ষ আমীর আলী,ট্রেড ইউনিয়ন (রেজিঃনং ২২৬৩) কোম্পানীগঞ্জ শাখার সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সুহেল মিয়া,কোষাধ্যক্ষ ফারুক আহমদ, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী বাবুল,সদস্য আঙ্গুর মিয়া,ফয়জুর রহমান,কালীবাড়ী হেমার শ্রমিক সমবায় সমিতির উপদেষ্টা আজির মিয়া,কোম্পানীগঞ্জ ট্রান্সপোর্ট সমিতির সভাপতি জামাল আহমদ জামাল. অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামছুল আলম, কোষাধক্ষ নজরুল শিকদার, জাফলং আওয়ামীলীগের আহবায়ক মিনহাজুর রহমান, জাফলং আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি শাহ জাহান সিরাজ, মুজাম্মিল হোসেন মেনন, ইব্রহিম মেম্বার, আতাউর রহমান আতাই মেম্বার, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মাসুক আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্রে সাধারণ গোলাম সারোয়ার, ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক কামাল হোসেন, যুবলীগ নেতা শেরগুল ঘুষাই, রুবেল আহমেদ, রাজিব আহমেদ, ছাত্রলীগ নেতা ইউসুফ আহমদ, সাব্বির রহমান সাজন। (সি/স-২৪ নভেম্বর-তা/ই) SHARES পাথর খনির সংবাদ বিষয়: