কোম্পানীগঞ্জে ভোটারদের পছন্দ নৌকা: বিদ্রোহের অনলে পুড়ছে আওয়ামীলীগ শের তারিকুল শের তারিকুল ইসলাম প্রকাশিত: ২:১০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১০, ২০২১ সম্পাদকীয়:-কোম্পানীগঞ্জে জমে উঠেছে দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন। ভোটের আর মাত্র একদিন বাকি। ১১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ভোট। ৫ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়াই করছেন ২৯ জন প্রার্থী । ২৭ অক্টোবর প্রতিক বরাদ্দ পাওয়ার পর দীর্ঘ ১৫ দিন আনুষ্ঠানিক ভোট যুদ্ধের যবানী পাত হতে যাচ্ছে। ১৩ দিনের ভোট যুদ্ধে প্রায় প্রার্থীরা ক্লান্ত হলেও শেষ সময় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। শেষবারের মতো চেয়ারম্যান প্রার্থীরা প্রতিদিনই পথসভা, উঠান বৈঠক, ছোট-ছোট জনসভা ও ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজের শেষটুকু উঝার করে দিচ্ছেন। বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ভোটারদের কাছে টানতে চাচ্ছে প্রার্থীরা। উপজেলার ৫ ইউনিয়নের মধ্যে ৪ ইউনিয়নে বিদ্রােহী প্রার্থী থাকায় বেকায়দায় রয়েছে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। উপজেলার ২ নং পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের নৌকার টিকেট পায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুল্লুক হোসেন তার বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সাবেক দুই বারের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইলিয়াছুর রহমান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আমিনুল হক। সংখ্যাগরিষ্ঠ তৃণমূলের ভোটে মুল্লুক হোসেন নৌকার টিকেট পেলেও অপর প্রতিদন্ধি ৭ বারের সাবেক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আমজদ ৩ ভোটে হেরে যান। তৃণমূলের আস্থা হারিয়ে আলী আমজদ ভরষা রাখেন বিদ্রোহী প্রার্থী ইলিয়াছুর রহমানের উপর। আলী আমজদ গোপনে ইলিয়াছুর রহমানকে সমর্থন দিলেও প্রকাশ্যে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী মুল্লুক হোসেনের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতেন। শেষমেশ নির্বাচনী অন্তরাল থেকে বেরিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী ইলিয়াছুর রহমানের পক্ষে প্রচারে নামেন। নৌকার বিপক্ষে প্রকাশ্যে মিছিলে অংশ নেওয়া ২৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় সমলোচনা ঝড় উঠে কোম্পানীগঞ্জ আওয়ামী লীগ শিবিরে। দলীয় কোন্দলে নৌকা প্রতিক পেয়ে বেকায়দায় পড়েছে মুল্লুক হোসেন। একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ২ নং পূর্ব ইসলাম পুরে নৌকার ভরাডুবি আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষায়। সদ্য আওয়ামী লীগে যোগদান করা দুই বারের চেয়ারম্যান বাবুল ও সদ্য বহিস্কৃত আমিনুল ইসলাম এবং ইলিয়াছুর রহমানের ত্রয়ী লড়াইয়ে যে কারো গলায় উঠতে পারে জয়ের মালা। তবে ক্লিন ইমেজধারী বাবুল মিয়ার নির্বাচনী মাঠ ধীরে ধীরে পাকাপোক্ত হতে যাচ্ছে। বাবুল মিয়ার অন্যতম পথের কাটা উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক দুই বারের মেম্বার আলমগীর আলম। নিজ ওয়ার্ডে ভোট ভাগাভাগিতে অংশ নিয়ে বাবুল মিয়া ইউনিয়ন পরিষদে হেট্রিক জয় তুলে চমক দেখাতে পারেন। সদ্য বহিস্কৃত উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইলিয়াছুর রহমান এবং বহিস্কৃত সদস্য আমিনুল হকেরও রয়েছে নিজস্ব ভোট ব্যাংক। এতদসত্বে নির্বাচনী ছকে দাবার গুটি হিসেবে বলীর পাঠা হতে যাচ্ছে নতুন মুখ মুল্লুক হোসেন। ৩ নং তেলিখাল ইউনিয়নেও নৌকার বিপক্ষে শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী আব্দুল ওয়াদুদ আলফু মিয়ার কাছে ধরাসায়ী হওয়ার আশংকায় রয়েছে সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুর মিয়া। উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নুর মিয়ার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও গোপনে বিদ্রোহী প্রার্থী কিংবা অন্য স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে। দলীয় নির্দেশ অমান্য করে তেলিখাল আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী নুর মিয়ার ভরাডুবি চাইলেও শক্তিশালি প্রার্থী আলফু মিয়ার হেট্রিক গড়ার পেছনে প্রধান বাধা হয়ে দাড়িয়েছে নতুন মুখ সুজন মিয়া।বিএনপিমনা সুজন নির্বাচনের মাঠে প্রথম এসেই ভোটার কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নিজস্ব ভোট ব্যাংক থাকায় শক্তিশালী প্রার্থী আলফু মিয়া চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। ৪ নং ইছাকলস ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান এখলাছুর রহমান এখলাছ নৌকা প্রতিক নিয়ে দ্বিতীয়বারের মত মাঠে নামলেও দলীয় কোন্দলের মুখে। গত নির্বাচনে বর্তমান চেয়ারম্যান কুটি মিয়ার কাছে বিশাল ব্যবধানে হারলে নৌকা নিয়ে নতুন ভোটারদের কাছে টানতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। তবে প্রধান প্রতিদন্ধি সাজ্জাদুর রহমান সাজুকে টপকাতে পারলে তৃতীয় লড়াইয়ে দ্বিতীয়বারের মত ফুলের মালা গলায় উঠতে পারে। তবে সিএনজি প্রতিক নিয়ে ভোটারদের নজর কেড়েছে সাজ্জাদুর রহমান সাজু। নিজস্ব ভোট ব্যাংক থাকায় এখলাছুর রহমানকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে সাজ্জাদুর রহমান সাজু। সাবেক ৫ বারের চেয়ারম্যান সাদ আব্দুল্লাহ সায়েস্তা মিয়ার সমর্থকরা সাজু মিয়াকে সমর্থন করায় নির্বাচনী ঘোড়ার লাগাম এখন সাজ্জাদের কবজায়। বর্তমান চেয়ারম্যান কুটি মিয়ার ভোট ব্যাংকে চির ধরায় সুযোগ নিয়ে সাজ্জাদুর রহমান সাজু। অন্য নতুন দুই মুখ কাজী জসিম ও ফিরুজ আলীর নির্বাচনী নড়বড়ে থাকায় নৌকা প্রতিকের প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান এখলাছুর রহমান ও সিএনজি প্রতিকের সাজ্জাদুর সাজু হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। দুইজনের যে কেউ পড়তে পারে বিজয়ের মালা। উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মাঝে আলোচনায় থাকা ৫নং উত্তর রণিখাই ইউনিয়ন পরিষদে পরপর তিনবারের চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিনের প্রধান প্রতিপক্ষ নৌকার মাঝি নতুন মুখ ফয়জুর রহমান।দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা ফরিদ উদ্দিনের বিভিন্ন কর্মকান্ড নিয়ে ইউনিয়ন জুরে রয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমলোচনা। প্রতিপক্ষের কাছে নির্বাচনী কারিশমাটিক ফরিদ উদ্দিনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে নতুন মুখ ফয়জুর রহমান। ব্যাপক জনপ্রিয়তায় থাকা ফরিদ উদ্দিনের কাছ থেকে ১৭ বছরের পুরোনো চেয়ারকে ব্যালেট যুদ্ধে কেড়ে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ফয়জুর রহমান মাস্টার। প্রথমবার নির্বাচনে এসে নতুন ভোটার মন কেড়েছেন তিনি। আধুনিক, দূর্ণীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ গঠনের লক্ষে ফয়জুর রহমান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিশীল ইসতেহার ঘোষণার মধ্য দিয়ে ভোটারদের ধারে ধারে রয়েছেন তিনি। ইউনিয়নের সাধারণ ভোটারদের আস্থা কুড়াতে সব ধরনের প্রস্ততি সম্পন্ন করে রেখেছে ফয়জুর রহমান। ভোটের মাঠে প্রধান প্রতিপক্ষ ফরিদ উদ্দিন হলেও আরেক প্রতিদন্ধি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক গিয়াস উদ্দিন এখন তুরুপের তাস। গিয়াস উদ্দিন নির্বাচনে তেমন ভালো অবস্থানে না থাকলেও আওয়ামী লীগের নিজস্ব কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কালাইরাগ সেন্টারের দখল রাখতে চান। নিজ এলাকা কালাইরাগ সেন্টারের অধিকাংশ ভোট গিয়াসউদ্দিন কেন্দ্রিক হলেও নৌকা প্রার্থী ফয়জুর রহমান চমক দেখিয়ে অধিকাংশ নতুন ভোটারদের রায় নিয়ে যেতে পারে। উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে ৫ নং উত্তর রণিখাইয়ের নৌকার মাঝি ফয়জুর রহমান। প্রতিশ্রুতিশীল নির্বাচনী ইসতেহারে ভোটারদের মন জয় করতে পারলে ১৭ বছরের ক্ষমতাসীন ফরিদ উদ্দিনকে টেনে নামাতে প্রস্তুত ফয়জুর রহমান। আরেক নৌকার মাঝি ইকবাল হোসেন ইমাদের রাজনৈতিক পুরনো ফাইল নিয়ে মিডিয়া পাড়ায় হইচই থাকলেও ৬ নং দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়নে চমক দেখাতে পারেন তিনি। নানান প্রতিবন্ধকতা ও দলীয় বিরোধীতা ও কোনঠাসায় থাকা ইকবাল হোসেনের প্রধান প্রতিপক্ষ সিএনজি প্রতিকের আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত নেতা মন্তাজ আলী। ইউনিয়নের ৭ প্রার্থীর নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় ইকবাল হোসেন ইমাদ ভালো অবস্থানে থাকলেও আরেক প্রতিপক্ষ বিএনপি পন্থী সামসুদ্দিন শাহিনকে নিয়ে রয়েছে মাথা ব্যাথা। ইউনিয়নে বিএনপির যথেষ্ট ভোট ব্যাংক থাকায় প্রতিযোগীতার দৌড়ে শাহিন-ইমাদ-মন্তাজ ত্রয়ী লড়াই হতে পারে। (সি/স-১০ নভেবম্বর-তা/ই) SHARES নির্বাচনের মাঠ বিষয়: