গোয়াইনঘাটে রাতের অন্ধকারে ব্যবসায়ীকে হামলা করে অর্থ লুট,থানায় মামলা Desk Desk News প্রকাশিত: ১০:১২ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২০ স্টাফ রিপোর্টার:-সিলেটের গোয়াইনঘাটে আম বাগান থেকে আম চুরিতে বাধা দেওয়ায় চোর কর্তৃক বাগানের মালিক ও তার আত্মীয়স্বজনকে পিটিয়ে জখম ও টাকা লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।উক্ত বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০/১২ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।মামলা নং ৭/২০। গত মঙ্গলবার ৯ জুন রাত ৯ টার সময় উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের আলমনগর গ্রামের রাধানগর বাজার-গোয়াইনঘাট সদর সড়কের নিকটস্থ আম বাগানে এই ঘটনা ঘটে বলে সূত্রে জানা যায়। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,ঘটনাস্থল বাগানের আম গাছে এই মৌসুমে আমের ভালো ফলন হওয়ায়, স্থানীয় চোরদের লুলুপ দৃষ্টি পড়ে।স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির ভাষ্যমতে উক্ত বাগানটি অত্র এলাকার সবচেয়ে বড় আম বাগান হওয়ায় এবং গাছে ফলন ভালো হওয়ায় স্থানীয় আলাল সন্ত্রাসী গ্রুপের সক্রিয় সদস্য সেলিম,মোহন,আল আমিন, শাহাদাতের নের্তৃত্বে ৪/৫ জনের একটি সঙ্গবদ্ধ চক্র প্রায় রাতই আম চুরি করে আসছিলো বলে জানান।উক্ত চক্রটি এলাকায় বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত।তাদের অত্যাচারে অতিষ্ট এলাকাবাসী।তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই মামলা-হামলা,খুন ও গুমের হুমকি দিয়ে থাকে। তাদের ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলতে চায় না। অত্র এলাকার প্রবীণ মুরুব্বি বাগানের মালিক আছমত আলী মোল্লার (৭৫) ছেলে জাকির হোসেন ধনু তার রাধানগর বাজারস্ত পাইকারি ভূষি মালের দোকান থেকে আসার সময় ঘটনাস্থল আম বাগানের সামনে দাড়ালে দেখতে পান উপরে উল্লেখিত সংঘবদ্ধ চোর চক্রটি বাগানের বিভিন্ন গাছের আম চুরি করছে। জাকির হোসেন জানান,ঘটনার রাতে আমার চাচাতো ভাই জমশিদকে নিয়ে আমার দোকান থেকে বাড়িতে ফিরতেছিলাম। আমার হাতে থাকা টর্চলাইট দিয়ে দেখি আমার বাগানে আম চুরি হচ্ছে।হাতে থাকা টর্চ লাইটের আলোতে বাগানের দিকে চেয়ে দেখি চোর চক্রটিকে আমার পরিচিত এবং সেলিম নামের একজন চুরকে চুরিকৃত আম সহ তাকে হাতে-নাতে আটক করি। আটক চোরের সাথে থাকা বাকি তিনজন চোর পালিয়ে যায়। তাকে আটক করে স্থানীয় মানুষদের উপস্থিত করার জন্যে জোরে চিৎকার করার চেষ্টা করলে অন্ধকারচ্ছন্ন রাতে টের পাই পালিয়ে যাওয়া চোরেরা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আটক সেলিম চোরকে ছাড়িয়ে নিতে আমাদের উপর হামলা করার জন্যে তেরে আসছে।আমরা বাচার জন্যে পালাতে চাইলে মুহুর্তেই তারা আমার চাচাতো ভাই জমশিদকে চাপাতি ধারা মাথায় আঘাত করে এবং পিঠে ছুরি দিয়ে ঘা মারে।আমি তাকে (জমশিদ)কে রক্ষা করতে চাইলে আব্দুল মালেক মালি নামের একজন হামলাকারী আমার বুকে ছুরি ধরে হাতে থাকা শপিং ব্যাগে রক্ষিত ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ও স্বাক্ষর সম্বলিত দুটি ব্যাংক চেকের পাতা সহ সম্পূর্ণ বইটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আমাদের চিৎকারে আমার পরিবারের সদস্যরা সহ নিকট আত্মীরা এগিয়ে এলে তাদের উপরেও হামলা করে। হামলায় আমার চাচাতো ভাই জমশিদ,আমার আপন ভাই আল আমিন ও ভাতিজা সুমন গুরতর আহত হয়।তারা বর্তমানে চিকিৎসাধিন আছে।আহতদের মধ্যে জমশিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।উক্ত বিষয়ে থানায় একটি এজাহার দাখিল করলে আসামী পক্ষ আমাদের উপর পূনরায় একাধীক হামলা করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি থানা থেকে উঠিয়ে না নিলে প্রাণে মারার হুমকি দিচ্ছেন। আসামীরা বর্তমানে বীরদর্পে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।সেই সাথে আসামীচক্র মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদেরকে জেলে ডুকানোর চেষ্টা করছেন। উক্ত বিষয়ে মামলার আসামী আলালের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ব্যার্থ হওয়ায় তার কোনো বক্তব্য নেওয়া যায়নি। এব্যাপারে মামলার বাদী জাকির হোসেন আরো বলেন,হামলা ও লুটের বিষয়টি বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন (BHRC) সিলেট জেলা কমিটির সহ সভাপতি মোঃ ওমর ফারুককে মৌখিকভাবে অবগত করলে তিনি বিষয়টি পর্যালোচনা করতে ঘটনাস্থালে পরিদর্শনে আসেন। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন সিলেট জেলা শাখার সহ সভাপতি মোঃ ওমর ফারুক বলেন, ঘটনাটি ন্যাক্কারজনক ও মানবতাবিরোধী। তিনি আরো বলেন, হামলা ও লুটের বিষয়টি প্রাথমিক আইনী প্রক্রিয়ায় গেলেও আসামীদের গ্রেফতারে প্রশাসনের মন্থরগতি বাদি পক্ষের পরিবারের সদস্যদের চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কগ্রস্তের কারন।আসামীদেরকে আইনামলে নিতে বিলম্ব হলে, আসামীদের ধারা বাদী পক্ষের জান ও মালের অপরনীয় ক্ষতির সম্ভবনা বিদ্যমান। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট থানার ওসি আব্দুল আহাদ মামলা রুজুর বিষয়টির নিশ্চিত করে বলেন,মামলাটি তদন্তাধীন আছে এবং আসামী গ্রেফতারে সব রকমের চেষ্টা অব্যাহত আছে। (সি/স-১৪ জুন-তা/ই) SHARES অপরাধ বিষয়: