কোম্পানীগঞ্জে বিদ্যালয় ভবনের টিন খুলে নিলেন আরেক ঠিকাদার: অতঃপর ?

প্রকাশিত: ৬:০৫ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০২২

 

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে বিদ্যালয় উদ্বোধনের প্রায় দের বছর পর চালার টিন খুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। উপজেলার উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের রোববার (৮মে) দীঘলবাকেরপাড়-ফেদারগাও উচ্চ বিদ্যালয়ে দিনের কোনো এক সময়
এ ঘটনা ঘটে।

উপজেলার দীঘলবাকেরপাড়-ফেদারগাও উচ্চ বিদ্যালয়ের নব নির্মিত তিন রুম বিশিষ্ট আধাপাকা ভবনের চালার টিন খুলে নিয়েছে এমএইচটিসি-এমএকেসি কন্সট্রাশনের মালিক অমল কান্তি চৌধুরীর পক্ষের লোকজন। বিদ্যালয়ের টিন খুলে নিয়েছে বলে জানান স্থানীয় যুবলীগ নেতা আনসার আলী। ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় কর্তক ববরাদ্দকৃত ৪ কোটি টাকা ব্যায়ে দীঘলবাকেরপাড়-ফেদারগাও উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড আস্রায়ন প্রকল্পের নব নির্মিত চার তলা ভবন নির্মাণ করেন অমল কান্তি চৌধুরী। এর পাশেই ছিল বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে দীঘলবাকেরপাড়-ফেদারগাও উচ্চ বিদ্যালয়ের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তের জন্যে এলএসপি-৩ থেকে ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা যার কোটেশন মূল্য ৬ লক্ষ ৪৯ হাজার ৯৯৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাগজে কলমে সে অনুযায়ী ভবনের অসামপ্ত কাজ সম্পন্ন করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সুহিন কইন্সট্রাকশনের মালিক সুহেল আহমদ।

ভবনটি উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন। সুহেল আহমদ ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিনের সহোদর।ভবন উদ্বোধন হলেও করোনার কারনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়নি। ইতোমধ্যে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে চারতলা ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পরপরই বিদ্যালয় কর্তপক্ষকে ভবনের দখল বুঝিয়ে দেওয়ার শেষ প্রান্তে। পাশে থাকা সেই ভবনের টিনগুলো খুলে নিয়েছেন অমল কান্তি চৌধুরীর লোকজন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় অব্যবহৃত বিদ্যালয়ের চালার প্রায় লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ৭০ শতাংশ টিন খুলে নিয়েছে। স্থানীয়দের বাধার মুখে অন্য টিনগুলো না খুলে চলে যান অমল কান্তি চৌধুরী। অনুসন্ধানের সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কাউকেই দেখা যায়নি। এদিকে প্রতিনিধির উপস্থিতি টের পেয়ে ঠিকাদারের নিয়োজিত লোকজন বৃহস্পতিবার (১২ মে) চালায় তরিগরি করে পুনঃমেরামতের চেষ্টা করছেন।

এব্যাপারে এমএইচটিসি-এমএকেসি কন্সট্রাশনের মালিক অমল কান্তি চৌধুরীর সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, একটু ভুল বুঝা হয়েছিল। এখন সমাধান হয়েছে। ব্যাস্ত আছি পরবর্তি সময়ে কথা বলবো বলে তিনি ফোন কেটে দেন।

স্থানীয় যুবলীগ নেতা আনসার উদ্দিন জানান, একটা বিদ্যালয়ের টিন কিভাবে খুলে নিয়ে যায় বুজতে পারতেছিনা। টিন খুলে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকার কেউ টের পায়নি। হঠাৎ বুজতে পারায় টিন খুলতে বাধা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় শরীফ উদ্দিন জানান, বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর আগেই অন্য আরেকজন ঠিকাদার কিভাবে টিন খুলে নিয়ে গেলো? জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে প্রশাসনের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি।

ইউপি চেয়ারম্যান ফয়জুর রহমান প্রতিবেদককে জানান, অমল কান্তি দাশ বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের লক্ষাধিক টাকা মূল্যের টিন খুলে নিয়ে গেছে। আমরা বাধা দেওয়া কিছু টিন খুলে নিয়ে যেতে পারেনি।

বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন জানা, আমি কিছুই জানিনা। শুনেছি ওনি (অমল কান্তি চৌধুরী) টিন খুলে নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের সভাপতি ভালো জানবেন।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) ইয়াসমিন নাহার রুমা জানান,বিষয়টি আমি জানিনা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে জেনে ব্যাবস্থা নেবো।