জৈন্তাপুরে ডালিম ভেবে দাফনকৃত সম্ভুর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে শের তারিকুল শের তারিকুল ইসলাম প্রকাশিত: ১০:০৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ১১, ২০২২ জৈন্তাপুর প্রতিনিধি:-সিলেটের জৈন্তাপুরে দাফন হওয়া শম্ভু দেবনাথের মরদেহ কবর থেকে উত্তল করা হয়েছে। আজ শুক্রবার ১১মার্চ বেলা ১২ টায় উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের পশ্চিম ঠাকুরের মাটি কবরস্থান থেকে তার মরদেহ উত্তলন করা হয়। এসময়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল বশিরুল ইসলাম, মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম দস্তগীর আহমদ, এসআই কাজী শাহেদ, ইউপি সদস্য অহিদুর রহমান, শরিফুল ইসলাম,কবরস্থান উন্নয়ন কমিটি সভাপতি হাফেজ আব্দুল মুছাব্বির ফরিদ, সাধারণ সম্পাদক আকমল হোসেন চৌধুরীর সহ সম্ভু দেবনাথের পরিবারের সদস্য বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এবিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম দস্তগীর আহমদ বলেন মরদেহ ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে ডিএনএ স্যাম্পুল সংগ্রহ শেষে সম্ভুর পরিবারের কাছে তার মরদেহ হস্থান করা হবে। পৃথক দুটি ঘটনায় বেশ কয়েকজন থানায় জিজ্ঞাবাদ কর হয়েছে,ঘটনার রহস্য উদঘাটনে আমাদের একাদিক ইউনিট কাজ করছে। উল্লেখ্যঃ পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানাযায় শনিবার (৫ মার্চ) উপজেলার ঘাটেরচটি এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে রাজমিস্ত্রী ডালিম আহমদ (২২) কাজে গিয়ে নিখোঁজ হন। সোমবার (৭ মার্চ) উপজেলার ঘাটেরচটি এলাকায় তারেক হাজির মৎস্য খামার থেকে ভাসমান অবস্থায় পরিচয়হীন মরদেহ উদ্ধারকালে এটি নিখোঁজ ডালিমের মরদেহ বলে দাবি করেন স্বজনরা। পুলিশও নিখোঁজের পরিবারের কথায় বিশ্বাস করে ময়না তদন্ত শেষে মরদেহ হস্তান্তর করে। এরপর ইসলামিক রীতি অনুসারে তার জানাজার নামাজ এবং দাফনও করা হয়। দাফনের পর জানা গেলো খুন হওয়া যুবকটি ছিলেন সনাতন ধর্মাবলম্বী। তার নাম শম্ভু দেবনাথ (২৪)। তিনি কানাইঘাট উপজেলার লামা ঝিঙ্গাবাড়ির শৈলেস চন্দ্র নাথের ছেলে। শুক্রবার (৪ মার্চ) গরু চরাতে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন। এ ঘটনায় পরদিন শনিবার (৫ মার্চ) তার মামা সেনানীবাস সংলগ্ন চোয়াবহর গ্রামের বাসিন্দা পরিমল দেবনাথ সিলেট নগরীর শাহপরাণ (র.) থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। তাহলে যাকে দাফন করা হলো-সে কে? এমন ঘুরপাকে পড়ে শুরু হয় ডালিমের সন্ধান। মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও জৈন্তাপুর থানা ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কর্মকর্তারা থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন আশপাশের এলাকা খোঁজে দেখতে। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশ ডালিমের খোঁজে বের হয়। এরপর রাত ২টার দিকে ঘাঠেরচটি নায়াটিলা জামে মসজিদ সংলগ্ন একটি কৃষি জমিতে মাটি চাপা অবস্থা গলাকাটা ডালিমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ,ঘটনাস্থলে ডালিমের ফিঙ্গার ম্যাচ করে সনাক্ত করে এটাই ডালিমের মরদেহ। এ ব্যাপারে সিলেট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. লুৎফর রহমান গণমাধ্যমেকে বলেন, মৎস্য খামার থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি ছিল শম্ভু দেবনাথের।আমরা তা পরে নিশ্চিত হতে পেরেছি। কিন্তু ডালিমের স্বজনরা মরদেহটি ডালিমের দাবি করে ময়না তদন্তের পর নিয়ে দাফন করেন। মরদেহ পচে গলে যাওয়ায় সনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না। কেবল ধারণা থেকে তারা সেটি ডালিমের মরদেহ বলে দাবি করেছিলেন। তবে হাউজিংয়ের জমি থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহ রাজমিস্ত্রী ডালিম আহমদের। উভয় মরদেহ সনাক্ত হয় ফিঙ্গার প্রিন্টে। Download News PhotoCard SHARES গণমাধ্যম বিষয়: