কোম্পানীগঞ্জে পাল্টা-পাল্টি সংঘর্ষে চেয়ারম্যান সহ ৩ জন আহত Desk Desk News প্রকাশিত: ৯:৪৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০২২ চুরির ঘটনায় গ্রাম্য সালিশে বসা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মাথা ফাটিয়েছেন স্থানীয় এক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরী। এরপর দুই পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। সংঘর্ষে চেয়ারম্যান সহ তিন জন আহত হয়। শনিবার বেলা ১২ টার সময় সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৪নং ইছাকলস ইউনিয়নের বাগজুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হচ্ছেন ইছাকলস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুর রহমান সাজু,বাগজুর গ্রামের খলিল উল্লাহ ও ইন্তাজ আলী। আহত তিনজন বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী সাহাব উদ্দিন জানান, গত ১৫ মার্চ সিলেট জেলা প্রশাসক বরাবর চেয়ারম্যান সাজ্জাদুর রহমানের বিরুদ্ধে ৮ জন ইউপি সদস্য লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। সেই অভিযোগ পত্রে সাইদুর রহমানের স্বাক্ষর ছিল। অভিযোগ করা নিয়ে সালিশে উপস্থিত চেয়ারম্যান সাজ্জাদুর রহমান ও স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য সাইদুর রহমানের মধ্যকার বাগবিতণ্ডা চলছিল। দুইজনের উত্তেজনা মুহূর্তে সাইদুর রহমানের ভাই মহিবুর রহমানের হাতে থাকা কাঠের রোল দিয়ে সাজ্জাদুর রহমানের মাথায় আঘাত করেন। ঘটনার আকর্ষিকতায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। স্থানীয় সালিশান উস্তার আলী জানান, ঘটনার সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আপ্তাব আলী কালা মিয়া,উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান লাল মিয়া ও হাটখোলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মখন মিয়া সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। পুরোনো একটা বিষয় নিয়ে চেয়ারম্যান ও মেম্বার বাগবিতণ্ডা চলছিল। দুই জনের মধ্যকার কথাকাটি চলাকালীন সময়ে মহিবুর রহমান লাঠি দিয়ে চেয়ারম্যানের মাথায় আঘাত করেন।এরপর দুই পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। ঘটনার কিছুক্ষন পরে সাজ্জাদুর রহমান আমাকে ফোন দিয়ে বলে ঘটনার সময় নাকি তার দের লক্ষ টাকা সাইদুরের পক্ষের লোক ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। বাগজুর গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান, চেয়ারম্যান সাজ্জাদুর রহমান সাজুর সাথে ওয়ার্ড সদস্য সাইদুরের পূর্ব শত্রুতা ছিলনা। সম্প্রতি হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের টাকা নিয়ে সাইদুর রহমান সহ কয়েকজন ইউপি সদস্যের সাথে সাজ্জাদুর রহমানের দূরত্ব তৈরি হয়। ধারণা করা হচ্ছে হোল্ডিং ট্যাক্স কান্ডেই হামলার শিকার হোন সাজ্জাদুর রহমান। স্থানীয় ঘটনার সময় উপস্থিত স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান দুই পক্ষের মারামারি হয়েছে ঠিক কোনো টাকা ছিনতাইয়ের গঠনা শুনিনি। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আফতাব আলী কালা মিয়া জানান ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদুর রহমান সাজুর উপর হামলার ঘটনার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। একটি সালিশ বিচারের মাঝে শত মানুষের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে দিবালোকে একজন জনপ্রতিনিধির উপর হামলার ঘটনায় আমি আতঙ্কিত হয়েছি। এই ঘটনার সাথে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা না হলে আগামীতেও এই ধরনের ঘটনা হতে পারে। এ ব্যাপারে আহত সাজ্জাদুর রহমানের সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, সালিশ চলাকালীন সাইদুর মেম্বার ও তার ভাইয়েরা আমার উপর হামলা করে মাথা ফাটিয়ে দেন। হামলার বিষয়ে সাইদুর মেম্বার বলেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবর হোল্ডিং ট্যাক্স আত্মসাতের অভিযোগ করেছিলাম। এজন্যে আমি সহ অন্য মেম্বারদের উপর ক্ষিপ্ত ছিল চেয়ারম্যান সাজ্জাদুর রহমান। সাজ্জাদুর রহমান সালিশে আমার বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করলে আমি প্রতিবাদ করি। এরপর দুই পক্ষের বাদানুবাদ হাতাহাতিতে রুপ নেয়। সংঘর্ষে চেয়ারম্যান সহ আমার দুই আত্মীয় আহত হয়। এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ কেএম নজরুল বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সময় টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ওখানে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা শুনতে পাইনি। এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেব। উল্লেখ্য, বিগত ১৫ মার্চ সাজ্জাদুর রহমানের বিরুদ্ধে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের ৬ লক্ষ টাকা আত্মসাৎয়ের অভিযোগ এনে ইছাকলস ইউনিয়নের ৮ জন ওয়ার্ড সদস্য সিলেট জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মধ্যে মনমালিন্যতা দেখা দেয়। ধারণা করা হচ্ছে অভিযোগ দায়ের করাকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। SHARES অপরাধ বিষয়: