করোনায় বিদ্যালয় বন্ধ: কোম্পানীগঞ্জে বেড়ে গেছে বাল্যবিবাহ Desk Desk News প্রকাশিত: ১০:৪৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৪, ২০২১ কবির আহমদ:-পুরো পৃথিবী জুড়েই চলছে করোনাভাইরাসের হত্যাযজ্ঞ। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আমরা গৃহবন্দী। আমাদের দেশে লকডাউনে গরীব-দুঃখী খেটে খাওয়া মানুষের অভাব অনটন চরমভাবে বেড়ে গেছে। দিন আনে দিন খায় এ শ্রেণির অনেক মানুষের কাজ কর্ম বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক পরিবারে একসাথে অবস্থান করছে বহু সদস্য। ফলে খাওয়া পড়ার খরচও বেড়ে গেছে। কিছু পরিবারের মেয়েশিশুরা নিকট আত্মীয় স্বজন দ্বারা শিকার হচ্ছে যৌন হয়রানির। স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় পরিবারের উঠতি বয়সী মেয়েদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন পিতা-মাতা। অনিশ্চিত ও হতাশায় আচ্ছন্ন হয়ে চিন্তা করছেন এখনই বুঝি বিয়ে দেয়ার উপযুক্ত সময়। একটি শিক্ষা বর্ষের সময় যখন বিলীন হয়ে গেছে তখন অভিভাবকগণ উঠে পড়ে লেগেছেন কন্যাদান করতে। খরচ বাঁচাতে পরিবারের সদস্য সংখ্যা কমাতে চাচ্ছেন। অপরদিকে ভাইরাসের কারণে বিদেশ থেকে আসা শ্রমিক পর্যায়ের ছেলেরা পাত্র হিসেবে অনেকেরই পছন্দ তথা তালিকার শীর্ষে। তাছাড়া গ্রামে পুরুষদের অল্প বয়সে বিয়ের প্রবনতাও আগের চেয়ে বেড়েছে। করোনার এই ভয়াবহ সময়ে যেখানে জীবন জীবিকা বিপন্ন ঠিক তখনই বাল্যবিবাহ বেড়ে চলেছে। এই সময়ে বিয়ে দিলে কম মানুষকে আপ্যায়ন করতে হবে, খরচও কম পড়বে এমন ধারণা থেকেই তড়িঘড়ি চলছে বিয়ের কাজ। শহরের চেয়ে গ্রামে এই হার বেশি। আবার শিক্ষিত পরিবারের চেয়ে তুলনামূলক কম শিক্ষিত পরিবারে এই সময়ে বিয়ে দেবার প্রবনতা বেড়েছে। মাধ্যমিক স্তরের মেয়েরা (১৩-১৬ বছর বয়সী) বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে বেশি। কোনরূপ স্বামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থবিধি না মেনে অল্প পরিসর এ চলছে বিয়ের কাজ। প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ক্লাস করে না। এরা অবাধে বিচরণ করছে, অলস জীবন যাপন করছে, সামাজিক দূরত্ব মানছে না। মূলত অসচেতনতা, নারী শিক্ষার অভাব, সামাজিক কুসংস্কার, অনিশ্চিত করোনা পরবর্তী ভবিষ্যৎ এবং দারিদ্র্যতা এ সময়ে বাল্যবিবাহ বৃদ্ধির প্রধান কারণ। কিছু ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদের সংশোধন এর মাধ্যমে বয়সের হের ফের করে কন্যাশিশুকে বিয়ের বয়স উপযোগী করা হয়। লকডাউনে পরিবারের পিতা বা ভাইয়ের উপার্জন সীমিত হয়ে পড়ায় তারা এখনই কন্যা বা বোনের বিয়ে দিয়ে দেয়ার দারুন পক্ষপাতি। তাছাড়া স্থানীয় মেম্বার চেয়ারম্যান এ বিষয়ে পূর্বের তুলনায় কম তৎপর। ফলস্বরূপ বাল্যবিবাহ বেড়েই চলেছে। অনুসন্ধানে জানাযায়, স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকার সুযোগে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশতাধিক বাল্যবিবাহ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে অদুর ভবিষৎ এ ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়বে, উচ্চশিক্ষিত নারীর সংখ্যা কমবে, সুশিক্ষিত মায়ের সংখ্যা কমবে, অল্পবয়সী ঝুকিপূর্ণ গর্ভবতীর সংখ্যা বাড়বে, অপ্রাপ্তবয়সী প্রসূতি মায়ের কারণে জন্ম নিবে রোগা শিশুর। এভাবে নতুন জন্মানো শিশু অপুষ্টিতে ভুগবে। মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুহার বাড়বে। ছোঁয়াছে রোগের মত সমাজে ছড়িয়ে পড়বে নানা অসংগতি। ১নং ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, আমাদের পাশাপাশি সমাজের সচেতন মহলের বর্তমানে উচিত বাল্যবিবাহ রোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া। সমাজের বিজ্ঞ, শিক্ষিতরেরাও এ বিষয়ে সাবধানতা প্রদর্শন করতে পারেন। সচেতন ও শিক্ষিত মেয়েরা নিজেরাই নিজেদের বিয়ে বন্ধ করতে পারে। বাংলাদেশে ন্যাশনাল হেল্প লাইন, ১০৯ চালু আছে। এই সংখ্যাটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের সকল বইয়ের পিছনেও প্রিন্ট করে দেয়া আছে যেন কোথাও বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন সংঘটিত হলে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে জানানো যায় এবং ব্যবস্থা নেয়া যায়। এব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মজিবুর রহমান চৌধুরী জানান, পুলিশের কাছে যখনি খবর আসে বাল্যবিবাহের আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যেকোন মূল্যে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দেয় এবং প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করি। (সি/স-২৪ এপ্রিল-তা/ই) SHARES অপরাধ বিষয়: