কোম্পানীগঞ্জে হত্যাচেষ্টা মামলার ৩ আসামী গ্রেফতার, গা ঢাকা দিয়েছেন কামরুল Desk Desk News প্রকাশিত: ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ, মে ২৬, ২০২১ নিজস্ব প্রতিবেদক:-পূর্ব বিরোধের জের ধরে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে পাথর বহনকারী ট্রাক থামিয়ে ৪ জনকে ছুরিকাঘাত করেছে দূর্বত্তরা। হামলায় ট্রাক ড্রাইভারসহ চার জন গুরুতর আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, উপজেলার কাঁঠালবাড়ি গ্রামের নবী হোসেনের পুত্র শামীম ও আমিন, পশ্চিম বুড়দেও গ্রামের শাহ আলমের পুত্র আরমান, কাজল মিয়ার পুত্র রফিক।আহতদের মধ্যে আমিনের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। তাঁর তলপেট পরপর ছুরির আঘাতে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে হামলাকারীরা।গত রোববার রাত ৯ টার দিকে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়কের দক্ষিণ বুড়দেও এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়।এ সময় আহতদের আর্ত চিৎকারে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে প্রথমে কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। আহত ব্যক্তিদের আত্মীয় সাবেক ইউ/পি সদস্য দেলোয়ার হোসেন জীবন মিয়া জানান, পূর্ব বিরোধের জের ধরে স্থানীয় দক্ষিণ বুড়দেও গ্রামের আল ইসলামের ছেলে কামরুল ও তার সঙ্গীয়রা উপুর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে চারজনকে খুন করার চেষ্টা করেন।এদের মধ্যে চিকিৎসাধীন থাকা তিনজনের শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতির পথে হলেও একজনের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। ঘটনার দুই দিনেও চিকিৎসাধীন আমিনের জ্ঞান ফিরেনি। হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এনে ১৪ জনকে আসামী করে আহত শামিম, আমিনের পিতা নবী হোসেন বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।যার মামলা নং ২৫। ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট দক্ষিণ বুরদেও গ্রামের আক্কাস আলীর পুত্র রবি হোসেন, মনফর আলীর পুত্র আব্দুর রহমান ও আল ইসলামের পুত্র মাজহারুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করেছে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ। তবে ঘটনার মূলহোতা কামরুল ইসলাম এখনো পলাতক রয়েছে।নাম প্রকাশে স্থানীয় এক যুবক জানিয়েছেন ঘটনার পরপরই কামরুল ঢাকায় পালিয়ে গেছে।গ্রেফতারকৃতদের মঙ্গলবার (২৫) মে আদালতে মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এর আগেও অসংখ্য অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে।হবির দোকান-এম সাইফুর রহমান ডিগ্রি কলেজ গেইটের আশে পাশে অসংখ্য ছিনতায়ের সাথে জড়িত রয়েছে।সন্ধ্যা নামলেই কামরুল বাহিনীর ভয়ে কেউ এই এলাকায় এক যেতে চায় না।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কিশোর জানান, গত মাস তিনেক আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রবেশমুখ সংলগ্ন ব্রীজের কামরুল ও তার সাথে থাকা ৭/৮ জন গতিরোধ করে পকেটে থাকা কিছু টাকা হাতিয়ে নেয়।এ সময় তার সঙ্গে থাকা একটা এন্ড্রয়েড মোবাইল হ্যান্ডসেট না থাকায় শারিরিক ভাবে লাঞ্চিত করে। টাকা ছিনিয়ে নিয়েই ক্ষান্ত হয়নি কামরুল ও তার বাহিনী। বরং তাকে মুখ না খুলতে শাসিয়ে যায়।পরবর্তিয়ে প্রাণ ভয়ে সেই কিশোর মুখ খুলেনি আর।নিজের নিরাপত্তার অনেকেই থানায় মামলা করতে অনিহা। শুধু ছিনতাই নয় স্থানীয় থানা বাজারে অসংখ্য দোকান-অফিসে বিভিন্ন সময় দুর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত করতো কামরুল ও তার বাহিনী।ধলাই-পিয়াইন নদীর চানপুর-দক্ষিণ বুরদেও অংশে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের কাছ থেকেও চাদাবাজীর অসংখ্য তথ্য-উপাত্ব জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন।সর্বশেষ তার বাহিনীর শিকার হয়েছেন স্থানীয় শামিমসহ ৪ জন। ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আসামীরা হচ্ছেন আল ইসলামের কামরুল (২০) ওমর আলীর পুত্র সফিক (৫০)রফিক (৪৭)মানিক (২৮)সফিক মিয়ার পুত্র শাকিল (২৬) ইউনুস আলীর পুত্র জমসিদ (৩৫) আকবর আলীর পুত্র সুহেল (২৫)নওসাদ মিয়ার পুত্র তারেক (২৫)ইউনুছ আলীর পুত্র আমীর আলী (৪০) সালাউদ্দিনের পুত্র উজ্জল (২৫)ইউনুছ আলীর পুত্র রহমত আলী। আসামীরা সবাই দক্ষিণ বুরদেও গ্রামের বাসীন্দা। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি কে এম নজরুল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পূর্ব বিরোধের জের ধরে হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে।অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারেও তৎপর আছি আমরা। (সি/স-২৬ মে-তা/ই) SHARES অপরাধ বিষয়: