চাঁর মাসেও তদন্ত শেষ হয়নি

Desk Desk

News

প্রকাশিত: ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার:-নারাইনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের নারাইনপুর গ্রামে অবস্থিত স্কুলটির প্রতিষ্ঠা ১৯৯২ সালে।হতদরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের শিশুদের শিক্ষাদানের কথা চিন্তা করে ৩৩ ডেসিমেল জমির উপর নির্মিত এই স্কুলটি ২০১০ সালে সরকারীকরন করা হয়।সহাকারী শিক্ষক হিসেবে বিপুল রঞ্জন সরকার এই স্কুলের প্রতিষ্টাকালীন থেকেই কর্মরত ছিলো।বৃহত্তর ময়মনসিংহ এলাকায় বাড়ি হলেও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সাথে ছিল দহরম মহরম তাই দীর্ঘ ২৮ বছর যাবত বিদ্যালয়ের পাঠদানে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরাগভাজন হতে হয়নি। সম্প্রতি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাদের সাথে গভীর সখ্যতা গড়ে উঠে বিপুল রঞ্জনের। দুধে ভাতে মাখা মাখি সম্পর্ক আছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জহিরুল ইসলামের সাথেও। শিক্ষা অফিসার জহিরুল ইসলামের বাড়িও বৃহত্তর ময়মনসিংহ এলাকায়।তাইতো দুইজনের সাথে গভীর সখ্যতা।ক্লাস ফাকি দিলেও কারো কাছেই দিতে হয়না জবাবদিহিতা।উল্টো অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব কাধে নিয়ে শিক্ষা অফিসার জহিরুল ইসলামকে খুশি করার চেষ্টা করেন।

ডান পাশে আওয়ামী ঘরানার নেতাকর্মী অন্যদিকে বামপাশে নিজ এলাকার শিক্ষা অফিসার তুষ্ট আছেন।সমস্যা কোথায় নিজের মতো বিদ্যালয়ের এসএমসি কমিটি গঠন করতে?

তাইতো কর্মস্থল এলাকার বাইরের ব্যাক্তিকে এসএমসি কমিটির সভাপতি বানাতে ততপর হয়ে উঠলেন।কমিটিতে স্থান পেতে স্থানীয়দেরকে বিএ পাশ এবং বৈধ অভিভাবক হওয়ার ভয় দেখিয়ে সভাপতি পদটিতে নিজের আস্থাভাজন মনে করেন পাড়ুয়া আনোয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সফিকুল ইসলামকে বাছাই করলেন।কমিটি গঠন করতে কোনো প্রকাশ্য সভা না করেই সফিকুল ইসলামের কাছ থেকে রেজুলেশন বইয়ের সাদা পৃষ্টায় কয়েকটি স্বাক্ষর নেন।সফিকুল ইসলামকে নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করতে সমস্যা হতে পারে ভেবে অনেকটা অনভিজ্ঞ শিক্ষক খুজতে থাকেন।সভাপতি করার তালিকা থেকে বাদ পরে গেলেন সফিকুল ইসলাম। নতুন করে বাছাই করলেন পাড়ুয়া নোয়াগাও ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক সাইফুল ইসলামকে।সাইফুল ইসলাম প্রস্তাবিত কমিটির সভাপতি হতে অপারগতা প্রকাশ করলে জোর করেই তাকে রাজি করানো হয়।তাকে রাজি করাতে দায়িত্ব পালন করেন মাদ্রাসা সুপার হাবিব আহমদ। বঙ্গবন্ধুর জন্ম শত বার্ষিকী উদযাপন উদ্ধোধন শেষে উপজেলাস্থ থানা বাজারে সাইফুল ইসলাম ও বিপুল রঞ্জন সরকারের একান্ত মিটিং হয়।মিটিংয়ে সাইফুল ইসলামক সভাপতি পদ আসীন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন বিপুল রঞ্জন সরকার। কমিটি গঠন করতে অনেক স্বাক্ষর লাগবে তাই ওনার কাছ থেকেও রেজুলেশন বইয়ের সাদা পৃষ্টায় কয়েকটি স্বাক্ষর নেন।সেই সাথে কয়েকটি ভাউচারেও স্বাক্ষর নিয়ে নেন। তারপর ১৮ মার্চ সকালে নিজ জন্মস্থান সিরাজগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন সাইফুল ইসলাম।

প্রতিবেদনে বিপুল রঞ্জন সরকার কর্তৃক বিদ্যালয়ের অর্থলুটপাট করতেই এই কমিটি ঘটনের প্রমান মিলেছে।
কেননা বর্তমান সভাপতি সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে একই মাসের পুরাতন তারিখ দেখিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে কমিটি গঠনের কথা স্বীকারের তথ্যপ্রমানাদী সিলকো সংবাদের হাতে এসেছে।এছাড়াও পুরাতন কিছু খরচ ভাউচারে স্বাক্ষর নেওয়ার প্রমান মিলেছে। করোনাকালীন শিক্ষা প্রতিষ্টান বন্ধ থাকায় ১৮ মার্চ থেকে অধ্যবধি এসএমসি কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম তার নিজ এলাকা সিরাজগঞ্জ অবস্থান করছেন তাই মোবাইল ফোনে স্বাক্ষরের বিষয়টি স্বীকার করেছে।

১৭ মার্চ সন্ধ্যা বিপুল রঞ্জন সরকার সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে ৫টি স্বাক্ষর নিয়ে নাম সর্বস্ব কমিটি তৈরী করার উদ্দেশ্যে ১, ৭ ও ১৫ মার্চের ভূয়া সভা দেখিয়ে কমিটি গঠন করার প্রমান সিলকো সংবাদ প্রতিবেদকের হাতে আছে

স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার আজির উদ্দিন তালুকদারের নাম এসএমসি কমিটিতে আসার ক্ষেত্রে বলেন,কমিটি গঠনে কোনো সভা হতে দেখেনি,তবে বিপুল বাবু একদিন রাস্তা দারিয়ে আমার কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়েছে।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর প্রতিষ্টানের সাবেক সভাপতি দেলোয়ার হোসেন গত ৯ জুলাইয়ে লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত তদন্ত কাজ শুরু হয়নি।নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্তভার দিলেও বিভিন্ন কারন দেখিয়ে কালক্ষেপন করে যাচ্ছে তিনি।

তদন্তকাজে গড়িমসি করা হচ্ছে মর্মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন আচার্যকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, তদন্ত কাজ দেরি হওয়ার কারন জানিনা।তবে এক্ষুনি আমি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত রিপোর্ট দ্রুত জমা দেওয়ার তাগিত দিচ্ছি।

উল্লেখ্য,৭ জুলাই নারাইনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লক্ষাধিক টাকা মূল্যের গাছ বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ,ভূয়া তারিখ দিয়ে বিনা অনুমতিতে কমিটি গঠন ও ভূয়া ভাউচার তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎয়ের অভিযোগ এনে বিপুল রঞ্জন সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের সাবেক সভাপতি দেলোয়ার হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। ২০ জুলাই অভিযোগটির তদন্তভার দেওয়া হয় উপজেলা মাধ্যমিক অফিসারকে।কিন্তু বেকে বসে বিপুল রঞ্জন। মাধ্যমিক অফিসারের তদন্তে সব গোমর ফাস হয়ে যাবে এই ভয়ে নিজস্ব মানুষ দিয়ে পূনরায় আরো একটি অভিযোগ একই তারিখে দাখিল করা হয়।সেই অভিযোগের তদন্তভার দেওয়া হয় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তভার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে দেওয়ায় কতটুকু নিরেপক্ষ থাকবে প্রশ্ন করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন আচার্য বলেন,ছোটখাট বিষয়ে আসা কেউ স্বজনপ্রিতি করবেনা।

(সি/স-০২ নভেম্বর-তা/ই)