কোম্পানীগঞ্জে ৪র্থ দফায় বন্যায় রোপা আমনে ধ্বস নামার আশঙ্কা শের তারিকুল শের তারিকুল ইসলাম প্রকাশিত: ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০ স্টাফ রিপোর্টার:-কোম্পানীগঞ্জে ৪র্থ দফা বন্যায় নাকাল রোপা আমন চাষীরা।এ বছরের ধারাবাহিক বন্যার কারনে পিছিয়ে গেছে রোপা আমন চাষ। কৃষকদের আশা ছিলো রোপা আমন ধান রোপণে লাভবান হবে,কিন্তু ৪র্থ দফা বন্যা প্লাবিত হওয়ার কারনে জলাশয়ের আশে পাশের পলি অধ্যশিত জমিতে ধান চাষ না করতে পারার ফলে কৃষকদের কপালে ভাজ পড়েছে। এদিকে নতুন করে বন্যা প্লাবিত হওয়ার কারনে ধ্বস নামতে পারে কোম্পানীগঞ্জের কৃষি অর্থনীতিতে বলে মন্তব্য করেন একাধিক শ্রমিক নেতা। বিগত জুন ও জুলাই মাসের ভয়াবহ বন্যায় রোপা আমন ধানের বীজতলা তৈরির কাজ পিছিয়ে গেলেও আশা ছিল আর কোনো বন্যার প্রাদুর্ভাব দেখা দিবেনা।বীজতলা বন্যার পানি ধারা আক্রান্ত না হলেও, বীজ রোপণের সাথে সাথে ছোট ছোট বন্যা বন্যা দেখা দিলেও বর্তমানের ৪র্থ দফা বন্যায় যেন সব কিছুই ম্লান করে দিয়ে যাবার উপক্রম। উপজেলার নিম্নাঞ্চলে রোপিত রোপা আমনের ফসলে গত ১৫ দিন আগের আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের কারনে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ১ হাজার হেক্টরের বেশী জমির ফসল নষ্ট হয়ে যায়।যা উপজেলা কৃষি অফিসের ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় নেই বলে জানা যায়। এরই মধ্যে আবারো পাহাড়ি বন্যার পানি গত দুই দিন ধরে বাড়তে থাকায় অপেক্ষাকৃত উচু জমিতে রোপায়িত আমনের ফলন নিয়েও উদ্বিগ্ন কৃষকরা। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার প্রায় ৮০/৯০ ভাগ জমিতে আমন চাষাবাদ শেষ হয়েছে। স্হানীয় কৃষকরা জানান অকাল বন্যার কারণে তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমি সহ পতিত জমি। নতুবা আগামী ৮/১০ দিনের মধ্যে শতভাগ রোপন শেষ হয়ে যেত জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।বন্যায় নিম্নভূমিতে রোপিত রোপা আমন ধানের জমিতে প্রায় ৫/৬ ফুট পানি হবে।কোথাও কোথাও ৭/৮ ফুট পানি হবে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুর রাজ্জাক জানান,উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৯ হাজার ৯ শত ৭০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যা আমাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী রোপণ হওয়ায় আমরা খুশি। কোম্পানীগঞ্জে কত হেক্টর রোপা আমনের ধান রোপণ করা হয়েছে প্রশ্নের জবাবে বার বার এরিয়ে গিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুর রাজ্জাক প্রতিবেদককে বলেন,রোপা আমন চাষকৃত জমি বন্যায় তলিয়ে গেলেও সমস্যা নাই।বি আর ২২ ও ২৩ এবং ব্রি ধান ৫১ ও ৫২ পানির নিচে ১৫ দিন তলিয়ে থাকলেও কোনো সমস্যা হয় না।তাছাড়া আমাদের লক্ষ মাত্রা ছিলো ৯ হাজার ৯ শত ৭০ হেক্টর। সেহেতু ১ হেক্টর হলেও বেশী রোপণ করা হয়েছে।সেক্ষেত্রে মনে করি লক্ষ মাত্রার বেশীই রোপা আমনের চাষ হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন,ইতোমধ্যে যে গুলো পচে গেছে সেই সব জমিতে ধান রোপণের আর কোনো সময় নাই। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কোনো ভূর্তকি দেওয়া হবে কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,বীজতলা রোপণের সময় অনেককেই দিয়েছি, ২৭ জন কৃষককে ৪২ হেক্টর জমিতে চাষের জন্যে বীজ দিয়েছি।তাছারা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখন রোপা আমন চাষের সময় নেই। সেপ্টম্বরের ১৫ তারিখের মধ্যে রোপা আমনে রোপণ করতে হয়। উপজেলার কৃষক জহিরুল, রমজান আলী, সবুর মিয়া, মঞ্জিল মিয়া, জাহের মৃধা ও এনামুল হক জানান, এই বন্যায় আমাদের নিচু জমিতে রোপণ করা ধান পচে গেছে।আবার অনেক জমি ছিলো যা আগামী ৮/১০ দিনের মধ্যে রোপণ শেষ হতো। চলতি বছর বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় আমন আবাদ বাধাগ্রস্হ। আরো কয়েকজন কৃষক জানান, বিভিন্ন বিলের (জলাশয়) আশে পাশের ক্ষেতের জমিতে উর্বরা শক্তি ও পলি মাটির পরিমাণ বেশি থাকায় পরিশ্রম ও খরচ কম ফসল বেশি হয়। এই বছর বেশি ফসল উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাধারণ কৃষকগণ। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অনবরত বৃষ্টির পরিমাণ ও বন্যার পানি অত্যাধিক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। (সি/স-২৬ সেপ্টেম্বর-তা/ই) Download News PhotoCard SHARES প্রচ্ছদ বিষয়: