কোম্পানীগঞ্জে বিদ্যালয়ে রমরমা কোচিং বানিজ্য,জানে না শিক্ষা কর্মকর্তা

প্রকাশিত: ৯:১১ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২১

 

তারিকুল ইসলাম:-সরকারী নির্দেশনা অমান্য করে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান চালু রেখেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। করোনা সংক্রমণের ঝুকির মধ্যেও উপজেলার রাজনগর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩ শত শিক্ষার্থীকে নিয়ে গত বিশদিন ধরে পাঠদান চালু রেখেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক সফিকুল ইসলাম।শফিকুল ইসলামের দাবী করোনায় শিক্ষকদের বেতন ভাতা বন্ধ থাকায় খুব কষ্টে আছি তাই বিদ্যালয় চালু করেছি । তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয় চালু করিনি। শুধুমাত্র কোচিং করানো হচ্ছে।

রবিবার ২৭ শে জুন সকাল ১১ টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ছোট ছোট ৫টি শ্রেণীকক্ষে গাদাগাদি করে শিক্ষার্থীরা বসে আছে।সামনের প্রধান টেবিলে হাজিরা খাতায় উপস্থিতি ডাকছে শ্রেণী শিক্ষক।তবে ছাত্র-শিক্ষক কারো মুখেই মাস্ক ছিলনা তখন।ছিলনা কোনো সামাজিক দূরত্ব। একটা টেবিলে ৫/৬ জন শিক্ষার্থী বসে আছে।

কথা হয় শ্রেণী শিক্ষক আব্দুল জলিলের সাথে, তিনি বলেন এসাইনমেন্ট নিচ্ছি।কিন্তু শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, গত বিশদিন যাবত বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে।প্রতিদিন ৭/৮টা ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদিউজ্জামান বলেন,পূর্বের মতো ক্লাস নেওয়া যাবেনা। শুধুমাত্র এসাইনমেন্ট নেওয়া যাবে।তবে এসাইনমেন্ট নেওয়ার সময় অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।সরকারতো বলেছে দুই/তিন ফুট দূরত্ব মানতে কিন্তু কেউ কি মানে? তবে রাজনগর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর বিষয়টা আমি জানি না।আমি প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে বিষয়টি জেনে আপনাকে জানাচ্ছি।

পরবর্তিতে আবারও যোগাযোগ করলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদিউজ্জামান বলেন,আমি শফিকুলকে ধমক দিয়েছি।সে বলেছে আর এইরকম করবেনা।তিনি আরও জানান,সরকারী নির্দেশনা অমান্য করে পরবর্তিতে পাঠদান চালু করলে তার বির“দ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ আনোয়ার সাদত বলেন,বিদ্যালয়ে পাঠদান চালু রাখার বিষয়টি আমি দেখতেছি। সারা দেশে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ কিন্তু সেখানে কিভাবে চালু করেছে তা আমি খতিয়ে দেখতেছি।

উল্লেখ্য করোনা মহামারির কারণে গত বছরের ১৮ই মার্চ থেকে দেশের সবকয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে সরকার বিকল্প পন্থা অবলম্বন করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ্যাসাইমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করছে। কিন্তু সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে এ্যাসাইমেন্টের দুহাই দিয়ে উপজেলার রাজনগর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩শত শিক্ষার্থীকে করোনার ঝুঁকিতে ফেলে পাঠদান ও কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠান প্রধান শফিকুল ইসলাম।

(সি/স-২৭ জুন-তা/ই)