কোম্পানীগঞ্জে বাসায় ডেকে এনে যুবক খুন: একজন আটক শের তারিকুল শের তারিকুল ইসলাম প্রকাশিত: ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ, মে ১২, ২০২২ সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে বাড়িতে ডেকে এনে পরিকল্পিত ভাবে যুবককে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার আমেরতল গ্রামে এই ঘটনা ঘটে । নিহত শাহ আলম (৩৫) নতুন জীবনপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলীর পুত্র। খুনের পর লাশটি পার্শ্ববর্তী হিংগি ডিবি বিলের ( চেপ্টা বিল) পানিতে হাত-পা বেধে গুম করে রাখেন। এ ঘটনায় আছমা বেগম (৩০) নামে এক মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে আটক করা হয়। আটকের পর হত্যার বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেন। সে জানায় হত্যাকাণ্ডে তার স্বামী এখলাছ সহ ৪ জন অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু লাশ কোথায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে তা জানেনি বলে জানায়। কি কারনে তাকে হত্যা করা হয়েছে এ বিষয়ে কিছুই বলেনি সে। স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১০ মে) দিবাগত রাত ১১ টা থেকে ১২ টার মধ্যবর্তী সময় এখলাছ মিয়ার ঘরে শাহ আলম হাত পা বেধে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর লাশ গুম করার জন্যে পার্শ্ববর্তী হিংগি ডিবি বিলে ( চেপ্টা বিল) নেওয়ার সময় ইয়াকুব মিয়া নামে এক যুবক সব কিছু দেখে ফেলে। তারা প্রত্যক্ষদর্শী ইয়াকুবকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করলেও ইয়াকুব কৌশলে পালিয়ে এসে নিহতের পিতা মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলীকে জানান। হাতেম আলী সহ কয়েকজন নিহতের লাশ উদ্ধারে এখলাছুরের বাড়িতে গেলেও লাশ সহ হত্যাকারীদের খুজে পায়নি। তখন এখলাছুরের ঘরে নিহতের রক্ত দেখতে পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেন তারা। সারারাত বিভিন্ন জায়গায় লাশ খুজলেও পাওয়া যায়নি। সকালে পুলিশ সহ স্থানীয়রা লাশ উদ্ধারকাজে অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘ সময় খোজাখুজির পর বিকাল চারটায় ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে হিংগি ডিবি বিলের ( চেপ্টা বিল) পানিতে হাত পা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধারের পরে এলাকায় শোকেরমাতম শুরু হয়। অনেকে হত্যাকারীদের বাড়িতে হামলার জন্যে উদ্যত হলেও পুলিশ তাদের নিয়ন্ত্রণ করেন। ঘটনার পরপরই হত্যাকারীরা গা-ঢাকা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শী ইয়াকুব মিয়া জানান, রাত বারটা থেকে সারে বারটার সময় মৃত ফুল মিয়ার পুত্র এখলাছুর মিয়া,আবুল হোসেনের পুত্র জাকির, এখলাছুরের ভাগ্না তাজুল ও তার বোন জামাই আলা উদ্দিন নিহতের লাশটি বাড়ির বাইরে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় হত্যাকারী তাকে দেখে ফেলায় সে প্রাণভয়ে পালিয়ে এসে নিহতের পিতাকে বিষয়টি অবগত করেন। লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সুকান্ত চক্রবর্তী। সন্দেহভাজন একজন মহিলাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার খবর পেয়ে সিলেট জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) শাহরিয়ার আলম,সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার প্রবাস কুমার সিংহ,জেলা গোয়েন্দা ওসি (উত্তর) রেফায়াত আহমদ চৌধুরী,কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সহ পুলিশের একাধিক সদস্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন Download News PhotoCard SHARES গণমাধ্যম বিষয়: