জৈন্তাপুরে কবর থেকে যুবকের লাশ তুলে সৎকার Desk Desk News প্রকাশিত: ৭:০৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০২২ জৈন্তাপুরে কবর থেকে যুবকের লাশ উত্তোলন করে সৎকার সিলেটের জৈন্তাপুর উপজালার চিকনাগুন ইউনিয়নের ঘাটেরচটি থেকে উদ্ধার হওয়া হিন্দু ধর্মালম্বী একজনের মৃতদেহ স্থানীয় ডালিম আহমদ নামের একজনের পরিচয়ে দাফন করা হয়েছিলো। কিন্তু ঘটনার চারদিন পর জানা গেলো- তিনি ওই ব্যক্তি নন। মুসলমান রীতিতে দাফনকৃত সেই ব্যক্তির নাম শম্ভূ দেবনাথ। তিনি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ঝিঙ্গাবাড়ির শৈলেশ চন্দ্র নাথের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, ডালিম ভেবে যার মরদেহ দাফন করা হয়েছিল তিনি কানাইঘাটের শম্ভূ দেবনাথ। ডালিম ও শম্ভূ কাছাকাছি সময়েই খুন হয়েছিলেন। ডালিমের মরদেহটিও ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের ঘাঠেরচটি গ্রামে তার বাড়ি। ডালিম পরিচয়ে কবর দেয়া শম্ভূ দেবনাথের মরদেহটি গতকাল শুক্রবার (১১ মার্চ) উত্তোলন করা হয়। পরে ওসমানী হাসপাতাল মর্গে ডিএনএ সংগ্রহের পর পরিবারের কাছে শম্ভূর মরদেহ হস্তান্তর করেছে পুলিশ। শম্ভু দেবনাথ ৪ মার্চ নিখোঁজ হয়েছিলেন। ডালিম সম্পর্কে জানা যায়, গত ৫ মার্চ স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হন তিনি। পরে ৭ মার্চ বিকেলে ঘাঠেরচটি এলাকার একটি মৎস্য খামার থেকে মুখমণ্ডল বিকৃত করা একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গায়ের পোশাক দেখে ডালিমের পরিবার নিশ্চিত করে এটি তার মরদেহ। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার নিজ বাড়িতে এই মরদেহ দাফন করে ডালিমের পরিবার। এদিকে, ঘটনার তদন্তে নেমে জৈন্তাপুর থানা পুলিশ মঙ্গলবার রাতেই ঘাঠেরচটি এলাকার নায়াটিলা জামে মসজিদসংলগ্ন একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে রক্ত দেখতে পায়। সেই সূত্র ধরে মসজিদসংলগ্ন কৃষিজমিতে মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বিকৃত এ মরদেহ শনাক্তে পরদিন নেয়া হয় আঙুলের ছাপ। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দেখতে পায়, আঙুলের ছাপটি নিখোঁজ ডালিমের। তখন ডালিমের বাবা রাজমিস্ত্রি বাচ্চু মিয়াকে খবর দেয়া হয়। তিনি সন্তানের মরদেহ নিয়ে আগের কবরের পাশেই দাফন করেন। এদিকে, পরে উদ্ধার হওয়ার লাশটি ডালিমের হওয়ায় আগের লাশের পরিচয় নিয়ে কৌতুহল সৃষ্টি হয়। সেই মরদেহের পরিচয় শনাক্তে নামে পুলিশ। ৪ দিনের মাথায় আঙ্গুলের ছাপ মিলিয়ে দেখা যায় সেই মরদেহটি শম্ভূ দেবনাথের। কানাইঘাট থানার ওসি গোলাম দস্তগীর আহমদ বলেন, ‘গত ৪ মার্চ গরু চরাতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন শম্ভূ দেবনাথ। পরদিন ৫ মার্চ এ ব্যাপারে তার মামা পরিমল দেবনাথ সিলেটের শাহপরাণ (র.) থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। শুক্রবার আঙ্গুলের ছাপ মিলিয়ে দেখা যায় মৎস্য খামার থেকে পাওয়া মরদেহটি শম্ভূ দেবনাথের। শম্ভূর পরিবারও থানায় এসে পোশাক ও ছবি দেখে এটি শম্ভূর বলে নিশ্চিত করেন। এরপর শুক্রবার দুপুর ১২টায় জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আল বশিরুল ইসলামের উপস্থিতিতে ঘাটেরচটি গ্রামে কবরস্থান থেকে শম্ভূ দেবনাথের লাশ উত্তোলন করা হয়। লাশ উত্তোলনের পর ডিএনএ সংগ্রহ করে শুক্রবার বিকেল ৩টায় পরিবারের কাছে তার মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। পরে সন্ধ্যা ৭টায় কানাইঘাট উপজেলার লামা ঝিঙ্গাবাড়ি এলাকায় মরদেহটি সৎকার করা হয়। SHARES প্রচ্ছদ বিষয়: