ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে সীমানাঘেষে চলছে চিপ ও বালু উত্তোলন,নৈপথ্যে চাঁদাবাজি

Desk Desk

News

প্রকাশিত: ৮:৫২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার:-সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর উপরিভাগ মাঝেরটুক ও কালিডর নামে পরিচিত রোপওয়ের উত্তর সীমানাঘেষা অংশে স্তরে স্তরে পরে থাকা চিপ ও বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে আবারো চাঁদাবাজদের দৌড়াত্ব শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,রোপওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্বে থাকা আর এন বি সদস্যদের উপস্থিতিতে শত শত বারকি নৌকা দিয়ে বালু ও চিপ উত্তোলন করা হচ্ছে
একটি সংগঠিত চাঁদাবাজ চক্র প্রতিনৌকা থেকে
১/২ শত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ দিয়েছে একাধিক বারকি নৌকা মালিক ও শ্রমিক।চাঁদা দিতে অস্বিকার জানালে তাদের (শ্রমিক) উপর আক্রমণ ও বিভিন্ন ভাবে ভয়ভিতি দেখিয়ে চিপ উত্তোলনে বাধা দেয়।এই চাঁদাবাজ চক্রের নৈপথ্যে রয়েছে নদীর দুই তীরের আওয়ামীলীগের অংগসংঠনের কিছু অসাধু নেতাকর্মী।একাধিক চিপ উত্তোলনকারী শ্রমিক জানিয়েছেন,কলাবাড়ি গ্রামের সাহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে এই চাঁদাবানিজ্যে হয়ে আসছে।তাদের সাথে রোপওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও জরিত রয়েছে।

এ ব্যাপের অভিযুক্ত উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সাহাব উদ্দিন জানান,চাঁদা আদায়ের বিষয়টি অস্বিকার করে বলেন,আমার কোন গ্রুপ নেই।যদি কেউ আমার নাম বলে টাকা তুলে তবে তাদের ধরে পুলিশে দেন।

রোপওয়ে এলাকায় চিপ পাথর উত্তোলনকে কেন্দ্র করে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ইনচার্জ আবু সুফিয়ান বলেন,আমাদের কোনো সদস্য চাঁদা আদায়ের সাথে জরিত নয় তবে তারা আমাদের নামে চাঁদা আদায় করে। তারা কারা এই প্রশ্নের জবাব ইনচার্জ আবু সুফিয়ান এরিয়ে যান।

চিপবাহী বারকি নৌকা থেকে চাঁদা আদায়ের ব্যপারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এডভোকেট ইসরাফিল আলী নামের কোম্পানীগঞ্জের একজন সনাধন্য উকিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।তিনি তার ব্যক্তিগত ভেরিফাইড আইডি থেকে লিখেছেন ,,,কোম্পানীগন্জ ধলাই নদীর ১০ নম্বর “মাঝের টুক” চীফ উত্তোলন কারী বারকি শ্রমিকরা অবৈধ চাঁদা উত্তোলন কারী সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি, চাঁদা উত্তোলন কালে শ্রমিকদের মারপিট ও ভয়ভীতি প্রদর্শন। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি,,,।

এডভোকেট ইসরাফিল আলী প্রতিবেদককে বলেন,শ্রমিকদের পক্ষেএবং চাঁদাবাজীর বিরুদ্ধে খুব শিগ্রই প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিবো।

সূত্রে জানা যায় দীর্ঘ ২০/২৫ দিন যাবত ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে এলাকার উত্তর,উত্তর পূর্ব,দক্ষিণ ও পশ্চিম সীমানাঘেষে শত শত বারকি নৌকা দিয়ে অবৈধ ভাবে চিপ উত্তোলন করা হচ্ছে।ভোর ৪ টা থেকে সকাল ১০ টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই লুটলাট চলছে।এই সময়ের মধ্যে প্রতিটি নৌকা দিয়ে ২/৩টি ট্রিপ দিতে পারে।নৌকা প্রতি ১/২ শত টাকা চাঁদা আদায় করা হলে
শতাধিক নৌকা থেকে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ টাকা নিরবে চাঁদাবাজি হচ্ছে।

সাধারণ শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের বিষয়ে একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন শ্রমিকরা পেটের দায়ে শরীরের রক্ত পানি করে টাকা উপার্জন করে আর চাঁদাবাজরা তাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে!!সত্যি বিষয়টি খুব লজ্জাজনক।এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।

এব্যাপারে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি)(এসিল্যান্ড) সিলকো সংবাদ প্রতিবেদককে বলেন, ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে একটি সংরক্ষিত এলাকা।ওখানে কোনো প্রকার বালু,চিপ ও পাথর উত্তোলনে বৈধতা নেই।শিগ্রই সেইসব উত্তোলনকারী ও সংশ্লিষ্ট চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

(সি/স-২৩ জুলাই-তা/ই)