সাংবাদিকের সহযোগীতায় ২০ বছর পরে আসমা এখন মা বাবার বুকে Desk Desk News প্রকাশিত: ৮:২০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০২০ সিলকো ডেস্ক:-২০০১ সাল, আজ থেকে ২০ বছর আগে পরিবারের সঙ্গে চট্টগ্রামে গিয়ে হারিয়ে যায় আসমা নামের শিশুটি। রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে বাসায় কাজ দেন জনৈক ব্যক্তি। একদিন মারধর করলে আসমা আবার রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। নিজের বাড়ি ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নড়াই গ্রামে’ এটুকুই মনে আছে আসমার। এই তথ্যের সূত্রধরে একজন সাংবাদিকের সহযোগিতায় নিজের শেকড় খুঁজতে থাকে আসমা। অবশেষে দীর্ঘ ২০ বছর পর খোঁজ পেলো নিজের পরিবারের। রবিবার দুপুরে নোয়াখালী পৌরসভার কনভেনশন হলে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জোহরা খাতুন আসমাকে তার মা, ভাই ও বোনের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহিদ উল্যাহ খান সোহেল, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, আসমার আশ্রয়দাতা লালন-পালনকারী ফাতেমাতুজ জোহরা সীমা, মনোয়ারা বেগম, জেলা টেলিফোন বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা ফরহাদ কিসলু, সংবাদিক মেজবাহ উল হক মিঠুসহ উপস্থিত অতিথিরা আসমাকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেন। সাংবাদিক মেজবাহ উল হক মিঠুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নোয়াখালী পৌর মেয়র শহিদ উল্যাহ খান সোহেল, বিশেষ অতিথি জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ। হারিয়ে যাওয়া আসমা উপাখ্যান: বাংলা সিনেমার গল্পকেও হার মানিয়েছে আসমার এই গল্প। আজ থেকে ২০ বছর আগে ২০০১ সালে চট্টগ্রামে হারিয়ে যায় শিশু আসমা। এক পরিবার তাকে বাসায় কাজ করাতে নিয়ে যায়। একদিন মারধর করলে সে আবার রাস্তা বেরিয়ে পড়ে। পরে নোয়াখালীর জনৈক ফেরদৌসী কান্নারত আসমাকে কয়েকদিন নিজের হেফাজতে রাখেন। কিন্তু কোনো আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ না পেয়ে নিজের এলাকা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুরে নিয়ে আসেন। তারপর থেকে আসমা পাঁচ বছর ছিল নোয়াখালীর টেলিফোন বিভাগের কর্মকর্তা ফরহাদ কিসলুর বাসায়। এরপর আরো দুই বাসায় আরো ছয় বছর থেকে পুনরায় ফরহাদ কিসলুর বাসায় ফিরে যায় আসমা। ফরহাদ কিসলুর সহধর্মিণী ফাতেমা জোহরা সীমা তার বাবার বাড়ি একলাশপুরে পাঠিয়ে দেন আসমাকে। তখন সীমার বাবার বাড়িতে ঘর নির্মাণের কাজ চলছিল। ওইসময় আসমার সঙ্গে এক নির্মাণ শ্রমিকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে তারা পালিয়ে চট্টগ্রাম চলে যায়। সেখানে বিয়ে করে তিন বছরের দাম্পত্য জীবনে একটা কন্যা সন্তানের মা হয় আসমা। সুখে দুঃখে কাটে তার সংসার। হঠাৎ তার স্বামী বিদেশ চলে যাওয়ায় আবার নোয়াখালীতে ফিরে আসে আসমা। আশ্রয় নেয় ফরহাদ কিসলুর বাসায়। সেখান থেকে নিজের জীবনের শেকড়ের খোঁজ পাওয়ার জন্য ফরহাদ কিসলুর সহধর্মিণী সীমা স্থানীয় সাংবাদিক মেজবাহ উল হক মিঠুর সহযোগিতা চান। কিন্তু নিজের বাড়ি ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নড়াই গ্রামে’, শুধু এটুকু তথ্য জানে আসমা। এর সূত্র ধরে সাংবাদিক মিঠু ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগরের বিটিভি ও ইত্তেফাক প্রতিনিধির মাধ্যমে তৃতীয়বারের প্রচেষ্টায় খুঁজে পান আসমার পরিবারকে। পরে চলতি বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর ইমুতে ভিডিও কলে কথা হয় আসমার মা, ভাইয়ের সঙ্গে। সে এক আবেগপূর্ণ দৃশ্য, আসমাকে দেখে তার মা, বোন ও ভাই আবেগ সংবরণ করতে পারেননি। এদিকে আসমারও যেনো মুখে কথা ফুটেনা। আসমার পরিবার ফিরে পাওয়ার নেপথ্য কারিগর ফাতেমাতু জোহরা সীমা ও সাংবাদিক মেজবাহ উল হক মিঠুর ভূমিকা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। (সি/স-৪অক্টোবর-তা/ই) SHARES প্রচ্ছদ বিষয়: