মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়

প্রকাশিত: ৯:০৮ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৫, ২০২১

সিলকো ডেস্ক:-বিজেপি-র তরফ থেকে চেষ্টায় কোনো ত্রুটি ছিল না। বারবার তার কাছে প্রস্তাব নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। বিজেপি-র শীর্ষ নেতৃত্ব আন্তরিকভাবেই চেয়েছিলেন, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-র মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হোন। কিন্তু বাদ সেধেছে সৌরভের হৃদরোগ। সম্প্রতি দুই বার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনি। একাধিক স্টেন্ট বসাতে হয়েছে। তারপর এখন বিশ্রামে আছেন। শরীরের এই অবস্থায় রাজনীতির নতুন ইনিংস শুরু করার ব্যাপারে সম্মতি জানাননি সৌরভ। সূত্র জানাচ্ছে, তিনি সবিনয়ে বিজেপি নেতাদের জানিয়ে দিয়েছেন, এখন রাজনীতিতে নামছেন না। নামার মতো অবস্থায় নেই। তাই মহারাজকে ছেড়েই এখন অঙ্ক কষতে হবে বিজেপি-কে।

সৌরভ অসুস্থ হওয়ার পরেই দিল্লিতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজেপি নেতা ডিডাব্লিউকে বলেছিলেন, সাবেক ক্রিকেট ক্যাপ্টেনকে পাওয়ার আশা শেষ হয়ে গেল। এখন আর রাজনীতির, প্রচারের ঝক্কি নেয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীকে রাজ্য চষে বেড়াতে হয়। অসংখ্য বৈঠক করতে হয়। দলের নেতা ও প্রার্থীদের হাজারো বায়ানাক্কা মেনে নিতে হয়। হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর এখন আর তার শরীর ওইরকম ঝক্কি নিতে পারবে না বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

কিন্তু তারপরেও বিজেপি নেতারা চেয়েছিলেন, আগামী ৭ মার্চ ব্রিগেডের জনসভায় সৌরভ থাকুন। তিনি ভোটে লড়বেন না, প্রচারও করবেন না। এক আধবার মোদী-শাহের জনসভায় থাকলেই হবে। অর্থাৎ, প্রকাশ্যে বিজেপি-কে সমর্থনের বার্তা দিতে হবে। এরপর কলকাতায় বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য জানান, সৌরভ যদি ব্রিগেডের সভায় আসতে পারেন, তা হলে তাকে স্বাগত জানানো হবে। তবে পুরোটাই নির্ভর করছে তার সিদ্ধান্তের উপর।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-র প্রচারের মুখ হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এখনো পর্যন্ত বিজেপি কোনো মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। মোদীকে সামনে রেখেই ভোটে লড়বে তারা। রাজ্যে জনসভা শুরু করে দিয়েছেন মোদী। পশ্চিমবঙ্গে আট পর্বের ভোটে বারবার তিনি আসবেন প্রচারে। তার ভরসাতেই ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে বিজেপি। হলদিয়ার জনসভায় মোদীর ছবি।

বাম ও কংগ্রেসের জনসভায় ব্রিগেড ছিল ভর্তি। বহুদিন বাদে বামেদের জনসভায় কাতারে কাতারে মানুষ এসে ব্রিগেড ভরিয়েছিলেন। এবার পরীক্ষা মোদীর। আগামী ৭ মার্চ ব্রিগেডে জনসভা করবেন মোদী। তার আগে নেতারা জেলায় চলে গেছেন। সেখান থেকে মানুষকে ব্রিগেডে আনবেন। মোদীর জনপ্রিয়তা ও দলীয় সংগঠনের দক্ষতায় ব্রিগেড ভরাতে চাইছে বিজেপি।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রচার-কৌশল

বেশি সভা অমিত শাহের

এখনো পর্যন্ত ঠিক আছে, কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে সব চেয়ে বেশি জনসভা করবেন অমিত শাহ। তিনি ইতিমধ্যেই ঘন ঘন পশ্চিমবঙ্গে আসছেন। কখনো বাউল, কখনো কৃষকের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ করছেন। কর্মীসভা করেছেন। জনসভা এবং রোড শো-ও। পশ্চিমবঙ্গে দলকে ক্ষমতায় আনার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন অমিত শাহ।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রচার-কৌশল

বারবার নাড্ডাও

বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি জগত প্রকাশ নাড্ডাও বারবার পশ্চিমবঙ্গে প্রচারে আসবেন। বিজেপি প্রচারকারীদের যে তালিকা তৈরি করেছে, তাতে নাড্ডা গুরুত্ব পাচ্ছেন।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রচার-কৌশল

থাকছেন যোগী আদিত্যনাথ

যোগী আদিত্যনাথ প্রচার শুরু করে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গে। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চড়া সুরে হিন্দুত্বের প্রচারের জন্য সুবিদিত। কিছুদিন আগে বিহারে তিনি এই কাজটাই করেছিলেন। এবার পশ্চিমবঙ্গেও করবেন। ফলে পশ্চিমবঙ্গের ভোটেও বিজেপি-র চড়া সুরের প্রচার চলবে। মোদী এবং যোগী পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-র বড় ভরসা।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রচার-কৌশল

স্মৃতি ইরানি, রাজনাথরা থাকছেন

বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে স্মৃতি ইরানি খুবই ভালো বাংলা বলতে পারেন। তাঁর মা বাঙালি। তিনি বংলায় থেকেছেন। খুবই ভাল বক্তা। তাই তাঁকে দিয়ে প্রচুর জনসভা করাবে বিজেপি। রাজনাথও প্রচার করবেন। বিহার এবং ওড়িশা থেকেও নেতাদের নিয়ে আসা হবে। ছবিতে কলকাতায় শোভাবাজার রাজবাড়িতে সিস্টার নিবেদিতা স্মারক বক্তৃতা দেয়ার আগে স্মৃতি ইরানি।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রচার-কৌশল

দিলীপ ঘোষ চষে বেড়াবেন

রাজ্য নেতাদের মধ্যে সব চেয়ে বেশি জনসভা, রোড শো, বাড়ি গিয়ে প্রচার করবেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সারা রাজ্য তিনি চষে বেড়াচ্ছেন এবং বেড়াবেন। তৃণমূল থেকে বিজেপি-তে যাওয়া শুভেন্দু অধিকারীকে প্রচারে গুরুত্ব দেবে বিজেপি। তাঁকে দিয়ে প্রচুর জনসভা করানো হবে।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রচার-কৌশল

সর্বাত্মক প্রচার

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-র প্রচার হবে সর্বাত্মক। কেন্দ্রীয় নেতারা বড় জনসভা করবেন। সেই সঙ্গে হবে ছোট পথসভা এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার। সঙ্গে থাকবে সামাজিক মাধ্যমে আক্রমণাত্মক প্রচার। যার দায়িত্বে আছেন বিজেপি-র কেন্দ্রীয় আইটি সেলের প্রধান অমিত মালবীয়। প্রতিটি জেলায় ঘুরবে এলইডি প্রচারযান। এভাবেই প্রচারে কোনো ফাঁক রাখছে না বিজেপি।

কিন্তু রাজনীতিতে না নেমে শুধু প্রধানমন্ত্রীর সভায় উপস্থিত হওয়ার প্রস্তাবে সৌরভ রাজি হননি বলে সূত্র জানাচ্ছে। এরকম ধরি মাছ না ছুঁই পানির মতো করে রাজনীতি করতে তিনি একেবারেই উৎসাহী নন। সৌরভ যে কাজটা করেন, তা দাপটের সঙ্গে করার চেষ্টা করেন। সেভাবেই তিনি ক্রিকেট খেলেছেন, অধিনায়কত্ব করেছেন, ক্রিকেট প্রশাসনের শীর্ষ পদে আছেন। সেজন্যই তার নামের সঙ্গে জুড়ে গেছে দাদাগিরি। আধাআধি কাজ করা তার চরিত্রে নেই। আর ঠিক হোক বা ভুল, বিজেপি নেতাদের ধারণা ছিল, সৌরভ তাদের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হলে পশ্চিমবঙ্গ জয় অনেক সহজ হয়ে যাবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য রাজ্যে কোনো মুখ নেই বিজেপি-র। সৌরভ এলে সেই অভাব আর থাকত না। আর দাদার সমর্থকরাও তখন বিজেপি-র দিকে ঝুঁকে পড়ত। সে জন্যই তারা শেষ সময় পর্যন্ত সৌরভকে প্রস্তাব পাঠিয়ে গেছেন।

রাজনীতির ময়দানে সৌরভের প্রবেশ নিয়ে নানা মত আছে। সৌরভ এখন গোটা পশ্চিমবঙ্গের দাদা। বিজেপি-তে যোগ দিলে তার সেই পরিচয় খণ্ডিত হয়ে যেত। তখন বিজেপি-র সমর্থকদের কাছে তিনি আগের মতোই নয়নের মণি হয়ে থাকতেন, কিন্তু বিরোধীদের কাছে নয়। ভূপেন হাজারিকাকে ঠিক এই সমর্থন ও বিরোধের মধ্যে পড়তে হয়েছিল, যখন তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন। অল্প কিছুদিন পরেই তিনি রাজনীতি থেকে সরে আসেন। কিন্তু ততক্ষণে ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে।

(সি/স-০৫ মার্চ-তা/ই)