ইসলামপুর পশ্চিম ইউপি নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ

প্রকাশিত: ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৩১, ২০২২

 

তারিকুল ইসলাম:-সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ১নং ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও মেম্বারদের প্রচার-প্রচারণা শেষ। রাত পোহালেই নির্বাচন।

এদিকে মাঠে রয়েছে আওয়ামীলীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী আলকাছ আলী, বিএনপি স্বতন্ত্র প্রার্থী এখলাছুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন চরমোনাই সমর্থিত মহিউদ্দিন আল মামুন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুল ওয়াদুদ, ফরহাদ হোসেন, মজনু মিয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাজী জিয়াদ আলী, হানিফ মিয়া, মোহাম্মদ আলীসহ ৯ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। এদের মধ্যে দুই চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হানিফ মিয়া ও মোহাম্মদ আলীর নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা বন্ধ রয়েছে। নির্বাচনে তাদের পক্ষে কোনো পোস্টার কিংবা লিফলেট বিতরণ করতে দেখা যায়নি। ধারণা করা যাচ্ছে নির্বাচনী কৌশল হিসেবে অন্য দুই প্রার্থী মজনু মিয়া ও হাজী জিয়াদ আলীর পক্ষে ডামি প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন তারা।

৯টি ওয়ার্ডে ৪১ জন মেম্বার, ১৩ জন সংরক্ষিত প্রার্থীর মধ্যে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের মাঠে দ্বিতীয় বারের লড়াই করছে মজনু মিয়া ও এখালাছুর রহমান। গত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন তারা। গত নির্বাচনে মজনু মিয়া বর্তমান চেয়ারম্যান শাহ জামাল উদ্দিনের সাথে লড়াই করে ২য় হয়েছিলেন। এবারের আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু নতুন মুখ ব্যবসায়ী থেকে সরাসরি নির্বাচনের মাঠে নৌকা প্রতিক নিয়ে ভোটের মাঠে লড়ছেন হাজী আলকাছ আলী। নতুন মুখ ও ক্লিন ইমেজধারী হলেও ইউনিয়নে সাধারণ ভোটারদের মাঝে তেমন সারা জাগাতে পারছেন না বলে জানান নৌকা সমর্থক রুহুল আমিন । ইউনিয়নের দানশীল ব্যাক্তি খ্যাত জিয়াদ আলীর নির্বাচনী মাঠে স্বজ্জন আলকাছ আলীকে ইউনিয়নের ভোটাররা অনেকটা আনারি খেলোয়াড় মনে হলেও প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীদের সাথে নির্বাচনে কেমন লড়াই করবে সেই ফলাফল আগামীকাল জানা যাবে। আলকাছ আলী একমাত্র ভোট ব্যাংক ৭ নং ওয়ার্ড। অন্য দুই চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধি এখলাছুর রহমান ও ফরহাদ হোসেন সম্পর্কে নিকটাত্মীয়। ফরহাদ হোসেন ও আলকাছ আলী সম্পর্কে তারা আপন শ্যালক-ভগ্নিপতি এবং আলকাছ আলী ও এখলাছুর রহমান আপন খালাতো ভাই। ধারণা করা হচ্ছে আত্মীয়তার সূত্রে আলকাছ-ফরহাদ-এখলাছের একই ভোট ব্যাংকে নিজেরা নিজারা ভাগাভাগির সুযোগে লম্ফঝম্প দিতে পারে জিয়াদ আলী। তবে জিয়াদ আলীকে নির্বাচনী জয় ছিনিয়ে নিতে প্রধান বিপত্তি হতে পারে আরেক শক্তিশালী প্রতিদ্বন্ধি মজনু মিয়া। ইউনিয়নের ৯ ওয়ার্ডের মধ্যে ২ নং ও ৩ নং ওয়ার্ডেই রয়েছে প্রায় ৮ হাজার ভোট। এই দুইটি ওয়ার্ডই মজনু মিয়ার প্রধান ভোট ব্যাংক। এছাড়াও সদর ১ নং ওয়ার্ডেও রয়েছে মজনু মিয়ার যথেষ্ট ভোট। ধারণা করা হচ্ছে গতবারের প্রতিদ্বন্ধি মজনু মিয়া এবারও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্ধিতা গড়তে প্রস্তুত। তবে রাজনৈতিক সব কৌশলকে উলটে দিতে প্রস্তুত জিয়াদ আলী। ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডেই রয়েছে তার যথেষ্ট ভোট। জিয়াদ আলীর প্রধান ভোট ব্যাংক ১ নং, ২ নং, ৪ নং, ৫ নং ৬ নং ও ৯ নং ওয়ার্ড। ভোটের মাঠে সাধারণ ভোটারদের একটি জরিপে দেখে যায় ১,২,৩,৪ ও ৯নং ও ওয়ার্ডসহ ৫ টি ওয়ার্ডে জিয়াদ আলীর যথেষ্ট ভোট ব্যাংক রয়েছে। এছাড়াও তার দীর্ঘদিনের প্রধান কর্মএলাকা ৯ নং ওয়ার্ডে রয়েছে যথেষ্ট জনপ্রিয়তা। যদি ৫টি ওয়ার্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারদের রায় পেয়ে যায় জয়মাল্য জিয়াদ আলীই পড়তে পারেন। চেয়ারম্যান পদে আরেক শাক্তিশালী প্রার্থী ফরহাদ হোসেনের ব্যাক্তি ইমেজ ও পৈতৃক রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ভোটারদের কাছে যথেষ্ট জনপ্রিয়তা রয়েছে তার। নিজ ভোট কেন্দ্র ৮ নং ওয়ার্ডে রয়েছে তার একক আধিপত্য। এছাড়াও ভোটের মাঠে ৯ নং ওয়ার্ডে অন্য ৬ প্রার্থীর তুলনায় ফরহাদ হোসেন অনেকটা এগিয়ে। ৩ নং ওয়ার্ডেও রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। ধারণা করা হচ্ছে ৩নং ওয়ার্ডে মজনু মিয়ার ভোট ব্যাংকে হানা দিতে পারে ফরহাদ হোসেন। এছাড়াও প্রতিটি ওয়ার্ডেই রয়েছে ফরহাদ হোসেনের যথেষ্ট সমর্থক। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধি মজনু মিয়াকে নিয়ে ফরহাদ হোসেন ও জিয়াদ আলীর মাথা ব্যাথা। প্রাথমিক জরিপে ধারণা করা হচ্ছে জিয়াদ আলী-ফরহাদ হোসেন-মজনু মিয়ার মধ্যে মূল লড়াই হবে। এদিকে উপজেলা বিএনপি নেতা এখলাছুর রহমান নিজ ওয়ার্ড ৫ নং এ ভোট ভাগাভাগি করবে জিয়াদ আলীর সাথে। তবে নিজ ওয়ার্ডে সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন তিনি। ৫ নং ওয়ার্ডে নৌকা প্রতিক প্রাপ্ত আলকাছ আলীও ভোট নিতে হানা দিতে পারে। ৬ নং ওয়ার্ডে পূর্বের ন্যায় এই বছরেও আধিপত্য ধরে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে এখলাছুর রহমানের। অন্য দুই চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী চশমা প্রতিক প্রাপ্ত আব্দুল ওয়াদুদ ও হাতপাখা প্রতীকপ্রাপ্ত মহিউদ্দিন আল মামুনের অবস্থা তেমনটা সুবিধাজনক না থাকায় ধারণা করা যাচ্ছে জিয়াদ আলী-ফরহাদ হোসেন-মজনু মিয়া এই তিনের মধ্যেই চেয়ারম্যান পদে মূল লড়াই জমবে। কে হচ্ছে আগামী পাঁচ বছরের চেয়ারম্যান? তা নিশ্চত করতে রাত পোহালেই ভোটাররা ছুটে যাবে নিজ নিজ ভোট কেন্দ্রে।

শনিবার (২৯ জানুয়ারি) দিনগত মধ্যরাতে শেষ হয়েছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট দিবে ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের ভোটাররা।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে ১২টি ভোটকেন্দ্রের সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট চলবে।

প্রথমবারের মতো ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোট হবে। ১নং ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদে ২৯ হাজার ৬ শত ৯৪ জন ভোটার রয়েছে।

প্রতিটি ভোট কক্ষে ১টি করে ১টি ইভিএম মেশিন থাকবে। এছাড়াও প্রতিটি কেন্দ্রে ৫টি করে মোট ৬০ টি অতিরিক্ত ইভিএম মেশিন থাকবে বলেও জানান ১নং ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এহসানুল কবির ফেরদৌস

তিনি আরও জানান, কোনো কারণে ইভিএম মেশিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প ইভিএম মেশিনে ভোট হবে।