সাংবাদিক পেটুয়া মীর হোসেনের বিরুদ্ধে পাথর চুরির মামলা

প্রকাশিত: ৮:১০ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক:-শাহ আরফিন টিলা পাথর কোয়ারী,ভোলাগঞ্জ,লীলাইবাজার,নতুনবাজার, রোপওয়ে (বাংকার)ধলাই নদী, ১০ নং নৌকা ঘাট এলাকার আশেপাশে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন ও প্রকাশ্য চাঁদাবাজীর সাথে জড়িত সেই মীর হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের ৭ দিন পরে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।মামলা নং ১২।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১০ মে) ভোর ৫ টা ৪৫ মিনিটের সময় কোম্পানীগঞ্জ থানার টহল পুলিশ টিম কালাইরাগ নতুন বাজারে রক্ষিত চোরাই পাথর ভর্তি একটি টাক্টরের ড্রাইভার,মীর হোসেনসহ ৫/৬ জনকে ধাওয়া করে।সবাই পালিয়ে গেলেও বদরুল ও সুন্দর আলী নামের দুই পাথর চোরাকারবারিকে আটক করেন।পাথর বোঝাইকৃত ট্রাক্টর ও আটককৃত দুইজনকে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় নিয়ে যায়।আটক দুইজনকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।আটককৃতরা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন ভাটরাই গ্রামের মৃত মৌরস আলীর পুত্র সুরুজ আলী (৩৮), পাড়ুয়া মাঝপাড়ার মৃত উসমান আলীর পুত্র মীর হোসেন (৩০),কলাবাড়ি গ্রামের সিরাজ মিয়ার পুত্র রফিক মিয়া (২৪) ও একই গ্রামের আব্দুল গফুর মিয়ার পুত্র মনির মিয়া পাথর চুরির সাথে জড়িত।এজাহারভূক্ত অন্য প্রথম আসামী সুনামগঞ্জের দোয়ারা বাজার উপজেলার নোয়াগাও বেতুয়া গ্রামের আব্দুল হেকিমের পুত্র বদরুল আলম (৩৭),দ্বিতীয় আসামী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভাটরাই গ্রামের মৃত আরস আলীর পুত্র সুন্দর আলী (৪২)।

সূত্রে জানা যায়, মীর হোসেনসহ এজাহারভূক্ত অন্যান্য আসামীরা শাহ আরফিন টিলা পাথর কোয়ারী,ভোলাগঞ্জ,লীলাইবাজার,নতুনবাজার,
রোপওয়ে (বাংকার)ধলাই নদী, ১০ নং নৌকা ঘাট এলাকার আশেপাশে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন ও প্রকাশ্য চাঁদাবাজীর সাথে জড়িত। সম্প্রতি ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে বাংকারের মূল স্থাপনা ভেঙ্গে মাটি ক্ষুরে পাথর উত্তোলন করে আসছিল এই চক্রটি।

রোপওয়ে বাংকারের সংরক্ষিত এলাকায় আরএনবির সদস্যদের উপস্থিতিতেই গত ৩ মাস যাবত পাথর উত্তোলন করে আসছে এই চক্রটি। গত ১৫ এপ্রিল পাথর উত্তোলনকালে ঝড়ের কবলে পড়ে একজন শ্রমিক নিহতের ঘটনার পর থেকে বাংকারে নজরদারী বৃদ্ধি করে উপজেলা প্রশাসন।

থেমে নেই চাঁদাবাজরাও। পাথর উত্তোলনে প্রশাসনের নজরদারীতা বৃদ্ধি করায় পাথর লুটপাট ও চাঁদা আদায়ের কৌশল পালটায় তারা। পূর্বে দিনের বেলায় পাথর উত্তোলন করলেও প্রশাসনিক ঝামেলা এড়াতে এখন রাতের বেলায় পাথর উত্তোলন করে যাচ্ছে এই চক্রটি।রোপওয়ের স্থাপনা ভেঙ্গে রাতব্যাপী চলে তাদের পাথর উত্তোলন। ভোর হতে শুরু পাথর সরানোর কাজ।রোপওয়ের উত্তর পূর্ব দিকে সাড়ি সাড়ি নৌকা গুলোতে পাথর বহন করে নিয়ে যাওয়া হয় কালাইরাগ নতুন বাজারের পাশে।সেখান থেকে ট্রাক্টর দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন ক্রাশার মিল কারখানায় স্থানান্তর করে তারা।তবে বেশিরভাগ সময়ে নতুন বাজার থেকেই অন্য পার্টির কাছে অর্থের বিনিময়ে হাত বদল করে লুটকৃত এই সরকারী সম্পদগুলো।

উপজেলা প্রশাসনের চাপ থাকা সত্বেও থেমে থাকেনি পাথর লুটেরাদের দৌরাত্ম্য। গত ১০ মে ভোর ৫ টা ৪৫ মিনিটের সময় লুটকৃত পাথর পরিবহনের সময় কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ এসে বাগরা দেয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মীর হোসেনসহ অন্যরা পালিয়ে গেলেও দুই চাঁদাবাজ আটক হয়। পাথর লুটের ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানায় ৬ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হলেও থেমে মীর হোসেনদের দৌরাত্ম্য। তাদের রাতব্যাপী পাথর লুটের মৎসব দেখে মনে হয় যেন প্রশাসনকে চোখ রাঙ্গাচ্ছে তারা।

 

শুধু তাই নয়, স্থানীয় সংবাদকর্মীরা ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে এলাকায় লোটেরাদের পাথর লুটের চিত্র ধারণ করতে গেলে বিভিন্ন সময় হামলার শিকার হতে হয়।গত ১১ এপ্রিল স্থানীয় আলোকচিত্রী ফখর উদ্দিন ও সংবাদকর্মী আব্দুল জলিল রোপওয়ে এলাকায় সংবাদ সংগ্রহে গেলে মীর হোসেনের নেতৃত্বে একটি চাঁদাবাজ চক্র হামলা করে। তাদের হাতে থাকা মোবাইল ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হাতিয়ে নেয়। পরবর্তিতে আব্দুল আলীম নামের স্থানীয় আরেকজন সংবাদকর্মীর মধ্যস্থতায় হামলার ঘটনাটি সাময়িক সমাধান হয়।

তাদের হামলার ভয়ে সংবাদকর্মীরা রোপওয়ে এলাকা তথ্য সংগ্রহ করতে অপারগ।সেই সুযোগে আরএনবিকে ম্যানেজ করে প্রতিনিয়তই লুটপাট চলছে রোপওয়ের সংরক্ষিত এলাকায়।

রোপওয়ের নিরাপত্তায় প্রশাসন আরও কঠোর না হলে এবং চাঁদাবাজদের শিগ্রই গ্রেফতার করে আইনের আওতায় না নিলে বিরানভূমিতে পরিনত হয়ে যাবে হাজার কোটি টাকার এই রোপওয়টি।

স্থানীয় একজন মুক্তিযোদ্ধা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, মীর হোসেনের সাথে পুলিশের গভীর সম্পর্ক তাই তাই হয়তো সে গ্রেফতার হচ্ছে না।তাকে গ্রেফতার করলেই বন্ধ হয়ে যাবে চাঁদাবাজী। নিরাপদ থাকবে রোপওয়ে।কেননা অন্য যারা চাঁদাবাজী ও পাথর লুটপাট করতো গত ১৫ এপ্রিলে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলার আসামী হয়ে গা ডাকা দিয়েছে।তবে তারা গা ডাকা দিলেও তাদেরই প্রধান চেলা মীর হোসেন নিয়ন্ত্রণ করছে রাতের এই পাথর লুটপাটের সাম্রাজ্য।

(সি/স-১২ মে-তা/ই)