পাথর খেকুর তালিকায় কোম্পানীগঞ্জের ৪০ জন:তালিকায় নেই রাঘব বোয়ালরা

প্রকাশিত: ৫:৫৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০২১

সিলকো ডেস্ক:-সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ৪০ জন পাথরখেকোর তালিকা পুলিশের হাতে। সম্প্রতি ওই তালিকা তৈরি করেছে সিলেট জেলা পুলিশ। এর আগে ২০১৭ সালে কোম্পানীগঞ্জের শাহ্ আরফিন টিলা কেটে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনে জড়িত ৪৭ জন পাথরখেকোকে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

ওই বছরের ২৩ জানুয়ারি পাথর উত্তোলনের সময় মাটিচাপায় পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তখন ওই শ্রমিকদের লাশ গুম করতে পাথরখেকোদের সাথে স্থানীয় উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনেরও ভূমিকা ছিল বলে সিলেট জেলা প্রশাসন কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে আসে। আর সেই ৪৭ জনের তালিকার শীর্ষে ছিলেন চিকাডহর গ্রামের আইয়ুব আলী, শাহ আরফিন টিলা ট্রাজেডির মূলহোতা আঞ্জু মিয়া, সোহরাব আলী ও জালিয়ারপাড় গ্রামের ফয়জুর রহমান।

এবারের তালিকায় ৪০ জন পাথরখেকোর শীর্ষে রয়েছেন জালিয়ারপাড় গ্রামের হুশিয়ার আলী, কালা মিয়া, সোনা মিয়া, মনির মিয়া, আলী হোসেন, দেলোয়ার, বাবুল মিয়া, চিকাডহর গ্রামের গরীব উল্লাহ, আনফর আলী, আব্দুল হান্নান, ফিরোজ মিয়া, রাজু, বাবুল নগরের ইছনাত, পাড়ুয়া মাঝপাড়া গ্রামের হাছনু চৌধুরী, নারায়নপুরের সোহরাব আলী, আঞ্জু মিয়া, জব্বার, আব্দুল মিয়া, আব্দুর রহিম, গৌছ মিয়া, পাড়ুয়া উজানপাড়ার আব্দুল মালিক, কাঁঠালবাড়ির মোহাম্মদ আলী, শওকত, খায়েরগাঁওয়ের আলম মেম্বার, গৌখালেরপাড় গ্রামের রুস্তুম আলী, মোশাহিদ, আলী হোসেন, কলাবাড়ির বিল্লাল, রুয়েল, শাহাব উদ্দিন, নতুন বালুচরের কাজল সিংহ, ঢালারপাড়ের করম আলী, আলী আব্বাস, মরম আলী, এশাদ, কোম্পানীগঞ্জের আনোয়ার শামীম, আজিম, চাটিবহর গ্রামের আব্দুল্লাহ, তেলিখালের মাসুক।

পাথর সাম্রাজ্য খ্যাত সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলার আরও অনেক প্রভাবশালী পাথর ও বালুখেকোদের নাম নেই সেই তালিকায়। ওইসব এলাকাগুলোতে রয়েছেন অসংখ্য প্রভাবশালী পাথরখেকোরা। যারা ধ্বংস করে দিয়েছে টিলা, গ্রাম, রাস্তুাঘাট, কালভার্ট, মসজিদ, মন্দির এমনকি অন্যের বসতবাড়িসহ অসংখ্য সরকারি স্থাপনা।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ৪০ জনের ওই পাথখেকো চক্র কোম্পানীগঞ্জের শাহ্ আরফিন টিলাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। স্থানীয় প্রশাসনকে অনৈতিক ফায়দা দিয়ে দুর্বৃত্তরা অনেকটা প্রকাশ্যে পাথর উত্তোলন করে শাহ্ আরফিন টিলা থেকে। এই টিলায় পাথর উত্তোলন করতে গিয়ে অনেক শ্রমিককে প্রাণ হারাতে হয়েছে মাটি চাপা পড়ে। এসব মৃত্যুর কোনো বিচার হয়নি। কারণ পুলিশের খাতায় ওইসব মৃত্যুকে বলা হয় ’দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু’। পুলিশের আইনের ’ধারা’র মারপ্যাচে পরে নিহতের ঘটনায় বিচার হয় ৩০৪ ধারায়। কোম্পানীগঞ্জের পাথর কোয়ারিগুলোতে এই পর্যন্ত নিহত হওয়া শ্রমিকদের ওই ধারায় বিচার হওয়ায় রক্ষা পেয়ে য়াচ্ছে পাথরখেকো সম্রাটরা। ফলে তারা আরো বেপরোয়া হয়ে পাথর রাজ্যে তাদের হিংস্র থাবা চালিয়ে যাচ্ছে।

সৌজন্যে: দৈনিক বায়ান্ন
(সি/স-০৮ জানুয়ারী-তা/ই)