মুহাম্মদ জাবেদ আলী’র কবিতাগুচ্ছ Desk Desk News প্রকাশিত: ৭:০৬ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২০ চাষির দিন রোদ সরে ছায়া পড়ে বায়ু বয় পাতা নড়ে হেথা সারাবেলা ধরে, রোদ ছায়া খেলা করে পাখি ওড়ে ডানা মেলে, নিচে তার ছায়া ফেলে আলো মাখা দিন দেখে চাষিদেহে রোদ মেখে মাঠে মাঠে ধান তোলে মুখে জারি গান তোলে ঘেমে নেয়ে একাকার সোনা দেহখানি তার মেঘে মেঘে বেলা বাড়ে কাটা ধান তুলে ঘাড়ে- চাষি ভাই ঘরে আসে চোখেতে স্বপন ভাসে চাষি বউ হেসে হেসে নথ নেড়ে ভালবেসে রিনিঝিনি চুড়ি বাজে সময়ের ভাঁজে ভাঁজে দিন যায় রাত আসে সুখ পাখি আসে না সে ; আশা নিয়ে মনো মাঝে চাষা-চাষি বেঁচে আছে । স্বাবলম্বী দিন যায় দিন থেমে থাকে না, না খেলেও কেউ খোঁজ রাখে না । হাত তুলে বসে থেকে কী হবে ? কিছু ভাল উপদেশ দি তবে । হাত আছে পাও আছে আর কী, নাই নাই বলে কেন ছাড় দি ! ছাড় দিলে দিলে সুখ পাবে না, অলসতা করে দুঃখ যাবে না । শুয়ে-বসে ভেবে ভেবে তবে রে, কাঁদলে যে কাঁদতেই হবে রে । তারচেয়ে কাজ কর মন দি, সময়কে করে ফেলো বন্দি । কেডা দিবে জব কিবা চাকরি, সনদটা উনুনের লাকড়ি ! ওটা নিয়ে ঘুরে ঘুরে পাবে কী ? পাপসের তলা ক্ষয়ে যাবে ছিঃ । দুঃখ দেখে সুখে কেউ হাসবে, তুমি শুধু একা দুঃখে ভাসবে । তারচেয়ে লেগে যাও কাজেতে, দোয়া করি কাজ করে যা জেতে । কোন কাজ দুনিয়াতে ছোট না, এইবার বড়ো হতে ওঠো না । মন দিয়ে প্রাণ দিয়ে যারা রে, কাজ করে ফল পায় তারা রে । বাদাম বা শসা বেচো বাজারে, একদিন হবে সুখী রাজা রে ! সেইদিন সুখ দেখে সকলে, চোখ গিয়ে উঠে যাবে কপালে ! নিজে কর নিজ জীবন দাঁড় করালে নিজে, ভাবো তখন লাগবে মজা কি যে ! পরের বোঝা হওয়া সোজা জেনো, হাত রয়েছে ভাবছো তুমি কেনো ! বুদ্ধি আছে সেটা খাটাও যদি, তোমার জন্য রেডি চেয়ার গদি । তুমিই হবে লাখো জনের সেরা, দেখবে সবে সুখের সাথী এরা । তোমার মতে তোমার পথে সবে, তোমার মত সেরা মানুষ হবে । চাইবে না’ক চাকরি করা আর, স্বপ্ন দেখবে উঁচিয়ে তোলে ঘাড় । তখন কেহ না খেয়ে আর অন্ন, কাঁদবে না’ক হা-ভাতেরও জন্য । বেকার তুমি ভাবছো কেনে মিছে, ঘুরছো কেন মিথ্য মায়ার পিছে ! যার যা আছে সেটাই তো তার সব, আমরা দেবো সব বেকারের জব । হালাল খেয়ে ফুসের ঘরে থেকে, বলবো খোদা ধন্যবাদ আজ থেকে । চাকরি ও চাকর চাকরির পিছে ঘোর কেন মিছে বোকা যুবকের দল, কে দিবে চাকরি লাখো বেকারের মাঝে বল দেখি বল । একপদ খালি দেখলে পেপারে লাখো শিক্ষিতেরা মিলে, চলে খাবলা-খাবলি কে খাবে কবে যে টাকা দিয়ে গিলে । হাজার হাজার বাড়ছে বেকার চাকরি কোথায় পাবো, নিজের চিন্তা বাদ দিয়ে তাই দেশকে নিয়েও ভাবো । চাকরি চাকরি নাইরে চাকরি চাকরি কোথায় কও! নিজের উপর ভরসা রাখিয়া নিজে উদ্যোক্তা হও। চাকর হওয়া কি গর্বের বিষয় পরাধিন হয়ো না, শিরদাঁড়া আছে পক্ষী শাবকের মতন চেয়ে রয়ো না । চারিদিকে শুধু দাও আর দাও কারে দিবে সরকার, তুমি পেলে দেশ সেবার ভার কি হত ভাবা দরকার। পারতে কী তুমি ঘরে ঘরে দিতে এত সরকারি জব, রাজি হলে চলো জনগণ মিলে তোমারে বানায় গভঃ । একদল ভুগে একদল সুখে সাক্ষী বহমান কাল, যারা পরিশ্রমী যুগ যুগ ধরে এনেছে সুখের সকাল। সেই সত্য যুগে চাকরি করাকে বড়ো ঘৃণ্য মনে হত, মনে করো আজ সত্য যুগ নিজ কাজে নিজে হও রত । এক্সাম্পল অফ লাভ ভালবাসা বুঝে চড়ুই’র বউ ছোট এক পাখি, বুক ভরা প্রেমে নেই সন্দেহ নেই কোন ফাঁকি । বউটি যে ডিমে বসে রাতদিন খানাপিনা ভুলে, স্বামীটি খাবার এনে বউয়ের মুখে দেয় তুলে ! আকাশের চাঁদ ভালবাসা বুঝে তাই জেগে থাকে, জোছনা বিলায় জোনাকির সাথে রাত আলো মাখে, সেই কবে থেকে আলোক ছড়ায় রাত প্রেমা চাঁদ, এত ভালবাসে তবু হয়’নাক সে কভু অবসাদ । মাটি ভালবেসে বিষ্টির জল মেঘ হয়ে ঝরে, পানির পরশে গলে যায় মাটি প্রেম জাগে ধরে । জল পড়ে ভূঁয়ে শস্যক্ষেতে জুড়ে পড়ে যায় সাড়া, জল পেয়ে মাটি হয় পরিপাটি খুব খুশি তারা । ভালবাসা বুঝে পাথারের ঢেউ ছুটে চলা নদী, নেই অবসাদ মানে না তো বাঁধ ছুটে নিরবধি । মহাকাল থেকে চলে এঁকেবেঁকে দেখা হলে পড়ে, সবকিছু ভুলে সায়রের বুকে সোজা ঢলে পড়ে । প্রজাপতিদল ভালবাসে ফুল উড়ে ফুলে ফুলে, মধু পান করে যেথা খুশি সেথা ঘুরে দুলেদুলে । ভালবাসাবাসি ছোঁয়া হাসাহাসি ফুলপরী ফুলে, থাকলেও ঘোরে না থাকলে ঘুরে যায় না’ক ভুলে! ওরা বোঝে সবে কোন কালে কবে ভালবাসি বলে, মরেছে করেছে দিয়েছে জীবন ধরনীর তলে । তবুও আমরা তাদের শেখার উদাহরণ দিই, সৃষ্টির সেরা মানব হয়েও ওদের দীক্ষা নিই ! মানুষ অথচ অমানুষ হয়ে মনুষ্যত্ব ভুলি, ভালবাসি বলে বুকে টেনে নিয়ে বুকে করি গুলি ! ভুঁয়া ভালবাসা ভুঁয়া প্রেম আশা মানুষের মাঝে, শিরায় শিরায় ইবলিস ঘোরে হাসে আর নাচে । (সি/স১৯ জুন-তা/ই) SHARES সাহিত্য বিষয়: