বিদ্যালয়ের লক্ষাধিক টাকা মূল্যের গাছ বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ,নৈপথ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিপুল:পর্ব এক Desk Desk News প্রকাশিত: ১০:০২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৬, ২০২০ স্টাফ রিপোর্টার:- উপজেলার ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নারাইনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উক্ত প্রতিষ্টানের লক্ষাধিক টাকা মূল্যের গাছ বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম বিপুল রঞ্জন সরকার।তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অর্থ আত্মসাৎয়ের অভিযোগ এনে ৯ জুলাই উক্ত প্রতিষ্টানের নব গঠিত এসএমসি কমিটির শিক্ষানুরাগী দেলোয়ার হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি অভিযোগ দাখিল করেছে।অভিযোগ দাখিলের প্রায় এক মাস হয়ে গেলেও অর্থ উদ্ধারে এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন দরখাস্তকারী দেলোয়ার হোসেন।তিনি বলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে বিপুল বাবুর দহরম মহরম সম্পর্ক থাকায় অভিযোগ দিয়ে প্রতিকার পাবোনা বিধায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দরখাস্ত করেছি।তিনি আরো বলেন,আমি (দেলোয়ার) যখন এসএমসি কমিটির সভাপতি ছিলাম তখন বিপুল বাবুর ব্যাপোরোয়া চলাফেরা উপজেলায় চাউর ছিলো।তিনি ক্লাস ফাকি দিয়ে শিক্ষা অফিসে আড্ডা দিতো।এ ব্যাপারে কেউ মুখ খুলতে চাইলে তাকে জামায়াত বিএনপির ট্যাগ লাগিয়ে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করে হতো।তিনি স্লিপের টাকা সহ প্রাপ্ত বিভিন্ন বরাদ্দের টাকা যাচ্ছেতাইভাবে খরচ করতো।হিসাব চাইলে গড়িমসি করে যেতো। অভিযুক্ত শিক্ষক বিপুল রঞ্জন সরকার অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনের সামনে ও পেছনে ছোট বড় ৮টি কাঠ গাছের কর্তিত নিম্নাংশ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।অর্থ আত্মসাতের জন্যে তরিঘরি করে কাউকে না জানিয়ে রাতের আধারে মাত্র ৩০ হাজার টাকায় গাছগুলো বিক্রি করে দেন।স্থানীয় আনোয়ার হোসেন আনাই ও গরীব উল্লাহ গাছ কাটার কথা স্বীকার করে বলেন, স্কুলে নতুন বাউন্ডারি হচ্ছে,বাউন্ডারি ফেরাতে গাছগুলো বাধ্য হয়ে গাছগুলো কেটে ফেলতে হয়েছে।গাছ কাটার সময় উর্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি আছে কি না জানতে চাইলে তারা কোনো স্বদুত্তর দিতে পারেনি। সংবাদ সংগ্রহের সময় স্থানীয়রা বক্তব্য দিচ্ছেন এদিকে গাছ কাটা ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিপুল রঞ্জন সরকার কর্তৃক উপজেলার সনাতনধর্মী সাবেক ছাত্রলীগ ও উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের পেছনে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে বলে বিস্বস্থ কয়েকটি সূত্রে জানা যায়। গাছ কাটার বিষয়ে স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধা ইছাহাক আলী,ওয়ারিছ মাস্টার,আফছার উদ্দিন সহ স্থানীয় অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, এই বিপুল রঞ্জন সরকার দীর্ঘদিন যাবত বিদ্যালয়ের ক্লাস ফাকি,বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্ণীতির সাথে জরিত আছে।তার ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে মৌখিক অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।শুনেছি শিক্ষা অফিসারের সাথে ওনার ভালো সম্পর্ক আছে। অভিযোগের সত্যতার জবাবে বিপুল রঞ্জন সরকার বলেন স্থানীয়রা গেছে কেটে নিয়ে গেছে,আমি কিছুই জানিনা।তার জবাবের ভিত্তিতে যাচাই করতে গেলে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার আজির উদ্দিন তালুকদার মোবাইল ফোনে বলেন, আমার ওয়ার্ড অত্র ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় ওয়ার্ড তাই আমাকে সব সময় উন্নয়ন কাজে ব্যাস্থ থাকতে হয়।আমি মোটর সাইকেল দিয়ে অন্য এক জায়গায় যাওয়ার সময় বিপুল বাবু ভুল বুঝিয়ে আমার কাছ থেকে একটা স্বাক্ষর নিয়ে নেয়।তিনি বলেছেন স্কুলের জরুরি একটা কাজের জন্যে আমার স্বাক্ষর লাগে,তাই স্বাক্ষর দিয়েছিলাম।এখন দেখি এই স্বাক্ষর দিয়ে সে অপকর্ম করেছে।আমি এই অপকর্মের তিব্র নিন্দা জানাই।তাছারা গাছ কাটার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না।শুনেছি নতুন সভাপতিও নাকি উপস্থিত ছিলোনা। অভিযোগপত্র কে কে স্বাক্ষর দিয়েছিলো? প্রশ্নের জবাবে আজির উদ্দিন তালুকদার বলেন,আমি স্বাক্ষর দিয়ে চলে এসেছিলাম।তবে আনোয়ার হোসেন আনাই,গরিব উল্লাহ,আইয়ুব আলী সহ অনেকে তখন স্বাক্ষর দিয়েছিলেন বলে শুনেছি।স্বাক্ষরকৃত সবাইকি কমিটির সদস্য? জানতে চাইলে তিনি বলেন, কমিটিতে কারা আছে তা জানিনা।তবে বিপুল বাবুই ভালো জানেন।তিনি নিজে নিজেই কমিটি করেছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন,গাছ কাটার অভিযোগ পেয়ে গত কিছু দিন আগে আমি গিয়েছিলাম।আমার সাথে বিপুল রঞ্জন সরকার সাহেবও ছিল,গিয়ে দেখি গাছের কর্তিত নিম্নাংশগুলো পড়ে আছে। গাছের কর্তিত উপরাংশ গিয়ে পাইনি।বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রি কিংবা কাটতে চাইলে অবশ্যই উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর আবেদন করতে হবে।শিক্ষা অফিসের অনুমতি ছাড়া গাছ কাটা বেআইনি।শুনেছি তিনি নাকি উপজেলা শিক্ষা অফিসার মহোদয়ের কাছ থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়েই গাছ কেটেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জহিরুল হক গাছ কাটার অনুমতির বিষয়ে বলেন,আমি তাকে শুধু বড়ই গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছি।বাকি অন্যগাছগুলো বিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে ছিলো।শুনেছি গাছগুলো স্কুলের সাবেক সভাপতি অভিযোগকারী দেলোয়ার হোসেনের জমির মধ্যে লাগানো ছিলো। এব্যাপার অভিযোগকারী দেলোয়ার হোসেন বলেন, গাছগুলো স্কুল মালিকানাধিন এবং স্কুুুুলের সীমানার ভিতরেই রয়েছিলো। উক্ত ঘটনার প্রায় এক মাস অতিবাহিত হওয়ার যোগার হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়া হয়নি। এদিকে গাছ কাটা ও অর্থ আত্মসাৎয়ের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় কিছু ব্যাক্তিদের নিয়ে আগামী শনিবার গোপন বৈঠকে বসার খবর পাওয়া গেছে।নাম প্রকাশ করতে অপারগ এলাকার শুশিল সমাজের একাংশ বলেন, বিপুল সরকারের অনেক লম্বা হাত, শিক্ষক মহলে সে নিজেকে আওয়ামী পন্থি দাবী করে উপজেলা শিক্ষা অফিসের বড় কর্তার আস্থাভাজন হিসেবে ব্যাপক পরিচিত।তাই সঠিক বিচার হবে কিনা তা আসংকা করছি। (সি/স-০৬ আগস্ট-তা/ই) SHARES অপরাধ বিষয়: